ঢাকা ০২:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পেটভর্তি ইয়াবাসহ শার্শার মাসুদ রানা আটক রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণে কেরানীহাটে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ১০ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা প্রতিমন্ত্রী অমিতকে ঘিরে উৎসবের নগরী যশোর হ্নীলা–হোয়াইক্যং সীমান্তে দুই অভিযানে ৯ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার নারায়ণগঞ্জে শীতার্ত মানুষের মুখে হাসি ফুটাল বিশ্ব আশেকে হযরত ওয়ায়েছ করনী (রাঃ) ফাউন্ডেশন শীতবস্ত্র উপহার কম্বল অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণে বিশ্ব আশেকে হযরত ওয়ায়েছ করনী (রাঃ) ফাউন্ডেশন নারায়ণগঞ্জে বুবলী যুব কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে পথ শিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ ধোনির বায়োপিক বদলে দিয়েছে উসমান তারিকের জীবন! শ্রীলঙ্কায় সংসদ সদস্যদের পেনশন সুবিধা বাতিল আমতলীতে স্বপ্ন ছোঁয়া স্বেচ্ছাসেবী যুব সাংগঠনের পক্ষ থেকে গরিব ও দুঃস্থদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ

টেকনাফ মুক্তিপণ ও পাচারের শিকার ২২ জন ভিকটিম উদ্ধার

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৮৫ বার পড়া হয়েছে

ফরহাদ রহমান: কক্সবাজারের টেকনাফ থানাধীন সদর ইউনিয়নের হাতিয়ারঘোনা এলাকার করাচিপাড়ার গহীন পাহাড়ে রুদ্ধশ্বাস চিরুনি অভিযান চালিয়ে মুক্তিপণ আদায় ও মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে অপহৃত ২২ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১৫)।

সোমবার (২৭ অক্টোবর ২০২৫) রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৫ এর সিপিসি-১ (টেকনাফ ক্যাম্প) এর একটি চৌকস আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। প্রায় তিন ঘণ্টার টানা অভিযানে মানবপাচারকারীদের কবল থেকে ১ জন বাংলাদেশি নাগরিক ও ২১ জন রোহিঙ্গাসহ মোট ২২ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ, ৪ জন নারী ও ৭ জন শিশু রয়েছে।

অভিযানের সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারী চক্রের সদস্যরা কৌশলে পালিয়ে যায়। তবে ভিকটিমদের বর্ণনা, গোয়েন্দা তথ্য ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির আলোকে পাচারকারীদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।

পাচারকারী চক্রের সদস্যরা হলো—
মোঃ খলিল (৪৫), রাশেদুল ইসলাম (২০), জাহানারা (৪১), আব্দুল্লাহ মেম্বার (৩৫), আব্দুল (২৬), আব্দুর রশিদ (২৮), শহিদুল্লাহ (২২), ওসমান গণি (২৬) ও ইয়াকুব (৩৫)। সবাই টেকনাফ সদর ইউনিয়নের হাতিয়ারঘোনা করাচিপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

উদ্ধারকৃত ভিকটিম মোবারক (১৭) জানান, গত ১৩ অক্টোবর বিকেলে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করে হাতিয়ারঘোনার পাহাড়ি এলাকায় আটকে রাখা হয়। অপহরণকারীরা তার পরিবারের নিকট ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ না পেয়ে তাকে এবং অন্যদের নির্যাতন করা হয়—সিগারেটের আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং প্লার্স দিয়ে নখ তুলে নেওয়া হয়।

র‌্যাব-১৫ জানিয়েছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় যুবকদের প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বিদেশে পাচারের চেষ্টা করে আসছিল।

ঘটনার পর টেকনাফ মডেল থানায় পেনাল কোডের ৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩৬৪(ক)/৩৪ ধারা এবং মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৭/৮/১০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

র‌্যাব-১৫ সূত্রে জানা যায়, মানবপাচার চক্রের মূল হোতাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

পেটভর্তি ইয়াবাসহ শার্শার মাসুদ রানা আটক

টেকনাফ মুক্তিপণ ও পাচারের শিকার ২২ জন ভিকটিম উদ্ধার

আপডেট সময় : ১১:১৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

ফরহাদ রহমান: কক্সবাজারের টেকনাফ থানাধীন সদর ইউনিয়নের হাতিয়ারঘোনা এলাকার করাচিপাড়ার গহীন পাহাড়ে রুদ্ধশ্বাস চিরুনি অভিযান চালিয়ে মুক্তিপণ আদায় ও মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে অপহৃত ২২ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১৫)।

সোমবার (২৭ অক্টোবর ২০২৫) রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৫ এর সিপিসি-১ (টেকনাফ ক্যাম্প) এর একটি চৌকস আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। প্রায় তিন ঘণ্টার টানা অভিযানে মানবপাচারকারীদের কবল থেকে ১ জন বাংলাদেশি নাগরিক ও ২১ জন রোহিঙ্গাসহ মোট ২২ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ, ৪ জন নারী ও ৭ জন শিশু রয়েছে।

অভিযানের সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারী চক্রের সদস্যরা কৌশলে পালিয়ে যায়। তবে ভিকটিমদের বর্ণনা, গোয়েন্দা তথ্য ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির আলোকে পাচারকারীদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।

পাচারকারী চক্রের সদস্যরা হলো—
মোঃ খলিল (৪৫), রাশেদুল ইসলাম (২০), জাহানারা (৪১), আব্দুল্লাহ মেম্বার (৩৫), আব্দুল (২৬), আব্দুর রশিদ (২৮), শহিদুল্লাহ (২২), ওসমান গণি (২৬) ও ইয়াকুব (৩৫)। সবাই টেকনাফ সদর ইউনিয়নের হাতিয়ারঘোনা করাচিপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

উদ্ধারকৃত ভিকটিম মোবারক (১৭) জানান, গত ১৩ অক্টোবর বিকেলে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করে হাতিয়ারঘোনার পাহাড়ি এলাকায় আটকে রাখা হয়। অপহরণকারীরা তার পরিবারের নিকট ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ না পেয়ে তাকে এবং অন্যদের নির্যাতন করা হয়—সিগারেটের আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং প্লার্স দিয়ে নখ তুলে নেওয়া হয়।

র‌্যাব-১৫ জানিয়েছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় যুবকদের প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বিদেশে পাচারের চেষ্টা করে আসছিল।

ঘটনার পর টেকনাফ মডেল থানায় পেনাল কোডের ৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩৬৪(ক)/৩৪ ধারা এবং মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৭/৮/১০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

র‌্যাব-১৫ সূত্রে জানা যায়, মানবপাচার চক্রের মূল হোতাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।