বাজিতপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি :ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ – ৫ (নিকলী–বাজিতপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদাকে পরাজিত করে বিজয়ী হন হাঁস প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল।
সম্প্রতি বেশ কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় ‘এমপিকে পরাজিত প্রার্থীর হুমকি, সরকারের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ’ ও ‘নির্বাচিত এমপিকে পরাজিতের হুমকি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
সংবাদে বলা হয় বাজিতপুর উপজেলা প্রশাসনের আহ্বানে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে স্থানীয় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবালকে আমন্ত্রণ জানানোর কারণে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পরাজিত প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা উপজেলা প্রশাসনকে হুমকি-ধমকি দিয়েছেন। একই সঙ্গে মিটিংয়ে অংশ নেওয়ায় হুমকি দিয়েছেন সংসদ সদস্যকে। এহসানুল হুদাকে আমন্ত্রণ না করায় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও প্রশ্নবাণে জর্জরিত করার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়।
প্রকাশিত এ সংবাদের প্রতিবাদে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পরাজিত প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদার সমর্থকরা উপজেলার গণনাট্য মঞ্চে ১ মার্চ (রবিবার) বিকেলে উপজেলা ও পৌর বিএনপির ব্যানারে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে প্রকাশিত সংবাদকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত দাবি করে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা যুবদলের সহ সভাপতি এ্যাডভোকেট শাহ আলম।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি এহসান কুফিয়া, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি কাইয়ুম খাঁন হেলাল, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজল ভূইয়া, এবং উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনিসুর রহমান খোকনসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল মুখ্য উপদেষ্টা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং পুলিশের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।
বক্তারা দাবি করেন, ওই সভায় সংসদ সদস্যের সঙ্গে ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রবেশ করে বক্তব্য দেন। এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলার পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি কালের কণ্ঠ এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিএনপি মনোনীত সাবেক এমপি প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা আইন-শৃঙ্খলা সভা চলাকালে সহ সঙ্গীদের নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হলরুমে প্রবেশ করে স্বতন্ত্র এমপিকে হুমকি দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলা হয়, আইন-শৃঙ্খলা সভাটি সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে শুরু হয়ে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে শেষ হয়। একই দিন বিকাল ৩টা ১৫ মিনিটে পূর্বনির্ধারিত সৌজন্য সাক্ষাতে সৈয়দ এহসানুল হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান এবং বাজিতপুরের উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। সভা চলাকালে তিনি বা তাঁর সঙ্গে থাকা কোনো নেতা উপস্থিত ছিলেন না বলেও দাবি করা হয়।
বক্তারা প্রকাশিত সংবাদকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে সংশ্লিষ্ট পত্রিকার নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রকাশ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
প্রতিনিধির নাম 




















