ঢাকা ১১:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নিজ কার্যালয়ে বিদায়ী ভাষণ দিলেন প্রধান উপদেষ্টা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকায় নির্বাচন প্রশংসিত: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ভালো মন্দ মিলিয়ে দায়িত্বের দেড় বছর শেষ হলো: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা টেকনাফে কোস্ট গার্ড ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে ১৫ জন উদ্ধার বরুড়ায় আলো পাঠাগার কর্তৃক ইফতার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ সিদ্ধিরগঞ্জে নির্মাণাধীন ভবনে নারীর মরদেহ, সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার মন্ত্রীদের জন্য ধানমন্ডিসহ কয়েকটি এলাকায় ৩৭টি বাসা প্রস্তুত: গণপূর্ত উপদেষ্টা শপথ অনুষ্ঠানে থাকছেন ১২শ দেশি-বিদেশি অতিথি টেকনাফে প্রাইভেটকারে ৬ হাজার ইয়াবা উদ্ধার চালক আটক বিয়ের প্রলোভনেশারীরিক সম্পর্ক ও পর্নোগ্রাফির মামলায় চার্জশিট

সিদ্ধিরগঞ্জে জমি দখলের পায়তারা ব্যর্থ হয়ে ওসি-এসআইয়ের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের ষড়যন্ত্র

‎ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে জমি দখল করতে না পেরে থানার পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ এনেছেন একাধিক মামলার পলাতক আসামি, আলোচিত ভূমিদস্যু ও রাজনৈতিক সুবিধাভোগী মোঃ জালাল উদ্দিন ওরফে ‘টায়ার জালাল’।
‎জানা যায়, গত ২৪ জুলাই পুলিশ সদর দপ্তরের এডমিন ডিআইজি, ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি এবং নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারের বরাবর ওসি মোহাম্মদ শাহিনুর আলম, এসআই ওয়াসিম আকরামসহ চারজনকে আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন জালাল উদ্দিন। অভিযোগের অন্য দুইজন হলেন—মোঃ আবু তাহের ও মোঃ আবু তৈয়ম, যিনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কৃষক দলের সাবেক আহ্বায়ক।
‎অভিযোগে দাবি করা হয়, আবু তাহের গং ৬/৭ জন লোক নিয়ে জালাল উদ্দিনের জমি দখলের চেষ্টা চালান। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রকৃতপক্ষে উক্ত জমি ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে বৈধভাবে ক্রয় করেন আবু তাহের গং। পরবর্তীতে জমির মালিকানা নিশ্চিত করতে গেলে জালাল উদ্দিন ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী প্রায় ২০-২৫ জন মিলে জমির সীমানা প্রাচীর ভেঙে দেন।
‎ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করলে, ওসি শাহিনুর আলম তদন্তের দায়িত্ব দেন এসআই ওয়াসিম আকরামকে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে একটি চাঁদাবাজির মামলা রুজু করা হয় এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
‎‎এরপর থেকেই ওসি ও এসআইকে হেয় করতে নানা ধরনের অপপ্রচার শুরু করেন জালাল উদ্দিন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ এবং শামীম ওসমানের রাজনৈতিক বলয়ের সক্রিয় সদস্য। এমনকি বিগত সময়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলারও তিনি অভিযুক্ত ছিলেন।
‎‎স্থানীয়রা জানান, জালাল উদ্দিন তার প্রভাব খাটিয়ে থানাকে ব্যবহার করতে না পেরে এখন রাজনৈতিক প্রভাব, অপবাদ ও প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
‎‎এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহিনুর আলম বলেন,
‎“আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাদক, সন্ত্রাস, দখলবাজ ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিতে কাজ করছি। যারা আইন মেনে চলতে চায় না, তারাই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।”
‎‎তিনি আরও বলেন, “আল্লাহ ছাড়া আমি কাউকে ভয় করি না। আমার বিরুদ্ধে যদি সত্যিকার অর্থে কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মেলে, আমি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছেড়ে দেবো। তবে মিথ্যা অভিযোগের ভয় দেখিয়ে আমি দায়িত্বচ্যুত হবো না। আইন নিজস্ব গতিতে চলবে, প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার হবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিজ কার্যালয়ে বিদায়ী ভাষণ দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

সিদ্ধিরগঞ্জে জমি দখলের পায়তারা ব্যর্থ হয়ে ওসি-এসআইয়ের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের ষড়যন্ত্র

আপডেট সময় : ০৮:১৫:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫

‎ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে জমি দখল করতে না পেরে থানার পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ এনেছেন একাধিক মামলার পলাতক আসামি, আলোচিত ভূমিদস্যু ও রাজনৈতিক সুবিধাভোগী মোঃ জালাল উদ্দিন ওরফে ‘টায়ার জালাল’।
‎জানা যায়, গত ২৪ জুলাই পুলিশ সদর দপ্তরের এডমিন ডিআইজি, ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি এবং নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারের বরাবর ওসি মোহাম্মদ শাহিনুর আলম, এসআই ওয়াসিম আকরামসহ চারজনকে আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন জালাল উদ্দিন। অভিযোগের অন্য দুইজন হলেন—মোঃ আবু তাহের ও মোঃ আবু তৈয়ম, যিনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কৃষক দলের সাবেক আহ্বায়ক।
‎অভিযোগে দাবি করা হয়, আবু তাহের গং ৬/৭ জন লোক নিয়ে জালাল উদ্দিনের জমি দখলের চেষ্টা চালান। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রকৃতপক্ষে উক্ত জমি ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে বৈধভাবে ক্রয় করেন আবু তাহের গং। পরবর্তীতে জমির মালিকানা নিশ্চিত করতে গেলে জালাল উদ্দিন ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী প্রায় ২০-২৫ জন মিলে জমির সীমানা প্রাচীর ভেঙে দেন।
‎ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করলে, ওসি শাহিনুর আলম তদন্তের দায়িত্ব দেন এসআই ওয়াসিম আকরামকে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে একটি চাঁদাবাজির মামলা রুজু করা হয় এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
‎‎এরপর থেকেই ওসি ও এসআইকে হেয় করতে নানা ধরনের অপপ্রচার শুরু করেন জালাল উদ্দিন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ এবং শামীম ওসমানের রাজনৈতিক বলয়ের সক্রিয় সদস্য। এমনকি বিগত সময়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলারও তিনি অভিযুক্ত ছিলেন।
‎‎স্থানীয়রা জানান, জালাল উদ্দিন তার প্রভাব খাটিয়ে থানাকে ব্যবহার করতে না পেরে এখন রাজনৈতিক প্রভাব, অপবাদ ও প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
‎‎এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহিনুর আলম বলেন,
‎“আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাদক, সন্ত্রাস, দখলবাজ ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিতে কাজ করছি। যারা আইন মেনে চলতে চায় না, তারাই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।”
‎‎তিনি আরও বলেন, “আল্লাহ ছাড়া আমি কাউকে ভয় করি না। আমার বিরুদ্ধে যদি সত্যিকার অর্থে কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মেলে, আমি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছেড়ে দেবো। তবে মিথ্যা অভিযোগের ভয় দেখিয়ে আমি দায়িত্বচ্যুত হবো না। আইন নিজস্ব গতিতে চলবে, প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার হবে।