মনির হোসেন, যশোর জেলা প্রতিনিধি:বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যশোর রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী এলাকায় জ্বালানি তেলের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং অবৈধ মজুদ ও পাচার প্রতিরোধে কড়া নজরদারিতে রয়েছে বিজিবি। সোমবার (৩০ মার্চ) বেনাপোল বিজিবি সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্ণেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খান।
মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের বাজারে বিরাজমান অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় দেশের জ্বালানি তেলের নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, বিপণন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অবৈধ মজুদ ও পাচার প্রতিরোধে যশোর রিজিয়ন দৃঢ় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার সুযোগে যাতে সীমান্ত দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে অবৈধভাবে জ্বালানী তেল পাচার করতে না পারে সে লক্ষ্যে বিজিবি সদস্যগণ সীমান্ত এলাকায় টহল, তল্লাশী এবং গোয়েন্দা নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করেছে।
তিনি বলেন, বিরাজমান পরিস্থিতিতে বিজিবি কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্যসমূহ হলো, জ্বালানি ডিপো সমূহের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ডিপো হতে ফিলিং স্টেশনসমূহে জ্বালানির নিরবিচ্ছিন্ন ও স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা, সীমান্ত ও নৌপথে পার্শ্ববর্তী দেশে জ্বালানি তেলের অবৈধ পাচার প্রতিরোধ করা, সীমান্তবর্তী দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ কার্যক্রম সম্পূর্ণরুপে বন্ধ করা, এছাড়াও যশোর রিজিয়নের আওতাধীন সাতটি ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এবং সীমান্তের আশেপাশের এলাকায় ১৯২টি বিশেষ তল্লাশী অভিযান পরিচালনা, ২৯টি সীমান্তবর্তী তেল পাম্প/ফিলিং ষ্টেশন পর্যবেক্ষণ করণ, সন্দেহজনক রুট সমূহে এক হাজার ৯৩৬টি তল্লাশি ও মোবাইল টহল পরিচালনা, সীমান্তবর্তী চোরাচালানী রুট সমূহে এক হাজার ১৩১টি চেকপোষ্ট পরিচালনা, তেল পাচার প্রতিরোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনসাধারণের সাথে ৯৪৬টি মতবিনিময় সভার আয়োজন এবং বিভিন্ন সংস্থা/বাহিনীর সাথে ৯৭টি যৌথ তল্লাশী এবং চেক পোষ্ট পরিচালনার মাধ্যমে জ্বালানি তেল পাচার প্রতিরোধকল্পে কর্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে আরো জানান, জ্বালানি তেল যাতে অবৈধভাবে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার হতে না পারে সেজন্য নৌপথে স্পিডবোটের মাধ্যমে ৬টি নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে, ফলে নদী পথেও সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়াও বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনা মোতাবেক সারাদেশে ৯টি জেলায় ১৯টি ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।
তিনি সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা করা সম্ভব। কোনো প্রকার গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে সীমান্তবর্তী এলাকায় জ্বালানি সংক্রান্ত কোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম পরিলক্ষিত হলে তাৎক্ষণিক বিজিবিকে অবহিত করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন।
প্রতিনিধির নাম 



















