ঢাকা ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বৈষম্যবিরোধী বিস্ফোরক মামলায় সিদ্ধিরগঞ্জ ওলামা লীগ সভাপতি গ্রেপ্তার বেগমগঞ্জে রিকশা চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই বরুড়ায় রোজাদারদের সম্মানে ওরাই আপনজন সামাজিক সংগঠনের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত যশোরে গোডাউনে লুকানো ছিল ৭৭টি আমেরিকান মোটরসাইকেল, সিলগালা রোজায় বেনাপোলে নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী, ক্রেতাদের ক্ষোভ : মাঠে ভ্রাম্যমান আদালত নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই পটিয়ায় ইসলামী ফন্টের উদ্যােগে মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসের আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত আমতলীতে গ্যাসের জন্য হাহাকার ৭টি কোম্পানির গ্যাস সরবরাহ বন্ধ প্রধানমন্ত্রীপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ মার্চে বসতে পারে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন

আমতলীতে গ্যাসের জন্য হাহাকার ৭টি কোম্পানির গ্যাস সরবরাহ বন্ধ

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৮:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

মাইনুল ইসলাম রাজু,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:আমতলীতে ৯টি কোম্পানির এলপিজি গ্যাস বিক্রি হলেও সপ্তাহ জুরে ৭টি কোম্পানির গ্যাস
সরবরাহ বন্ধ থাকায় এলপিজি গ্যাসের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। ক্রেতারা এক দোকান থেকে অন্য দোকান ঘুরে ও কাঙ্খিত গ্যাস না পাওয়ায় নিরুপায় হয়ে খালি সিলিন্ডিার নিয়ে বাসায় ফিরছেন। দুএকটি কোম্পানির গ্যাস পাওয়া গেলেও সরকার নির্ধারিত টাকার চেয়ে বাড়তি
টাকা গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমতলী উপজেলায় ৪জন ডিলারের মাধ্যমে নয় কোম্পানির এলপিজি গ্যাস সরবরাহ হয়ে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে দুবাই বাংলা, বিএম, সেনা, ওরিয়ন,আই গ্যাস,বসুন্ধরা, টোটাল, যমুনা ও ওমেরা। সপ্তাহকাল ধরে দুবাই বিএম সেনা যমুনা বসুন্ধরা টোটাল গ্যাসের সাপা্লাই সম্পূর্ন বন্ধ রয়েছে। যে সকল গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে তা খুচরা
বিক্রেতাদের নিকট দু’একটি থাকলেও তা বাড়তি দামে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। ১৫ কেজির টোটাল গ্যাসের সরবরাহ সম্পূর্ন বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।

ডিলালরা বলছেন সরবরাহ নাই তাই আমরা পাইকারি দিতে পারছি না। একই ভাবে দুবাই, বিএম, সেনা,বসুন্ধরা, টোটাল গ্যামের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে ৮-১০ দিন ধরে। রমজানের শুরুতেই এভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় গৃহস্থলি রান্নার কাজে গৃহিনীরা পরেছে মহা বিপাকে।

রবিবার সকালে আমতলী শহরের নতুন বাধ ঘাট, কনু মিয়া, কবির, মহিউদ্দিন,সোহরাবসহ একাধিক গ্যাসের দোকান ঘুরওে দেখা গেছে অধিকাংশ দোকানের সামনে খালি সিল্ন্ডিার স্তুপ আকারে পরে আছে। ক্রেতারা গ্যাস না পেয়ে খালি সিলিন্ডার নিয়ে ফেরৎ যাচ্ছে।

পল্লবী এলাকার গৃহবধূ আয়সা বেগম বলেন, আমি টোটাল ১৫ কেজির সিলিন্ডার ব্যাবহার করি।রবিবার সকালে গ্যাস কেনার জন্য খালি সিলিন্ডার নিয়ে আমতলী শহরের অলি গলি ঘুরেছি।রিকসা ভাড়াও গেছে ৮০-৯০ টাকা কিন্তু কোথাও গ্যাস পাইনি। এখন কিভাবে রমজানের মধ্যে
রান্না বান্না করব তাই ভাবছি।

পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মেহেদি হাসান বলেন, আমি বাসায় বিএম গ্যাস ব্যবহার করি। গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় শনিবার সকালে বাজারে খালি সিলিন্ডার নিয়ে এসে জানতে পারি ৭দিন ধরে ওমেরা গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ। এখন আমাদের রান্নার কি উপায় হবে। শহরে লাকরি দিয়ে রান্নার ব্যবস্থা না থাকায় রান্না বান্না বন্ধ রয়েছে। এখন যে অবস্থা তাতে না খেয়ে
রোজা থাকতে হবে।

ডিলার মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, দুবাই বাংলা দুই মাস এবং ওমেরা সাত দিন ধরে সরবরাহ বন্ধ। গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় আমরা পরেছি মহা বিপাকে।

যমুনার ডিলার মো. মহিউদ্দিন বলেন, যমুনা গ্যাস সরবরাহ সাত দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বাজারেচাহিদা থাকলেও আমরা দিতে পারছি না।

