ঢাকা ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাণিজ্যিক রাজধানীর পথে চট্টগ্রাম: বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে জোর দিলেন অর্থমন্ত্রী পটিয়া সাতগাছিয়া দরবার শরীফ বড় মিয়া মঞ্জিলের পক্ষ থেকে মাসব্যাপী ইফতার বিতরণ শুরু বরুড়ায় গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন এম,পি কে গণ সংবর্ধনা শীলখালী চেকপোস্টে ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ প্রাইভেটকার চালক আটক টেকনাফে কোস্ট গার্ডের সাঁড়াশি অভিযান ৫ পাচারকারী আটক, নারী-শিশুসহ ৫৫ জন উদ্ধার কুমিল্লায় তিন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত নিজ জন্মভূমিতে প্রতিমন্ত্রী অমিতের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন, উৎসবের আমেজ মাতৃভাষা দিবসে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি বন্ধ সিদ্ধিরগঞ্জে ভুয়া র‌্যাব-ডিবি পরিচয়ে চাঁদাবাজি, বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার ১ যশোরের শার্শার গাতিপাড়ায় পল্লী চিকিৎসক আল-আমিন খুন

বাণিজ্যিক রাজধানীর পথে চট্টগ্রাম: বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে জোর দিলেন অর্থমন্ত্রী

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৫:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫১ বার পড়া হয়েছে

মোরশেদুল আলম : চট্টগ্রামকে দেশের প্রকৃত বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার কাজ এখনই শুরু করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাঁর ভাষায়, সম্ভাবনা অনেক আগেই তৈরি হয়েছে, এখন প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ, বাড়তি বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের বাস্তব ফলাফল।

শুক্রবার সকালে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করা জরুরি। কেবল ঘোষণায় নয়, কার্যকর বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, কর্মসংস্থান সংকট এখন দেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। তাই বিনিয়োগ বাড়ানোই হবে প্রধান অগ্রাধিকার। তাঁর মতে, বিনিয়োগ এলে শিল্পায়ন বাড়বে, শিল্পায়ন বাড়লে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, আর সেই ধারাবাহিকতাই চট্টগ্রামকে অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে যাবে।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই ছিল তাঁর প্রথম চট্টগ্রাম সফর। সফরসূচির অংশ হিসেবে তিনি পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন এবং স্থানীয় একটি মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। পরে নগরের মেহেদিবাগে নিজ বাসভবনে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

বিকেলে তিনি চট্টগ্রাম বন্দর-এর কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে বন্দরসেবাদানকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সেখানে বন্দর ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, লজিস্টিকস সুবিধা সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

সফর শেষে তিনি বলেন, দেশ আবার গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরেছে এবং একটি নির্বাচিত সংসদ ও সরকার কাজ শুরু করেছে। এখন সময় সমন্বিত উদ্যোগের। জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে চট্টগ্রামের উন্নয়নকে আলাদা করে দেখা যাবে না; বরং এটিকে সার্বিক উন্নয়ন কৌশলের অংশ হিসেবেই এগিয়ে নিতে হবে।

চট্টগ্রাম দীর্ঘদিন ধরেই দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরনির্ভর অর্থনৈতিক কেন্দ্র। তবে অবকাঠামো উন্নয়ন, নীতি-সমন্বয় এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ জোরদার না হলে সম্ভাবনা পূর্ণতা পায় না। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন মিলেছে। এখন দেখার বিষয়, ঘোষিত অঙ্গীকার কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপে রূপ নেয় এবং চট্টগ্রাম সত্যিকার অর্থেই বাণিজ্যিক রাজধানীর মর্যাদা পায় কি না।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাণিজ্যিক রাজধানীর পথে চট্টগ্রাম: বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে জোর দিলেন অর্থমন্ত্রী

বাণিজ্যিক রাজধানীর পথে চট্টগ্রাম: বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে জোর দিলেন অর্থমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১১:০৫:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মোরশেদুল আলম : চট্টগ্রামকে দেশের প্রকৃত বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার কাজ এখনই শুরু করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাঁর ভাষায়, সম্ভাবনা অনেক আগেই তৈরি হয়েছে, এখন প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ, বাড়তি বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের বাস্তব ফলাফল।

শুক্রবার সকালে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করা জরুরি। কেবল ঘোষণায় নয়, কার্যকর বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, কর্মসংস্থান সংকট এখন দেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। তাই বিনিয়োগ বাড়ানোই হবে প্রধান অগ্রাধিকার। তাঁর মতে, বিনিয়োগ এলে শিল্পায়ন বাড়বে, শিল্পায়ন বাড়লে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, আর সেই ধারাবাহিকতাই চট্টগ্রামকে অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে যাবে।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই ছিল তাঁর প্রথম চট্টগ্রাম সফর। সফরসূচির অংশ হিসেবে তিনি পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন এবং স্থানীয় একটি মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। পরে নগরের মেহেদিবাগে নিজ বাসভবনে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

বিকেলে তিনি চট্টগ্রাম বন্দর-এর কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে বন্দরসেবাদানকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সেখানে বন্দর ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, লজিস্টিকস সুবিধা সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

সফর শেষে তিনি বলেন, দেশ আবার গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরেছে এবং একটি নির্বাচিত সংসদ ও সরকার কাজ শুরু করেছে। এখন সময় সমন্বিত উদ্যোগের। জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে চট্টগ্রামের উন্নয়নকে আলাদা করে দেখা যাবে না; বরং এটিকে সার্বিক উন্নয়ন কৌশলের অংশ হিসেবেই এগিয়ে নিতে হবে।

চট্টগ্রাম দীর্ঘদিন ধরেই দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরনির্ভর অর্থনৈতিক কেন্দ্র। তবে অবকাঠামো উন্নয়ন, নীতি-সমন্বয় এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ জোরদার না হলে সম্ভাবনা পূর্ণতা পায় না। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন মিলেছে। এখন দেখার বিষয়, ঘোষিত অঙ্গীকার কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপে রূপ নেয় এবং চট্টগ্রাম সত্যিকার অর্থেই বাণিজ্যিক রাজধানীর মর্যাদা পায় কি না।