কালোটাকা ও অবৈধ লেনদেন বন্ধে বিকাশে লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ করার উদ্যোগ নিঃসন্দেহে রাষ্ট্রের একটি সাহসী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। উদ্দেশ্য ভালো, এতে সন্দেহ নেই। ধন্যবাদ বাংলাদেশ 🇧🇩 তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—এই উদ্যোগ কি সত্যিই কালোটাকার মূল স্রোত বন্ধ করতে পারবে, নাকি সাধারণ মানুষের জরুরি প্রয়োজনগুলোই বেশি চাপে পড়বে? নীতির কঠোরতা যেমন দরকার, তেমনি মানবিক বাস্তবতাও উপেক্ষা করা যায় না। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাকার অপব্যবহার রোধের যুক্তিতে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবায় ৯৬ ঘণ্টার জন্য কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আজ রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। এই সময়ে বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো এমএফএসে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেনে প্রতিবার সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা এবং দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পাঠানো যাবে। একই সঙ্গে ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও ব্যাংক অ্যাপের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি টাকা পাঠানোর সেবা পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে সাধারণ গ্রাহক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জরুরি আর্থিক লেনদেন, পরিবারে টাকা পাঠানো এবং ছোট ব্যবসার দৈনন্দিন লেনদেন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। সমালোচকদের মতে, অপরাধ দমনের নামে সার্বিক লেনদেন সীমিত করা সাধারণ মানুষের ওপর অযথা চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, মার্চেন্ট পেমেন্ট ও বিল পরিশোধ স্বাভাবিক থাকবে এবং সন্দেহজনক লেনদেন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। তবে বাস্তবতায় এই সীমাবদ্ধতা নির্বাচনকালীন সময়ে সাধারণ গ্রাহকদের দৈনন্দিন আর্থিক কার্যক্রমকে কতটা প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ভাবতে হবে সেই পরিবারগুলোর কথা, যাদের প্রিয়জন আজ হাসপাতালে, ইমারজেন্সিতে। অনেক সময় মুহূর্তের মধ্যে টাকা জোগাড় করাটাই চিকিৎসা চালু রাখার একমাত্র ভরসা। সে জায়গায় সামান্য দেরি মানেই থমকে যাওয়া চিকিৎসা, নিঃশব্দে ভেঙে পড়া কিছু অসহায় মানুষ।আশা করি সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের সময় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ও জরুরি পরিস্থিতিগুলো বিবেচনায় রাখা হবে। কারণ কালোটাকার বিরুদ্ধে লড়াই যেমন জরুরি, তেমনি একটি জীবন রক্ষা পাওয়াও তার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
রিপোর্ট :মোরশেদুল আলম 



















