ঢাকা ০৪:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‎ সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ডাকাতি মামলার ২ আসামি গ্রেফতার মহান মে দিবসে সকল মেহনতি মানুষের প্রতি যুবদল নেতা এম ইলিয়াছ আলীর বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালবাসা যশোর হার্ট ফাউন্ডেশন মিলেছে জমি বরাদ্দ, বাস্তবায়নের পথে শিমরাইল আন্তঃজিলা শ্রমিক ইউনিয়ন নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন নারায়ণগঞ্জে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যান ফেডারেশনের বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও শ্রমিক সমাবেশ ভয়াল ২৯ এপ্রিল: যে রাত এখনো ঘুম ভাঙায় উপকূলবাসীর মানুষদের বছর করে কারাদণ্ড নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা ভূমি অফিস পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আজ মহান মে দিবস: শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ এর মাধ্যমে তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনতে চাই:ডিসি রায়হান কবির

সোনারগাঁয়ে গলাকেটে হত্যা: কুড়িগ্রাম থেকে প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

‎নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রতন (৩৮) নামে এক যুবককে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার ১৫ দিন পর হত্যা মামলার প্রধান আসামি ইয়ানুছ (৪০)–কে কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।
‎‎র‌্যাব-১১ এর পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিহত রতন কাঁচপুর এলাকার মালেক মোল্লার ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে সোনারগাঁয়ের নাওড়া বিটা এলাকায় ভাড়া থাকতেন। গত ১৭ জুন সকালে সোনারগাঁয়ের ভারগাঁও এলাকার ওলামা নগর খালপাড়ের পূর্ব পাশ থেকে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়দের মাধ্যমে লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
‎এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে তদন্তে নামে র‌্যাব-১১। প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে এবং র‌্যাব-১৩ এর সহযোগিতায় ২ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার আরাজী কদমতলা এলাকা থেকে ইয়ানুছকে গ্রেফতার করে।
‎জিজ্ঞাসাবাদে ইয়ানুছ স্বীকার করেন, তিনি ও নিহত রতন একই এলাকার বাসিন্দা এবং উভয়েই মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। দুই বছর আগে মারামারির একটি ঘটনাও ঘটে। ঘটনার ১৫ দিন আগে তাদের মধ্যে ফের বিরোধ দেখা দিলে ইয়ানুছ হত্যার পরিকল্পনা করেন।
‎পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৭ জুন ভোর সাড়ে ৩টার দিকে এজাহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি হাসেম (৪০) ও ৪ নম্বর আসামি ইলিয়াছ (৩০) সহ ৮ জন মিলে রতনকে ডেকে এনে তাকে বেধড়ক মারধর করে। পরে গলা ও হাত-পায়ের রগ কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ খালে ফেলে দেয়।
‎‎ঘটনার পর থেকেই প্রধান আসামি ইয়ানুছ আত্মগোপনে ছিলেন এবং পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান। র‌্যাব জানায়, মামলার ৫, ৬ ও ১১ নম্বর আসামিকে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি ও প্রমাণ লোপাটে ব্যবহৃত সাদা ও কালো রঙের দুটি বালতি উদ্ধার করা হয়। ৫ নম্বর আসামি ওসমান (৩২) আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
‎র‌্যাব আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত ইয়ানুছের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় আরও একটি হত্যা চেষ্টার মামলা রয়েছে। তাকে সোনারগাঁ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ পর্যন্ত এ ঘটনায় র‌্যাব মোট চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

‎ সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ডাকাতি মামলার ২ আসামি গ্রেফতার

সোনারগাঁয়ে গলাকেটে হত্যা: কুড়িগ্রাম থেকে প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৮:৪০:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫

‎নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রতন (৩৮) নামে এক যুবককে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার ১৫ দিন পর হত্যা মামলার প্রধান আসামি ইয়ানুছ (৪০)–কে কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।
‎‎র‌্যাব-১১ এর পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিহত রতন কাঁচপুর এলাকার মালেক মোল্লার ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে সোনারগাঁয়ের নাওড়া বিটা এলাকায় ভাড়া থাকতেন। গত ১৭ জুন সকালে সোনারগাঁয়ের ভারগাঁও এলাকার ওলামা নগর খালপাড়ের পূর্ব পাশ থেকে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়দের মাধ্যমে লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
‎এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে তদন্তে নামে র‌্যাব-১১। প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে এবং র‌্যাব-১৩ এর সহযোগিতায় ২ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার আরাজী কদমতলা এলাকা থেকে ইয়ানুছকে গ্রেফতার করে।
‎জিজ্ঞাসাবাদে ইয়ানুছ স্বীকার করেন, তিনি ও নিহত রতন একই এলাকার বাসিন্দা এবং উভয়েই মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। দুই বছর আগে মারামারির একটি ঘটনাও ঘটে। ঘটনার ১৫ দিন আগে তাদের মধ্যে ফের বিরোধ দেখা দিলে ইয়ানুছ হত্যার পরিকল্পনা করেন।
‎পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৭ জুন ভোর সাড়ে ৩টার দিকে এজাহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি হাসেম (৪০) ও ৪ নম্বর আসামি ইলিয়াছ (৩০) সহ ৮ জন মিলে রতনকে ডেকে এনে তাকে বেধড়ক মারধর করে। পরে গলা ও হাত-পায়ের রগ কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ খালে ফেলে দেয়।
‎‎ঘটনার পর থেকেই প্রধান আসামি ইয়ানুছ আত্মগোপনে ছিলেন এবং পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান। র‌্যাব জানায়, মামলার ৫, ৬ ও ১১ নম্বর আসামিকে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি ও প্রমাণ লোপাটে ব্যবহৃত সাদা ও কালো রঙের দুটি বালতি উদ্ধার করা হয়। ৫ নম্বর আসামি ওসমান (৩২) আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
‎র‌্যাব আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত ইয়ানুছের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় আরও একটি হত্যা চেষ্টার মামলা রয়েছে। তাকে সোনারগাঁ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ পর্যন্ত এ ঘটনায় র‌্যাব মোট চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।