খুচরা গ্যাস বিক্রেতা মো. কনু মিয়া বলেন, ডিলাররা আমাদের নিকট সরকারি নির্দাধারিত দামের চেয়ে বেশী দামে গ্যাস বিক্রি করে। বাধ্য হয়ে আমরাও বেশী দামে বিক্রি করি। তিনি আরো অভিযোগ কর বলেন, ডিলারদেরও নিকট মেমো চাইলে তারা মেমো দেন না। বেশী বাড়াবাড়ি করলে পরে আর গ্যাস সরবরাহ করেন না।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, কোম্পানির গ্যাস সরবরাহ এট নিজেদের বিষয়। তবে এই সুযোগে যদি কেউ দাম বেশী নেয় তাদরে বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈষম্যবিরোধী বিস্ফোরক মামলায় সিদ্ধিরগঞ্জ ওলামা লীগ সভাপতি গ্রেপ্তার

আমতলীতে গ্যাসের জন্য হাহাকার ৭টি কোম্পানির গ্যাস সরবরাহ বন্ধ

আপডেট সময় : ০৮:০৮:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মাইনুল ইসলাম রাজু,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:আমতলীতে ৯টি কোম্পানির এলপিজি গ্যাস বিক্রি হলেও সপ্তাহ জুরে ৭টি কোম্পানির গ্যাস
সরবরাহ বন্ধ থাকায় এলপিজি গ্যাসের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। ক্রেতারা এক দোকান থেকে অন্য দোকান ঘুরে ও কাঙ্খিত গ্যাস না পাওয়ায় নিরুপায় হয়ে খালি সিলিন্ডিার নিয়ে বাসায় ফিরছেন। দুএকটি কোম্পানির গ্যাস পাওয়া গেলেও সরকার নির্ধারিত টাকার চেয়ে বাড়তি
টাকা গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমতলী উপজেলায় ৪জন ডিলারের মাধ্যমে নয় কোম্পানির এলপিজি গ্যাস সরবরাহ হয়ে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে দুবাই বাংলা, বিএম, সেনা, ওরিয়ন,আই গ্যাস,বসুন্ধরা, টোটাল, যমুনা ও ওমেরা। সপ্তাহকাল ধরে দুবাই বিএম সেনা যমুনা বসুন্ধরা টোটাল গ্যাসের সাপা্লাই সম্পূর্ন বন্ধ রয়েছে। যে সকল গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে তা খুচরা
বিক্রেতাদের নিকট দু’একটি থাকলেও তা বাড়তি দামে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। ১৫ কেজির টোটাল গ্যাসের সরবরাহ সম্পূর্ন বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।

ডিলালরা বলছেন সরবরাহ নাই তাই আমরা পাইকারি দিতে পারছি না। একই ভাবে দুবাই, বিএম, সেনা,বসুন্ধরা, টোটাল গ্যামের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে ৮-১০ দিন ধরে। রমজানের শুরুতেই এভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় গৃহস্থলি রান্নার কাজে গৃহিনীরা পরেছে মহা বিপাকে।

রবিবার সকালে আমতলী শহরের নতুন বাধ ঘাট, কনু মিয়া, কবির, মহিউদ্দিন,সোহরাবসহ একাধিক গ্যাসের দোকান ঘুরওে দেখা গেছে অধিকাংশ দোকানের সামনে খালি সিল্ন্ডিার স্তুপ আকারে পরে আছে। ক্রেতারা গ্যাস না পেয়ে খালি সিলিন্ডার নিয়ে ফেরৎ যাচ্ছে।

পল্লবী এলাকার গৃহবধূ আয়সা বেগম বলেন, আমি টোটাল ১৫ কেজির সিলিন্ডার ব্যাবহার করি।রবিবার সকালে গ্যাস কেনার জন্য খালি সিলিন্ডার নিয়ে আমতলী শহরের অলি গলি ঘুরেছি।রিকসা ভাড়াও গেছে ৮০-৯০ টাকা কিন্তু কোথাও গ্যাস পাইনি। এখন কিভাবে রমজানের মধ্যে
রান্না বান্না করব তাই ভাবছি।

পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মেহেদি হাসান বলেন, আমি বাসায় বিএম গ্যাস ব্যবহার করি। গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় শনিবার সকালে বাজারে খালি সিলিন্ডার নিয়ে এসে জানতে পারি ৭দিন ধরে ওমেরা গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ। এখন আমাদের রান্নার কি উপায় হবে। শহরে লাকরি দিয়ে রান্নার ব্যবস্থা না থাকায় রান্না বান্না বন্ধ রয়েছে। এখন যে অবস্থা তাতে না খেয়ে
রোজা থাকতে হবে।

ডিলার মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, দুবাই বাংলা দুই মাস এবং ওমেরা সাত দিন ধরে সরবরাহ বন্ধ। গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় আমরা পরেছি মহা বিপাকে।

যমুনার ডিলার মো. মহিউদ্দিন বলেন, যমুনা গ্যাস সরবরাহ সাত দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বাজারেচাহিদা থাকলেও আমরা দিতে পারছি না।

খুচরা গ্যাস বিক্রেতা মো. কনু মিয়া বলেন, ডিলাররা আমাদের নিকট সরকারি নির্দাধারিত দামের চেয়ে বেশী দামে গ্যাস বিক্রি করে। বাধ্য হয়ে আমরাও বেশী দামে বিক্রি করি। তিনি আরো অভিযোগ কর বলেন, ডিলারদেরও নিকট মেমো চাইলে তারা মেমো দেন না। বেশী বাড়াবাড়ি করলে পরে আর গ্যাস সরবরাহ করেন না।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, কোম্পানির গ্যাস সরবরাহ এট নিজেদের বিষয়। তবে এই সুযোগে যদি কেউ দাম বেশী নেয় তাদরে বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।