ঢাকা ০৫:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রেসক্লাব যশোর নির্বাচনে জেইউজে মনোনীত প্রার্থীদের ভোট দেয়ার আহ্বান বালিয়াকান্দি প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন সভাপতি আতিক-সাধারণ সম্পাদক লিটন কুমিল্লার বরুড়ায় কৃতি শিক্ষার্থী ও গুণিজনদের সংবর্ধনা দিলেন উপজেলা প্রশাসন ও ওরাই আপনজন রোমে ইসরাইল-লেবানন বৈঠক অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত আমরা দেশকে পুনর্গঠন করতে চাইলে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী কুমিল্লার বরুড়ায় কৃতি শিক্ষার্থী ও গুণিজনদের সংবর্ধনা দিলেন উপজেলা প্রশাসন ও ওরাই আপনজন পূর্ব নাউরী মধ্যপাড়া গাউসুল আজম জামে মসজিদের ছাদ ঢালাই উদ্বোধন মতলব উত্তরে দক্ষিণ বোরচর মিনি খাশি কাপ ফুটবলের ফাইনাল অনুষ্ঠিত ওটারচর ইমাম হোসাইন (রা.) হাফিজিয়া মাদ্রাসায় নাজেরা-আমপারা ছবক প্রদান বাবা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে, দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন প্রবাসী ছেলে আইয়ুব আলী গাজী

শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম ও ভীতির সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয় : স্পিকার

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৪:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫৩ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিগত শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও নিপীড়নের মাধ্যমে দেশে ভীতির সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষদের নিপীড়ন, নির্যাতন, গুম ও হত্যার মাধ্যমে দেশের মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বাংলাদেশের মানুষ আর কখনো এমন ভয়াবহ গুম ও নিপীড়নের সংস্কৃতির মুখোমুখি হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শেখ হাসিনার শাসনামলের অমানবিকতার বর্ণনা দিয়ে তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বাংলাদেশের মানুষ আর কখনো এ ধরনের বিভীষিকাময় গুম ও নিপীড়নের শিকার হয়নি।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিকভাবে নিপীড়িত বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্যদের সাথে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে স্পিকার এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপি এবং চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি উপস্থিত ছিলেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের টানা ১৫ বছরের শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের কণ্ঠরোধ করতে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ‘আয়নাঘর’-এর মতো গোপন বন্দিশালা এবং ডিজিটাল ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের মতো কালো আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে এক ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের আবহ তৈরি করা হয়।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তার ভাই সাজেদুল ইসলাম সুমনের দীর্ঘ গুমের মর্মস্পর্শী বিবরণ তুলে ধরেন। এ সময় ‘নিপীড়ন থেকে বিপ্লব : রাষ্ট্রের পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘন উন্মোচন’ শীর্ষক ডকুমেন্টেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর বিগত শাসনব্যবস্থার দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক গুম ও দমন-পীড়নের চিত্র নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়।

সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান ‘আয়নাঘরে’ বন্দিজীবনের নির্মম গুম ও নিপীড়নের অধ্যায় তুলে ধরেন।

সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী তাকে দীর্ঘ ৭ মাস সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার গোপন বন্দিশালায় আটকে রেখে চরম অমানবিক ও পদ্ধতিগত নির্যাতন চালানোর ভয়াবহ বর্ণনা দেন।

সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা উল্লেখ করেন, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল আমার স্বামী ইলিয়াস আলীকে গুম করার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের কাছে ‘গুম’ শব্দটি নতুন করে পরিচিতি পায়। তৎকালীন সরকার ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতেই ইলিয়াস আলীকে গুম করেছিল। এ সময় তিনি বিচারবহির্ভূত এসব গুম ও হত্যাকাণ্ডের বিচারের সুদৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত সংসদ সদস্যগণ নিজ নিজ বক্তব্যে তৎকালীন সরকারের মাফিয়াতন্ত্র ও ভয়ের সংস্কৃতির তিক্ত অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।

আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ বলেন, বাংলাদেশে সংঘটিত এসব হত্যাকাণ্ড, গুম ও বিরোধী মতাদর্শের অনুসারীদের ওপর নিপীড়ন অত্যন্ত অমানবিক ও জঘন্য। তিনি উল্লেখ করেন, তার জন্মভূমি রোমানিয়ায় নিকোলাই চসেস্কুর নির্মম দমননীতির সঙ্গে বাংলাদেশের তৎকালীন সরকারপ্রধানের শাসনামলের চরম মিল পরিলক্ষিত হয়।

