ঢাকা ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিএনপি নতুন যুদ্ধ শুরু করেছে: প্রধানমন্ত্রী হাওরের সংকট মোকাবিলায় পাঁচ বছর মেয়াদি সমন্বিত কর্মসূচি নেওয়া হবে : অর্থ উপদেষ্টা জিপিএ-৫ কেন্দ্রিক শিক্ষা নয়, বিশ্বমানের নাগরিক গঠনের আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর গ্রামের বাড়ির পথে বৃষ্টির মরদেহ সরকার গণভোটের রায় নিয়ে প্রতারণা করছে: গোলাম পরওয়ার প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে ৪৮ ঘণ্টায় নিখোঁজ স্কুলছাত্রী বৈশাখী উদ্ধার মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার রোধে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সমঝোতা স্মারক সই রবীন্দ্রনাথকে ছাড়া বাঙালি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পূর্ণাঙ্গভাবে কল্পনা করা যায় না:আইনমন্ত্রী ব্যাচ ৯৭ নারায়ণগঞ্জের নতুন কমিটি গঠন মৌলভীবাজারে সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের কমিটি গঠন, আহ্বায়ক জোসেপ আলী চৌধুরী, সদস্য সচিব রুবেল আহমেদ

হাওরের সংকট মোকাবিলায় পাঁচ বছর মেয়াদি সমন্বিত কর্মসূচি নেওয়া হবে : অর্থ উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক: হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পানি ব্যবস্থাপনা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং টেকসই অবকাঠামো গড়ে তুলতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদি সমন্বিত কর্মসূচি নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, নদী দখল, পলি জমে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়া, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়, কৃষিতে কীটনাশকের অপব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হাওরাঞ্চলের সংকট আরও গভীর হয়েছে। এসব সমস্যার টেকসই সমাধানে সরকার ইতোমধ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়নে কাজ শুরু করেছে।

শুক্রবার সিলেট সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, আমরা হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য মানবিক সহায়তার পাশাপাশি এই সংকটের টেকসই সমাধান চাই। সেই লক্ষ্যেই আগামী পাঁচ বছরে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে হাওরাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা হবে।

তিনি বলেন, অতীতে হাওরাঞ্চলে বিচ্ছিন্ন ও অপরিকল্পিত প্রকল্প নেওয়া হলেও মানুষের কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। বরং পলি জমে নদী ও জলাভূমির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে, অনেক সুইস গেট অকার্যকর হয়ে পড়েছে এবং জলাবদ্ধতা বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র জনকল্যাণের হলে, মানুষের পাশে দ্রুত দাঁড়াতে হয়। আমরা সেই কাজটাই করছি।

সাম্প্রতিক অকাল বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল পরিদর্শন করেছে বলে জানান ড. তিতুমীর। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ইতোমধ্যে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তালিকাভুক্ত পরিবারগুলোকে তিন মাস সহায়তা দেওয়া হবে।

হাওরাঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ড. তিতুমীর বলেন, শুধু ত্রাণ দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা, নদী ও খাল খনন, জলমগ্ন ও ডুবন্ত সড়ক নির্মাণ, সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা, হাওর উপযোগী ধানের জাত উদ্ভাবন, কৃষিযন্ত্র সরবরাহ এবং সময়মতো শ্রমিক নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে একসঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা চাই এমন ধানের জাত, যাতে অকাল বৃষ্টির আগেই কৃষক ফসল ঘরে তুলতে পারেন। একই সঙ্গে হারভেস্টার, ড্রায়ার ও অন্যান্য কৃষি সরঞ্জামের ব্যবস্থাও প্রয়োজন।

হাওরাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে বহু দেশীয় মাছ বিলুপ্তির মুখে পড়েছে। মৌমাছির সংখ্যা কমে যাওয়ায় পরাগায়নেও প্রভাব পড়ছে। একসময় টাঙ্গুয়ার হাওরে বিপুল পরিমাণ পরিযায়ী পাখি এলেও এখন সেই দৃশ্য অনেকটাই হারিয়ে গেছে।

ড. তিতুমীর বলেন, ‘টাঙ্গুয়ার হাওর একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রামসার সাইট, কিন্তু অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের কারণে এর বাস্তুতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, নতুন হাওর ও জলাশয়-সংক্রান্ত আইনের আওতায় কৃষি, মৎস্য, পানি সম্পদ, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পরিকল্পনায় জনগণের অংশগ্রহণ ও স্থানীয় জ্ঞানের সঙ্গে সংযুক্ত করেও বাস্তবায়ন করতে হবে।

