মোরশেদুল আলম, সাতকনিয়া চট্রগ্রাম: স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্যে দিন-রাত মাটি কাটা ও ট্রাকভর্তি করে সরবরাহ চললেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করা যাচ্ছে না।
সম্প্রতি সাতকানিয়া আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী কৃষিজমির টপসয়েল কাটার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেন। তিনি প্রশাসনকে বিষয়টি কঠোরভাবে নজরদারির নির্দেশ দেন। কিন্তু বাস্তবে মাঠপর্যায়ে সেই নির্দেশনার প্রতিফলন খুব একটা দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে ট্রাক ও ডাম্পারযোগে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। এসব মাটি মূলত ইটভাটা, ভরাট কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, জমির উর্বর টপসয়েল কেটে নেওয়ায় ধীরে ধীরে ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় জমি গভীর গর্তে পরিণত হয়েছে, ফলে ভবিষ্যতে সেখানে চাষাবাদ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এতে কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিংবা প্রভাব খাটিয়ে অবাধে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে গভীর রাতেও ট্রাকভর্তি মাটি বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সচেতন মহল বলছে, কৃষিজমির টপসয়েল কাটা অব্যাহত থাকলে তা শুধু কৃষির জন্যই নয়, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তাই দ্রুত অভিযান চালিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষিজমির মাটি কাটার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, সংসদ সদস্যের কঠোর ঘোষণার পরও যদি অবৈধ মাটিকাটা বন্ধ না হয়, তাহলে এর পেছনে কারা জড়িত এবং কেন প্রশাসনিক নজরদারি কার্যকর হচ্ছে না—তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
📌 সচেতন মহলের মতে, কৃষিজমি রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এর ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে কৃষি ও পরিবেশে।
প্রতিনিধির নাম 


















