ঢাকা ১১:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নিজ কার্যালয়ে বিদায়ী ভাষণ দিলেন প্রধান উপদেষ্টা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকায় নির্বাচন প্রশংসিত: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ভালো মন্দ মিলিয়ে দায়িত্বের দেড় বছর শেষ হলো: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা টেকনাফে কোস্ট গার্ড ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে ১৫ জন উদ্ধার বরুড়ায় আলো পাঠাগার কর্তৃক ইফতার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ সিদ্ধিরগঞ্জে নির্মাণাধীন ভবনে নারীর মরদেহ, সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার মন্ত্রীদের জন্য ধানমন্ডিসহ কয়েকটি এলাকায় ৩৭টি বাসা প্রস্তুত: গণপূর্ত উপদেষ্টা শপথ অনুষ্ঠানে থাকছেন ১২শ দেশি-বিদেশি অতিথি টেকনাফে প্রাইভেটকারে ৬ হাজার ইয়াবা উদ্ধার চালক আটক বিয়ের প্রলোভনেশারীরিক সম্পর্ক ও পর্নোগ্রাফির মামলায় চার্জশিট

উখিয়া-টেকনাফে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন ড. হাবিবুর রহমান

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৬:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
  • ৮১ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজার প্রতিনিধি: জাতীয় সংসদের আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষক, সাবেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক এবং সমাজসেবক ড. হাবিবুর রহমান।

তিনি উখিয়া-টেকনাফের সীমান্ত ঘেঁষা এলাকার, সাবরাং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের শাহপরীর দ্বীপ বাজারপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম হাজী নবী হোসেন হাজী একজন স্বনামধন্য দানবীর ছিলেন, যিনি ওই এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন সবসময়। পরিবারের সেই সামাজিক দায়বদ্ধতার উত্তরাধিকার বহন করে ড. হাবিবুর রহমান নিজেও দেশ-বিদেশে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে জনসেবায় কাজে লাগানোর প্রত্যয়ে রাজনীতির ময়দানে অবতীর্ণ হচ্ছেন।

ড. হাবিবুর রহমান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের একজন সাবেক সহকারী অধ্যাপক। এরপর দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করে আসছেন। বর্তমানে তিনি কাতারের আমিরের দিওয়ানে আন্তর্জাতিক ইতিহাস ও গবেষণা বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত। পাশাপাশি তিনি New Horizon CLC Bangladesh নামক একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন, যা শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে এই অঞ্চলের উন্নয়নে এক নতুন সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ড. হাবিবুর রহমান বলেন, “আমি শাসক নয়, জনগণের সেবক হতে চাই। আমার নির্বাচনে আসার মূল কারণ হচ্ছে—উখিয়া-টেকনাফের মানুষকে সত্যিকারের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা দেওয়া। তারা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত, ভুল রাজনীতির বলি এবং নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। এই চিত্র পাল্টানোর সময় এখনই।”

ড. হাবিবুর রহমান জানান, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও তার পেছনে কোনো বিশেষ মহলের স্বার্থ বা এজেন্ডা নেই। তাঁর একমাত্র লক্ষ্য—এই অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। তিনি যে কয়টি খাতকে প্রাধান্য দিচ্ছেন তা হলো:

উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় কোনো উল্লেখযোগ্য শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠেনি। ড. হাবিবুর রহমান জানান, তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে পরিবেশবান্ধব, টেকসই শিল্প গড়ে তোলা এবং স্থানীয়দের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

তিনি বলেন,“তরুণরা আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে হবে। কারিগরি প্রশিক্ষণ, আইটি সেন্টার এবং প্রযুক্তি-ভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করাই আমার অগ্রাধিকার।”

তিনি গ্রামীণ অঞ্চলে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার অভাব তুলে ধরে বলেন, “আধুনিক হাসপাতাল, ক্লিনিক ও সুলভ চিকিৎসার ব্যবস্থা করব যাতে সাধারণ মানুষ আর কষ্ট না পায়। এছাড়া উখিয়া-টেকনাফ দীর্ঘদিন ধরে মাদক চোরাচালান, মানবপাচার ও অপহরণের গর্ভাধারায় পরিণত হয়েছে। ড. হাবিব এই সমস্যাগুলোর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ড. হাবিবুর রহমান বলেন,“উখিয়া-টেকনাফে নানা ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করে। এখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হলে জননেতার উচিত সবার কথা শোনা এবং সবার সঙ্গে সমান আচরণ করা। আমি সেটাই করব।”

ড. হাবিবুর রহমান সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন,“আপনারাই আমার শক্তি। আমি কোনো দলের প্রতিনিধিত্ব করি না, করি জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে। এই এলাকার সন্তান হিসেবে আমি দায়বদ্ধ আপনাদের কাছে। আমাকে সহযোগিতা করুন, আপনাদের সঙ্গে নিয়েই আমরা গড়ব এক নতুন উখিয়া-টেকনাফ।”

জানা যায়, জনগণ দীর্ঘদিন ধরে তাদের দাবি জানিয়ে আসছিলেন সংসদ সদস্য হিসেবে ড. হাবিবুর রহমানকে চান । এর প্রেক্ষিতে জনগণের দাবি মেনে নিয়ে সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হচ্ছেন ড. হাবিবুর রহমান।

এদিকে সর্বস্তরের জনগণের মাঝে রব উঠেছে ড. হাবিবুর রহমানকে ভোট দিয়ে জয় যুক্ত করার। এছাড়াও জোরেশোরে নিজেরাই প্রচার প্রচারণা করছেন উক্ত আসনের ভোটাররা।

