ঢাকা ০১:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বছর করে কারাদণ্ড নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা ভূমি অফিস পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আজ মহান মে দিবস: শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ এর মাধ্যমে তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনতে চাই:ডিসি রায়হান কবির বন্দরে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক রায়হান কবির সিদ্ধিরগঞ্জে বিশেষ অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ ও চুরির মামলায় ২ জন গ্রেফতার নিউইয়র্কে প্রবাসী মতলব সমিতির নতুন কার্যকরী পরিষদের অভিষেক ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠিত উখিয়ায় বিজিবির অভিযানে ১২০ ক্যান বিয়ারসহ আটক ১ বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থতা: বেনাপোল-খুলনা-মোংলা কমিউটার ট্রেনের ইজারা চুক্তি বাতিল ৩ দিন বন্ধের পর বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক হয়েছে, পারাপার হচ্ছেন পাসপোর্টযাত্রীরা

গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে সরাসরি ট্রেন চালুর প্রস্তাব জেলা প্রশাসকের

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৫৩ বার পড়া হয়েছে

গোলাম রব্বানী,গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জ থেকে রাজধানী ঢাকায় সরাসরি যাত্রীবাহী ট্রেন সার্ভিস চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান। সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল মহাব্যবস্থাপক বরাবর এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র হিসেবে গোপালগঞ্জ জেলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলায় গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড, নার্সিং কলেজ ও ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিসহ বহু সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন, যাদের অধিকাংশের স্থায়ী ঠিকানা গোপালগঞ্জ জেলার বাইরে।

বর্তমানে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকায় যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম সড়কপথ। দীর্ঘ ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার এই যাত্রা সময়সাপেক্ষ, ব্যয়বহুল এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ। জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত তিন বছরে গোপালগঞ্জে ৩৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৬৬ জন নিহত এবং ৪৯২ জন আহত হয়েছেন। এতে সাধারণ মানুষের জানমাল চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

জেলা প্রশাসক তাঁর প্রস্তাবে বলেন, “গোপালগঞ্জ জেলার বিপুলসংখ্যক ঢাকাগামী শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যাতায়াতের সুবিধা, ক্রমবর্ধমান সড়ক দুর্ঘটনা এবং সময় ও অর্থ সাশয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গোবরা স্টেশন থেকে ঢাকামুখী অন্তত দুটি সরাসরি যাত্রীবাহী ট্রেন চালু করা জরুরি।”

বর্তমানে গোপালগঞ্জ শহরের নিকটবর্তী গোবরা রেলস্টেশন থেকে প্রতিদিন একটি ট্রেন রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে যায় ও সন্ধ্যায় ফিরে আসে। এই স্টেশনটি বাগেরহাটের মোল্লাহাট থেকে ৫ কিলোমিটার, নড়াইলের কালিয়া উপজেলা থেকে ১২ কিলোমিটার এবং পিরোজপুরের উজিরপুর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কিন্তু ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বেনাপোলগামী ট্রেনগুলো বর্তমানে কাশিয়ানী হয়ে যাওয়ায় গোপালগঞ্জসহ আশপাশের জেলার যাত্রীরা রেলসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

জেলা প্রশাসকের এই প্রস্তাবের অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, রেলপথ মন্ত্রণালয়, ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

গত ৫ অক্টোবর জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এ চিঠি প্রেরণ করা হয়।

প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, পিরোজপুর ও নড়াইল জেলার হাজারো মানুষ নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্য ও সাশ্রয়ী ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। এটি শুধু সময় ও অর্থ সাশয় করবে না, বরং সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে মানুষের নিরাপদ যাত্রার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

বছর করে কারাদণ্ড

গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে সরাসরি ট্রেন চালুর প্রস্তাব জেলা প্রশাসকের

আপডেট সময় : ১২:২২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

গোলাম রব্বানী,গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জ থেকে রাজধানী ঢাকায় সরাসরি যাত্রীবাহী ট্রেন সার্ভিস চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান। সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল মহাব্যবস্থাপক বরাবর এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র হিসেবে গোপালগঞ্জ জেলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলায় গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড, নার্সিং কলেজ ও ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিসহ বহু সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন, যাদের অধিকাংশের স্থায়ী ঠিকানা গোপালগঞ্জ জেলার বাইরে।

বর্তমানে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকায় যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম সড়কপথ। দীর্ঘ ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার এই যাত্রা সময়সাপেক্ষ, ব্যয়বহুল এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ। জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত তিন বছরে গোপালগঞ্জে ৩৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৬৬ জন নিহত এবং ৪৯২ জন আহত হয়েছেন। এতে সাধারণ মানুষের জানমাল চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

জেলা প্রশাসক তাঁর প্রস্তাবে বলেন, “গোপালগঞ্জ জেলার বিপুলসংখ্যক ঢাকাগামী শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যাতায়াতের সুবিধা, ক্রমবর্ধমান সড়ক দুর্ঘটনা এবং সময় ও অর্থ সাশয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গোবরা স্টেশন থেকে ঢাকামুখী অন্তত দুটি সরাসরি যাত্রীবাহী ট্রেন চালু করা জরুরি।”

বর্তমানে গোপালগঞ্জ শহরের নিকটবর্তী গোবরা রেলস্টেশন থেকে প্রতিদিন একটি ট্রেন রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে যায় ও সন্ধ্যায় ফিরে আসে। এই স্টেশনটি বাগেরহাটের মোল্লাহাট থেকে ৫ কিলোমিটার, নড়াইলের কালিয়া উপজেলা থেকে ১২ কিলোমিটার এবং পিরোজপুরের উজিরপুর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কিন্তু ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বেনাপোলগামী ট্রেনগুলো বর্তমানে কাশিয়ানী হয়ে যাওয়ায় গোপালগঞ্জসহ আশপাশের জেলার যাত্রীরা রেলসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

জেলা প্রশাসকের এই প্রস্তাবের অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, রেলপথ মন্ত্রণালয়, ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

গত ৫ অক্টোবর জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এ চিঠি প্রেরণ করা হয়।

প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, পিরোজপুর ও নড়াইল জেলার হাজারো মানুষ নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্য ও সাশ্রয়ী ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। এটি শুধু সময় ও অর্থ সাশয় করবে না, বরং সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে মানুষের নিরাপদ যাত্রার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।