এ সময় তিনি জানান, সফর শেষে আইপিইউ-এর গভর্নিং বডির নিকট বাংলাদেশে সংঘটিত বিগত শাসনামলের গুম, হত্যাকাণ্ড ও নিপীড়নের একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, জহরত আদিব চৌধুরী, মোছা. তাহসিনা রুশদীর, হুমাম কাদের চৌধুরী, মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আনিসুর রহমান, সানজিদা ইসলাম, মাধবী মারমা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ অংশ নেন।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেসক্লাব যশোর নির্বাচনে জেইউজে মনোনীত প্রার্থীদের ভোট দেয়ার আহ্বান

শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম ও ভীতির সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয় : স্পিকার

আপডেট সময় : ০৯:৩৪:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিগত শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও নিপীড়নের মাধ্যমে দেশে ভীতির সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষদের নিপীড়ন, নির্যাতন, গুম ও হত্যার মাধ্যমে দেশের মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বাংলাদেশের মানুষ আর কখনো এমন ভয়াবহ গুম ও নিপীড়নের সংস্কৃতির মুখোমুখি হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শেখ হাসিনার শাসনামলের অমানবিকতার বর্ণনা দিয়ে তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বাংলাদেশের মানুষ আর কখনো এ ধরনের বিভীষিকাময় গুম ও নিপীড়নের শিকার হয়নি।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিকভাবে নিপীড়িত বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্যদের সাথে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে স্পিকার এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপি এবং চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি উপস্থিত ছিলেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের টানা ১৫ বছরের শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের কণ্ঠরোধ করতে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ‘আয়নাঘর’-এর মতো গোপন বন্দিশালা এবং ডিজিটাল ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের মতো কালো আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে এক ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের আবহ তৈরি করা হয়।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তার ভাই সাজেদুল ইসলাম সুমনের দীর্ঘ গুমের মর্মস্পর্শী বিবরণ তুলে ধরেন। এ সময় ‘নিপীড়ন থেকে বিপ্লব : রাষ্ট্রের পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘন উন্মোচন’ শীর্ষক ডকুমেন্টেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর বিগত শাসনব্যবস্থার দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক গুম ও দমন-পীড়নের চিত্র নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়।

সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান ‘আয়নাঘরে’ বন্দিজীবনের নির্মম গুম ও নিপীড়নের অধ্যায় তুলে ধরেন।

সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী তাকে দীর্ঘ ৭ মাস সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার গোপন বন্দিশালায় আটকে রেখে চরম অমানবিক ও পদ্ধতিগত নির্যাতন চালানোর ভয়াবহ বর্ণনা দেন।

সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা উল্লেখ করেন, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল আমার স্বামী ইলিয়াস আলীকে গুম করার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের কাছে ‘গুম’ শব্দটি নতুন করে পরিচিতি পায়। তৎকালীন সরকার ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতেই ইলিয়াস আলীকে গুম করেছিল। এ সময় তিনি বিচারবহির্ভূত এসব গুম ও হত্যাকাণ্ডের বিচারের সুদৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত সংসদ সদস্যগণ নিজ নিজ বক্তব্যে তৎকালীন সরকারের মাফিয়াতন্ত্র ও ভয়ের সংস্কৃতির তিক্ত অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।

আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ বলেন, বাংলাদেশে সংঘটিত এসব হত্যাকাণ্ড, গুম ও বিরোধী মতাদর্শের অনুসারীদের ওপর নিপীড়ন অত্যন্ত অমানবিক ও জঘন্য। তিনি উল্লেখ করেন, তার জন্মভূমি রোমানিয়ায় নিকোলাই চসেস্কুর নির্মম দমননীতির সঙ্গে বাংলাদেশের তৎকালীন সরকারপ্রধানের শাসনামলের চরম মিল পরিলক্ষিত হয়।

এ সময় তিনি জানান, সফর শেষে আইপিইউ-এর গভর্নিং বডির নিকট বাংলাদেশে সংঘটিত বিগত শাসনামলের গুম, হত্যাকাণ্ড ও নিপীড়নের একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, জহরত আদিব চৌধুরী, মোছা. তাহসিনা রুশদীর, হুমাম কাদের চৌধুরী, মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আনিসুর রহমান, সানজিদা ইসলাম, মাধবী মারমা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ অংশ নেন।