পরিশেষে বলা যায়, ড. হাবিবুর রহমানের মতো শিক্ষিত, অভিজ্ঞ ও সমাজসচেতন একজন প্রার্থীর নির্বাচনে অংশগ্রহণ এই আসনের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এখন দেখার বিষয়—এই নিরপেক্ষ স্বতন্ত্র প্রার্থী কতটা জনসমর্থন নিয়ে ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তার করতে পারেন।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিজ কার্যালয়ে বিদায়ী ভাষণ দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

উখিয়া-টেকনাফে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন ড. হাবিবুর রহমান

আপডেট সময় : ১১:১৬:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

কক্সবাজার প্রতিনিধি: জাতীয় সংসদের আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষক, সাবেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক এবং সমাজসেবক ড. হাবিবুর রহমান।

তিনি উখিয়া-টেকনাফের সীমান্ত ঘেঁষা এলাকার, সাবরাং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের শাহপরীর দ্বীপ বাজারপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম হাজী নবী হোসেন হাজী একজন স্বনামধন্য দানবীর ছিলেন, যিনি ওই এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন সবসময়। পরিবারের সেই সামাজিক দায়বদ্ধতার উত্তরাধিকার বহন করে ড. হাবিবুর রহমান নিজেও দেশ-বিদেশে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে জনসেবায় কাজে লাগানোর প্রত্যয়ে রাজনীতির ময়দানে অবতীর্ণ হচ্ছেন।

ড. হাবিবুর রহমান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের একজন সাবেক সহকারী অধ্যাপক। এরপর দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করে আসছেন। বর্তমানে তিনি কাতারের আমিরের দিওয়ানে আন্তর্জাতিক ইতিহাস ও গবেষণা বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত। পাশাপাশি তিনি New Horizon CLC Bangladesh নামক একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন, যা শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে এই অঞ্চলের উন্নয়নে এক নতুন সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ড. হাবিবুর রহমান বলেন, “আমি শাসক নয়, জনগণের সেবক হতে চাই। আমার নির্বাচনে আসার মূল কারণ হচ্ছে—উখিয়া-টেকনাফের মানুষকে সত্যিকারের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা দেওয়া। তারা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত, ভুল রাজনীতির বলি এবং নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। এই চিত্র পাল্টানোর সময় এখনই।”

ড. হাবিবুর রহমান জানান, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও তার পেছনে কোনো বিশেষ মহলের স্বার্থ বা এজেন্ডা নেই। তাঁর একমাত্র লক্ষ্য—এই অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। তিনি যে কয়টি খাতকে প্রাধান্য দিচ্ছেন তা হলো:

উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় কোনো উল্লেখযোগ্য শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠেনি। ড. হাবিবুর রহমান জানান, তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে পরিবেশবান্ধব, টেকসই শিল্প গড়ে তোলা এবং স্থানীয়দের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

তিনি বলেন,“তরুণরা আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে হবে। কারিগরি প্রশিক্ষণ, আইটি সেন্টার এবং প্রযুক্তি-ভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করাই আমার অগ্রাধিকার।”

তিনি গ্রামীণ অঞ্চলে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার অভাব তুলে ধরে বলেন, “আধুনিক হাসপাতাল, ক্লিনিক ও সুলভ চিকিৎসার ব্যবস্থা করব যাতে সাধারণ মানুষ আর কষ্ট না পায়। এছাড়া উখিয়া-টেকনাফ দীর্ঘদিন ধরে মাদক চোরাচালান, মানবপাচার ও অপহরণের গর্ভাধারায় পরিণত হয়েছে। ড. হাবিব এই সমস্যাগুলোর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ড. হাবিবুর রহমান বলেন,“উখিয়া-টেকনাফে নানা ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করে। এখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হলে জননেতার উচিত সবার কথা শোনা এবং সবার সঙ্গে সমান আচরণ করা। আমি সেটাই করব।”

ড. হাবিবুর রহমান সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন,“আপনারাই আমার শক্তি। আমি কোনো দলের প্রতিনিধিত্ব করি না, করি জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে। এই এলাকার সন্তান হিসেবে আমি দায়বদ্ধ আপনাদের কাছে। আমাকে সহযোগিতা করুন, আপনাদের সঙ্গে নিয়েই আমরা গড়ব এক নতুন উখিয়া-টেকনাফ।”

জানা যায়, জনগণ দীর্ঘদিন ধরে তাদের দাবি জানিয়ে আসছিলেন সংসদ সদস্য হিসেবে ড. হাবিবুর রহমানকে চান । এর প্রেক্ষিতে জনগণের দাবি মেনে নিয়ে সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হচ্ছেন ড. হাবিবুর রহমান।

এদিকে সর্বস্তরের জনগণের মাঝে রব উঠেছে ড. হাবিবুর রহমানকে ভোট দিয়ে জয় যুক্ত করার। এছাড়াও জোরেশোরে নিজেরাই প্রচার প্রচারণা করছেন উক্ত আসনের ভোটাররা।

পরিশেষে বলা যায়, ড. হাবিবুর রহমানের মতো শিক্ষিত, অভিজ্ঞ ও সমাজসচেতন একজন প্রার্থীর নির্বাচনে অংশগ্রহণ এই আসনের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এখন দেখার বিষয়—এই নিরপেক্ষ স্বতন্ত্র প্রার্থী কতটা জনসমর্থন নিয়ে ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তার করতে পারেন।