ঢাকা ০২:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টেকনাফে সড়কের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান উচ্ছেদ স্থলবন্দরে ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য জব্দ, প্রায় কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা উখিয়া-টেকনাফে প্রতিশ্রুতি রক্ষা: সচল হলো টেকনাফ বন্দর শ্রীলঙ্কায় রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেল ২৩ শতাংশ সোনারগাঁয়ে রাতের হামলা: যুবক নিহত, তদন্তে নেমেছে পুলিশ ফতুল্লায় নিখোঁজের একদিন পর মাদ্রাসা ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার তেলের লাইনে বিরোধীদলীয় নেতার গাড়ি, হেঁটে যোগ দিলেন অনুষ্ঠানে সাফজয়ী ফুটবলারদের সংবর্ধনা; ফেডারেশনগুলোকে স্বাবলম্বী করার ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে জ্বালানিবাহী আরও ৪ জাহাজ জ্বালানি সংকটের অজুহাত,বেনাপোল থেকে ঢাকা গামী প্রতি ট্রাক ভাড়া বেড়েছে ৫-৭ হাজার

প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন দ্বীপ-এর আকাশে ড্রোন সদৃশ রহস্যময় বস্তু: জল্পনা-কল্পনায় সরগরম দ্বীপ

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৫:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

ফরহাদ রহমান,স্টাফ রিপোর্টার কক্সবাজার: প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন দ্বীপ-এর আকাশে ড্রোন সদৃশ এক রহস্যময় আলোকিত বস্তু দেখা যাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা। কেউ একে মিয়ানমারের ড্রোন বলে দাবি করছেন, আবার অনেকে মনে করছেন এটি সাধারণ কোনো ড্রোন নয়—বরং আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্র বা শুকতারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর জেটিঘাট সংলগ্ন আকাশে সবুজাভ আলো বিচ্ছুরণকারী একটি বস্তু ভেসে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাটি মুহূর্তেই দ্বীপজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় নানা মতভেদ ও বিশ্লেষণ।

এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দ্বীপের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট কেফায়েত উল্লাহ। তিনি তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, আকাশে দেখা বস্তুটি মিয়ানমারের ড্রোন হওয়ার সম্ভাবনা কম; বরং এটি স্থানীয় বাসিন্দা বা পর্যটকদের ব্যবহৃত কোনো ড্রোন হতে পারে। কনটেন্ট তৈরির উদ্দেশ্যে এ ধরনের ড্রোন ব্যবহারের ঘটনা দ্বীপে নতুন নয় বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললেও তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে উল্লেখ করেন।

দ্বীপের আরেক বাসিন্দা তৈয়ব উল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার জলসীমায় নজরদারি জোরদার রাখতে প্রায়ই বাংলাদেশ নৌবাহিনী তাদের জাহাজ মোতায়েন করে এবং প্রয়োজনে ড্রোন ব্যবহার করে থাকে। তার মতে, আকাশে দেখা বস্তুটি মিয়ানমারের নয়, বরং প্রশাসনের নজরদারি কার্যক্রমের অংশ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। অতীতেও এ ধরনের কার্যক্রম একাধিকবার লক্ষ্য করা গেছে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, সাধারণত জেটিঘাট এলাকায় নৌবাহিনীর জাহাজ অবস্থান করলে তবেই এ ধরনের ড্রোন দেখা যায়; অন্য সময়ে সেগুলো দৃশ্যমান হয় না।

অন্যদিকে, সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, তিনি টেকনাফে অবস্থানকালে একাধিক সাংবাদিকের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারেন। প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, অনেকেই এটিকে মিয়ানমারের ড্রোন বলে ধারণা করছেন। তবে তিনি নিজেও এ বিষয়ে নিশ্চিত নন।

প্রশাসনের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আকাশে শুকতারার মতো একটি উজ্জ্বল বস্তু কিছু সময় দৃশ্যমান থাকার পর অদৃশ্য হয়ে যায়। তবে মিয়ানমারের কোনো ড্রোন দেখা গেছে—এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং সীমান্ত এলাকায় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

টেকনাফে সড়কের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান উচ্ছেদ

প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন দ্বীপ-এর আকাশে ড্রোন সদৃশ রহস্যময় বস্তু: জল্পনা-কল্পনায় সরগরম দ্বীপ

আপডেট সময় : ০৫:৩৫:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

ফরহাদ রহমান,স্টাফ রিপোর্টার কক্সবাজার: প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন দ্বীপ-এর আকাশে ড্রোন সদৃশ এক রহস্যময় আলোকিত বস্তু দেখা যাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা। কেউ একে মিয়ানমারের ড্রোন বলে দাবি করছেন, আবার অনেকে মনে করছেন এটি সাধারণ কোনো ড্রোন নয়—বরং আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্র বা শুকতারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর জেটিঘাট সংলগ্ন আকাশে সবুজাভ আলো বিচ্ছুরণকারী একটি বস্তু ভেসে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাটি মুহূর্তেই দ্বীপজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় নানা মতভেদ ও বিশ্লেষণ।

এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দ্বীপের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট কেফায়েত উল্লাহ। তিনি তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, আকাশে দেখা বস্তুটি মিয়ানমারের ড্রোন হওয়ার সম্ভাবনা কম; বরং এটি স্থানীয় বাসিন্দা বা পর্যটকদের ব্যবহৃত কোনো ড্রোন হতে পারে। কনটেন্ট তৈরির উদ্দেশ্যে এ ধরনের ড্রোন ব্যবহারের ঘটনা দ্বীপে নতুন নয় বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললেও তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে উল্লেখ করেন।

দ্বীপের আরেক বাসিন্দা তৈয়ব উল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার জলসীমায় নজরদারি জোরদার রাখতে প্রায়ই বাংলাদেশ নৌবাহিনী তাদের জাহাজ মোতায়েন করে এবং প্রয়োজনে ড্রোন ব্যবহার করে থাকে। তার মতে, আকাশে দেখা বস্তুটি মিয়ানমারের নয়, বরং প্রশাসনের নজরদারি কার্যক্রমের অংশ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। অতীতেও এ ধরনের কার্যক্রম একাধিকবার লক্ষ্য করা গেছে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, সাধারণত জেটিঘাট এলাকায় নৌবাহিনীর জাহাজ অবস্থান করলে তবেই এ ধরনের ড্রোন দেখা যায়; অন্য সময়ে সেগুলো দৃশ্যমান হয় না।

অন্যদিকে, সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, তিনি টেকনাফে অবস্থানকালে একাধিক সাংবাদিকের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারেন। প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, অনেকেই এটিকে মিয়ানমারের ড্রোন বলে ধারণা করছেন। তবে তিনি নিজেও এ বিষয়ে নিশ্চিত নন।

প্রশাসনের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আকাশে শুকতারার মতো একটি উজ্জ্বল বস্তু কিছু সময় দৃশ্যমান থাকার পর অদৃশ্য হয়ে যায়। তবে মিয়ানমারের কোনো ড্রোন দেখা গেছে—এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং সীমান্ত এলাকায় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।