সভায় তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে হাওরাঞ্চলে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হলেও সেগুলোর অনেকটাই ছিল ‘লুটপাট ও পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক’। ফলে টেকসই সমাধান হয়নি, বরং সংকট আরও বেড়েছে।

কৃষকদের জন্য সরকার কৃষক কার্ড চালু করেছে উল্লেখ করে তিতুমীর বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে কৃষকেরা বীজ, সার, বালাইনাশকসহ বিভিন্ন সেবা পাবেন এবং কৃষি পরিকল্পনাও সহজ হবে।

মতবিনিময় সভায় সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিএনপি নতুন যুদ্ধ শুরু করেছে: প্রধানমন্ত্রী

হাওরের সংকট মোকাবিলায় পাঁচ বছর মেয়াদি সমন্বিত কর্মসূচি নেওয়া হবে : অর্থ উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ০৪:৩৯:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পানি ব্যবস্থাপনা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং টেকসই অবকাঠামো গড়ে তুলতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদি সমন্বিত কর্মসূচি নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, নদী দখল, পলি জমে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়া, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়, কৃষিতে কীটনাশকের অপব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হাওরাঞ্চলের সংকট আরও গভীর হয়েছে। এসব সমস্যার টেকসই সমাধানে সরকার ইতোমধ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়নে কাজ শুরু করেছে।

শুক্রবার সিলেট সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, আমরা হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য মানবিক সহায়তার পাশাপাশি এই সংকটের টেকসই সমাধান চাই। সেই লক্ষ্যেই আগামী পাঁচ বছরে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে হাওরাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা হবে।

তিনি বলেন, অতীতে হাওরাঞ্চলে বিচ্ছিন্ন ও অপরিকল্পিত প্রকল্প নেওয়া হলেও মানুষের কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। বরং পলি জমে নদী ও জলাভূমির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে, অনেক সুইস গেট অকার্যকর হয়ে পড়েছে এবং জলাবদ্ধতা বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র জনকল্যাণের হলে, মানুষের পাশে দ্রুত দাঁড়াতে হয়। আমরা সেই কাজটাই করছি।

সাম্প্রতিক অকাল বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল পরিদর্শন করেছে বলে জানান ড. তিতুমীর। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ইতোমধ্যে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তালিকাভুক্ত পরিবারগুলোকে তিন মাস সহায়তা দেওয়া হবে।

হাওরাঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ড. তিতুমীর বলেন, শুধু ত্রাণ দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা, নদী ও খাল খনন, জলমগ্ন ও ডুবন্ত সড়ক নির্মাণ, সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা, হাওর উপযোগী ধানের জাত উদ্ভাবন, কৃষিযন্ত্র সরবরাহ এবং সময়মতো শ্রমিক নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে একসঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা চাই এমন ধানের জাত, যাতে অকাল বৃষ্টির আগেই কৃষক ফসল ঘরে তুলতে পারেন। একই সঙ্গে হারভেস্টার, ড্রায়ার ও অন্যান্য কৃষি সরঞ্জামের ব্যবস্থাও প্রয়োজন।

হাওরাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে বহু দেশীয় মাছ বিলুপ্তির মুখে পড়েছে। মৌমাছির সংখ্যা কমে যাওয়ায় পরাগায়নেও প্রভাব পড়ছে। একসময় টাঙ্গুয়ার হাওরে বিপুল পরিমাণ পরিযায়ী পাখি এলেও এখন সেই দৃশ্য অনেকটাই হারিয়ে গেছে।

ড. তিতুমীর বলেন, ‘টাঙ্গুয়ার হাওর একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রামসার সাইট, কিন্তু অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের কারণে এর বাস্তুতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, নতুন হাওর ও জলাশয়-সংক্রান্ত আইনের আওতায় কৃষি, মৎস্য, পানি সম্পদ, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পরিকল্পনায় জনগণের অংশগ্রহণ ও স্থানীয় জ্ঞানের সঙ্গে সংযুক্ত করেও বাস্তবায়ন করতে হবে।

সভায় তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে হাওরাঞ্চলে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হলেও সেগুলোর অনেকটাই ছিল ‘লুটপাট ও পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক’। ফলে টেকসই সমাধান হয়নি, বরং সংকট আরও বেড়েছে।

কৃষকদের জন্য সরকার কৃষক কার্ড চালু করেছে উল্লেখ করে তিতুমীর বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে কৃষকেরা বীজ, সার, বালাইনাশকসহ বিভিন্ন সেবা পাবেন এবং কৃষি পরিকল্পনাও সহজ হবে।

মতবিনিময় সভায় সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।