ঢাকা ০৭:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হোয়াইকং লম্বাবিল মাদ্রাসায় ইফতার মাহফিলে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন টেকনাফ উপজেলা যুবদলের সা: সম্পাদক জুনায়েদ আলী চৌধুরী শীলখালী চেকপোস্টে বিজিবির অভিযান: প্রাইভেটকারে ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ১ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পুলিশের হাতে বিদেশি পিস্তলসহ দুই সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার শংকরপুরের সন্ত্রাসী ‘গোল্ডেন ফিরোজ’ ও ৩০ মামলার আসামি চাঁচড়ার ‘বড় রুবেল’ গ্রেফতার যশোরে সংকট আশঙ্কায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে ভিড় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবীতে ২৪ এপ্রিল গণসমাবেশ করবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবকদের অবস্থান কর্মসূচি সেন্টমার্টিনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ১০ কেজি গাঁজাসহ ৯ মাদক পাচারকারী আটক কোস্ট ফাউন্ডেশন পালংখালী শাখার উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত উত্তর পালংখালী প্রজন্ম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল সম্পন্ন

নামের মিলেই টেকনাফে মসজিদের মুয়াজ্জিন হত্যা মামলার আসামি

 

নামের মিলের জেরে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নে একটি মসজিদের মুয়াজ্জিনকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে হত্যা মামলায় আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে নিরীহ ওই মুয়াজ্জিনকে মামলা থেকে অব্যাহতির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জানুয়ারি মুচনী রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় ডাকাত দলের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে নুর কামাল নামে এক রোহিঙ্গা ডাকাত নিহত হন। ঘটনার পাঁচ দিন পর, ১৩ জানুয়ারি নিহতের মা হামিদা বেগম বাদী হয়ে টেকনাফ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে ১০ জনকে নামীয় ও ৪–৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি দেখানো হয়। এর মধ্যে ৯ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয় জামাল হোছন ডাকাত (৩৩), পিতা আব্দুল গফুর, সাং-পুর্ব লেদা। তবে একই নামের আরেক ব্যক্তি—জামাল হোছন—উক্ত ঠিকানার লেদা পুচিঙ্গাপাড়া নতুন জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ও খাদেম হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।এলাকাবাসীর দাবি, মসজিদের মুয়াজ্জিন জামাল হোছন পাশ্ববর্তী একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি এনজিওতে কর্মরত। চাকরি শেষে তিনি নিয়মিত মসজিদে আজান দেন ও নামাজে সময় কাটান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি একজন শান্ত, ভদ্র ও ধর্মপরায়ণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তার কিংবা পরিবারের কারো বিরুদ্ধে থানায় বা আদালতে কোনো মামলা-মোকদ্দমা নেই বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে মামলার বাদী হামিদা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি মসজিদের মুয়াজ্জিন জামাল হোছনকে আসামি করেননি। লোকজনের প্ররোচনায় নামের মিল থাকায় ভুলবশত এমনটি হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। তিনি আরও জানান, নিরীহ মুয়াজ্জিনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবেন। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। লেদা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, জামাল হোছন অত্যন্ত শান্ত ও নম্র প্রকৃতির একজন মানুষ। তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত তাকে মিথ্যা মামলা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান তিনি। হ্নীলা ইউনিয়ন দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক সেলিম সর্দার ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি এবিএম জাফরুল ইসলামও একই দাবি জানিয়ে বলেন, নামের মিলকে কেন্দ্র করে একজন মসজিদের মুয়াজ্জিনকে হত্যা মামলায় জড়ানো অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। লেদা ইবনে আব্বাস মাদরাসার মুহতামিম আলহাজ্ব মাওলানা ক্বারী শাকের আহমদ বলেন, “নামের মিল থাকতে পারে, কিন্তু তাই বলে একজন নিরীহ মুয়াজ্জিনকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে হত্যা মামলায় আসামি করা ভয়াবহ নজির।”এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে নিরীহ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে গুরুত্বসহকারে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

হোয়াইকং লম্বাবিল মাদ্রাসায় ইফতার মাহফিলে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন টেকনাফ উপজেলা যুবদলের সা: সম্পাদক জুনায়েদ আলী চৌধুরী

নামের মিলেই টেকনাফে মসজিদের মুয়াজ্জিন হত্যা মামলার আসামি

আপডেট সময় : ০৩:২১:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

 

নামের মিলের জেরে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নে একটি মসজিদের মুয়াজ্জিনকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে হত্যা মামলায় আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে নিরীহ ওই মুয়াজ্জিনকে মামলা থেকে অব্যাহতির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জানুয়ারি মুচনী রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় ডাকাত দলের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে নুর কামাল নামে এক রোহিঙ্গা ডাকাত নিহত হন। ঘটনার পাঁচ দিন পর, ১৩ জানুয়ারি নিহতের মা হামিদা বেগম বাদী হয়ে টেকনাফ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে ১০ জনকে নামীয় ও ৪–৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি দেখানো হয়। এর মধ্যে ৯ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয় জামাল হোছন ডাকাত (৩৩), পিতা আব্দুল গফুর, সাং-পুর্ব লেদা। তবে একই নামের আরেক ব্যক্তি—জামাল হোছন—উক্ত ঠিকানার লেদা পুচিঙ্গাপাড়া নতুন জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ও খাদেম হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।এলাকাবাসীর দাবি, মসজিদের মুয়াজ্জিন জামাল হোছন পাশ্ববর্তী একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি এনজিওতে কর্মরত। চাকরি শেষে তিনি নিয়মিত মসজিদে আজান দেন ও নামাজে সময় কাটান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি একজন শান্ত, ভদ্র ও ধর্মপরায়ণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তার কিংবা পরিবারের কারো বিরুদ্ধে থানায় বা আদালতে কোনো মামলা-মোকদ্দমা নেই বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে মামলার বাদী হামিদা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি মসজিদের মুয়াজ্জিন জামাল হোছনকে আসামি করেননি। লোকজনের প্ররোচনায় নামের মিল থাকায় ভুলবশত এমনটি হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। তিনি আরও জানান, নিরীহ মুয়াজ্জিনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবেন। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। লেদা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, জামাল হোছন অত্যন্ত শান্ত ও নম্র প্রকৃতির একজন মানুষ। তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত তাকে মিথ্যা মামলা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান তিনি। হ্নীলা ইউনিয়ন দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক সেলিম সর্দার ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি এবিএম জাফরুল ইসলামও একই দাবি জানিয়ে বলেন, নামের মিলকে কেন্দ্র করে একজন মসজিদের মুয়াজ্জিনকে হত্যা মামলায় জড়ানো অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। লেদা ইবনে আব্বাস মাদরাসার মুহতামিম আলহাজ্ব মাওলানা ক্বারী শাকের আহমদ বলেন, “নামের মিল থাকতে পারে, কিন্তু তাই বলে একজন নিরীহ মুয়াজ্জিনকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে হত্যা মামলায় আসামি করা ভয়াবহ নজির।”এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে নিরীহ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে গুরুত্বসহকারে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।