ফরহাদ রহমান,স্টাফ রিপোর্টার কক্সবাজার: সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক ও চোরাচালান দমনে গত এক বছরে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)। প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ব্যাটালিয়নটি দেশপ্রেম, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
“সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী” মূলমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন উখিয়া ও টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, নাফ নদী তীরবর্তী জলাভূমি এবং স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালন করছে এই ব্যাটালিয়ন। ২০২৫ সালের ১ মার্চ নবগঠিত ব্যাটালিয়নটি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
ব্যাটালিয়নের তথ্যমতে, গত এক বছরে ১৭৫টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ১২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রায় ১৭৫ কোটিরও বেশি টাকার ইয়াবা, গাঁজা, ক্যান বিয়ারসহ বিভিন্ন মাদক ও চোরাচালান সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ১ হাজার ৩৯০ জন অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারী মিয়ানমারের নাগরিককে প্রতিরোধ করে নিরাপদে স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ একজন সদস্যকে বিজিবিএম পদক, একজনকে বিজিবিএমএস পদক, একজনকে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার এবং একটি প্রশিক্ষিত কুকুরকে বিজিবি কে-নাইন পদকে ভূষিত করেছে।
সীমান্ত এলাকায় মানবিক কার্যক্রমও পরিচালনা করছে ব্যাটালিয়নটি। দুঃস্থ মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ, শীতবস্ত্র প্রদান এবং বন্যাদুর্গতদের সহায়তা করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের দুর্গাপূজা, বৌদ্ধ পূর্ণিমা এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেছে বিজিবি সদস্যরা।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “আমরা শুধু সীমান্ত পাহারা দিই না, জনগণের আস্থা অর্জন করাও আমাদের লক্ষ্য। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্ত অপরাধ দমনে আমরা সবসময় প্রস্তুত।”
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই মুহূর্তে ব্যাটালিয়নের সদস্যরা দেশপ্রেম, সততা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
প্রতিনিধির নাম 













