আমিনুল ইসলাম: কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার পৌর সদর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবশেষে শুরু হলো বহু প্রতীক্ষিত টিফিন কার্যক্রম। সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে শিক্ষার্থীদের মাঝে পুষ্টিকর খাবার বিতরণের মাধ্যমে এই উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে কোমলমতি শিশুদের জন্য এক ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হলো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেশের দারিদ্র্যপ্রবণ এলাকাগুলোর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে প্রায় ৩৫ লাখ শিশুকে সপ্তাহে পাঁচদিন পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। নানা প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে বর্তমান সময়ে প্রকল্পটি বাস্তব রূপ পেয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা এখন সরাসরি এই উদ্যোগের সুফল ভোগ করতে পারছে।
উদ্বোধনী দিনে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে রুটি ও তরল দুধ বিতরণ করা হয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে খাবারের তালিকায় বৈচিত্র্য আনতে দুধের পাশাপাশি কলা ও ডিম অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যা শিশুদের পুষ্টি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাঈদা আফরোজ বলেন, “অনেক শিক্ষার্থী আগে ক্ষুধার্ত অবস্থায় ক্লাসে বসে থাকতো, যার কারণে তাদের মনোযোগ ব্যাহত হতো। এই টিফিন কার্যক্রম চালুর ফলে তারা আরও আগ্রহ নিয়ে স্কুলে আসবে এবং ঝরে পড়ার হার কমবে।”
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে এ উদ্যোগকে ঘিরে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তারা মনে করছেন, এই প্রকল্প কেবল শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করবে না, বরং তাদের নিয়মিত স্কুলমুখী করে গড়ে তুলবে একটি সুস্থ ও শিক্ষিত প্রজন্ম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নের পাশাপাশি শিশুদের অপুষ্টি দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বরুড়ায় শুরু হওয়া এই কার্যক্রম দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জন্যও একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
প্রতিনিধির নাম 


















