ঢাকা ১২:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামুতে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন ফুটপাত দখলবাজি উচ্ছেদে জেলা প্রশাসনের তৎপরতা, হাইওয়েতে সাময়িক উত্তেজনা নারায়ণগঞ্জের মন্ডলপাড়া সেই জ্বীনের মসজিদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির নারায়ণগঞ্জে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ইস্টার সানডে ধর্মীয় মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপন জেলা প্রশাসন কর্তৃক বরাদ্দকৃত চাল বিতরণ করলেন আঁধারে আলো প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থা নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ লাইন্স এ ক্যান্সার সচেতনতা বিষয়ক স্বাস্থ্য শিক্ষা সেশন অনুষ্ঠিত বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রাবাব ফাতিমার বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন ও সালেহ শিবলী ঋণ ব্যবস্থাপনা ও করের আওতা বাড়ানোর ওপর জোর বাণিজ্যমন্ত্রীর স্পিন বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ পেলেন রফিক

কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামুতে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৯:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

ফরহাদ রহমান,স্টাফ রিপোর্টার কক্সবাজার: হাম-রুবেলা রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু উপজেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাহউদ্দিন আহমদ।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, বিগত সময়ের কার্যক্রমে ঘাটতির কারণে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় প্রচারণা ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালিত হয়নি। ফলে বর্তমানে রোগটির প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হাম-রুবেলা প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে এ রোগের বিস্তার সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। প্রথম ধাপে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে।

সরকার ২০২৬ সালের মধ্যে হাম রোগ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা এবং হামজনিত শিশুমৃত্যু শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মহেশখালী ও রামু উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার শিশুকে হাম-রুবেলা টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে জেলায় হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৫ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে। বর্তমানে জেলা সদর হাসপাতালে ৪২ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। একই সময়ে রামু উপজেলার এক শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।

এ পর্যন্ত জেলায় হাম উপসর্গে মোট ৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রামুতে ২ জন, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও সদর উপজেলায় ১ জন করে মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্যমতে, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৫ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং গত এক সপ্তাহে নতুন করে ১৩২ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮৫ জন।

ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে মহেশখালী, হোয়াইক্যং, রামুর মিঠাছড়ি এবং কক্সবাজার শহরের কালুরদোকান, পাহাড়তলী ও রুমালিয়ারছড়া এলাকা। তবে এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোনো সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জরিপ কার্যক্রম চলছে এবং শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।

টিকাদান কর্মসূচিতে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। জ্বর থাকা শিশুদের ক্ষেত্রে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামুতে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন

কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামুতে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন

আপডেট সময় : ০৮:২৯:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

ফরহাদ রহমান,স্টাফ রিপোর্টার কক্সবাজার: হাম-রুবেলা রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু উপজেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাহউদ্দিন আহমদ।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, বিগত সময়ের কার্যক্রমে ঘাটতির কারণে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় প্রচারণা ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালিত হয়নি। ফলে বর্তমানে রোগটির প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হাম-রুবেলা প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে এ রোগের বিস্তার সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। প্রথম ধাপে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে।

সরকার ২০২৬ সালের মধ্যে হাম রোগ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা এবং হামজনিত শিশুমৃত্যু শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মহেশখালী ও রামু উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার শিশুকে হাম-রুবেলা টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে জেলায় হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৫ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে। বর্তমানে জেলা সদর হাসপাতালে ৪২ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। একই সময়ে রামু উপজেলার এক শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।

এ পর্যন্ত জেলায় হাম উপসর্গে মোট ৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রামুতে ২ জন, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও সদর উপজেলায় ১ জন করে মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্যমতে, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৫ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং গত এক সপ্তাহে নতুন করে ১৩২ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮৫ জন।

ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে মহেশখালী, হোয়াইক্যং, রামুর মিঠাছড়ি এবং কক্সবাজার শহরের কালুরদোকান, পাহাড়তলী ও রুমালিয়ারছড়া এলাকা। তবে এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোনো সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জরিপ কার্যক্রম চলছে এবং শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।

টিকাদান কর্মসূচিতে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। জ্বর থাকা শিশুদের ক্ষেত্রে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।