ঢাকা ০৮:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাতের আঁধারে শিকল কেটে মহিন শেখের ভ্যানগাড়ি চুরি যশোরে শার্শা ও বেনাপোলে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি সম্পন্ন: ৩২ মণ্ডপে বইছে আনন্দের জোয়ার যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়িয়েছি, বাড়তি সহায়তা পাওয়া উচিত: অর্থমন্ত্রী সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনাপোল স্থলবন্দরের উন্নয়নে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ ও জনমত যাচাই সভা উখিয়ায় ২ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, পিস্তল-গুলি ও ডুবন্ত নৌকা জব্দ; আটক ৩ ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সুবিধা সম্প্রসারণে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা চেয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী চীন-রাশিয়া ইরানকে সহায়তা করছে বলে বিশ্বাস করেন না ট্রাম্প ২০৩০ বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব পেল নেটফ্লিক্স দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও বাস্তবভিত্তিক যথাযথ নগর পরিকল্পনার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

টেকনাফ মুক্তিপণ ও পাচারের শিকার ২২ জন ভিকটিম উদ্ধার

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩২৪ বার পড়া হয়েছে

ফরহাদ রহমান: কক্সবাজারের টেকনাফ থানাধীন সদর ইউনিয়নের হাতিয়ারঘোনা এলাকার করাচিপাড়ার গহীন পাহাড়ে রুদ্ধশ্বাস চিরুনি অভিযান চালিয়ে মুক্তিপণ আদায় ও মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে অপহৃত ২২ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১৫)।

সোমবার (২৭ অক্টোবর ২০২৫) রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৫ এর সিপিসি-১ (টেকনাফ ক্যাম্প) এর একটি চৌকস আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। প্রায় তিন ঘণ্টার টানা অভিযানে মানবপাচারকারীদের কবল থেকে ১ জন বাংলাদেশি নাগরিক ও ২১ জন রোহিঙ্গাসহ মোট ২২ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ, ৪ জন নারী ও ৭ জন শিশু রয়েছে।

অভিযানের সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারী চক্রের সদস্যরা কৌশলে পালিয়ে যায়। তবে ভিকটিমদের বর্ণনা, গোয়েন্দা তথ্য ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির আলোকে পাচারকারীদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।

পাচারকারী চক্রের সদস্যরা হলো—
মোঃ খলিল (৪৫), রাশেদুল ইসলাম (২০), জাহানারা (৪১), আব্দুল্লাহ মেম্বার (৩৫), আব্দুল (২৬), আব্দুর রশিদ (২৮), শহিদুল্লাহ (২২), ওসমান গণি (২৬) ও ইয়াকুব (৩৫)। সবাই টেকনাফ সদর ইউনিয়নের হাতিয়ারঘোনা করাচিপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

উদ্ধারকৃত ভিকটিম মোবারক (১৭) জানান, গত ১৩ অক্টোবর বিকেলে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করে হাতিয়ারঘোনার পাহাড়ি এলাকায় আটকে রাখা হয়। অপহরণকারীরা তার পরিবারের নিকট ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ না পেয়ে তাকে এবং অন্যদের নির্যাতন করা হয়—সিগারেটের আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং প্লার্স দিয়ে নখ তুলে নেওয়া হয়।

র‌্যাব-১৫ জানিয়েছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় যুবকদের প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বিদেশে পাচারের চেষ্টা করে আসছিল।

ঘটনার পর টেকনাফ মডেল থানায় পেনাল কোডের ৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩৬৪(ক)/৩৪ ধারা এবং মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৭/৮/১০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

র‌্যাব-১৫ সূত্রে জানা যায়, মানবপাচার চক্রের মূল হোতাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাতের আঁধারে শিকল কেটে মহিন শেখের ভ্যানগাড়ি চুরি

টেকনাফ মুক্তিপণ ও পাচারের শিকার ২২ জন ভিকটিম উদ্ধার

আপডেট সময় : ১১:১৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

ফরহাদ রহমান: কক্সবাজারের টেকনাফ থানাধীন সদর ইউনিয়নের হাতিয়ারঘোনা এলাকার করাচিপাড়ার গহীন পাহাড়ে রুদ্ধশ্বাস চিরুনি অভিযান চালিয়ে মুক্তিপণ আদায় ও মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে অপহৃত ২২ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১৫)।

সোমবার (২৭ অক্টোবর ২০২৫) রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৫ এর সিপিসি-১ (টেকনাফ ক্যাম্প) এর একটি চৌকস আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। প্রায় তিন ঘণ্টার টানা অভিযানে মানবপাচারকারীদের কবল থেকে ১ জন বাংলাদেশি নাগরিক ও ২১ জন রোহিঙ্গাসহ মোট ২২ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ, ৪ জন নারী ও ৭ জন শিশু রয়েছে।

অভিযানের সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারী চক্রের সদস্যরা কৌশলে পালিয়ে যায়। তবে ভিকটিমদের বর্ণনা, গোয়েন্দা তথ্য ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির আলোকে পাচারকারীদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।

পাচারকারী চক্রের সদস্যরা হলো—
মোঃ খলিল (৪৫), রাশেদুল ইসলাম (২০), জাহানারা (৪১), আব্দুল্লাহ মেম্বার (৩৫), আব্দুল (২৬), আব্দুর রশিদ (২৮), শহিদুল্লাহ (২২), ওসমান গণি (২৬) ও ইয়াকুব (৩৫)। সবাই টেকনাফ সদর ইউনিয়নের হাতিয়ারঘোনা করাচিপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

উদ্ধারকৃত ভিকটিম মোবারক (১৭) জানান, গত ১৩ অক্টোবর বিকেলে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করে হাতিয়ারঘোনার পাহাড়ি এলাকায় আটকে রাখা হয়। অপহরণকারীরা তার পরিবারের নিকট ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ না পেয়ে তাকে এবং অন্যদের নির্যাতন করা হয়—সিগারেটের আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং প্লার্স দিয়ে নখ তুলে নেওয়া হয়।

র‌্যাব-১৫ জানিয়েছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় যুবকদের প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বিদেশে পাচারের চেষ্টা করে আসছিল।

ঘটনার পর টেকনাফ মডেল থানায় পেনাল কোডের ৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩৬৪(ক)/৩৪ ধারা এবং মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৭/৮/১০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

র‌্যাব-১৫ সূত্রে জানা যায়, মানবপাচার চক্রের মূল হোতাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।