ঢাকা ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ছাত্রদলের দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের নতুন আমির হলেন এ আর হাফিজ উল্লাহ টেকনাফে মানব পাচারকারীদের আস্তানায় অভিযান: সেনাসদস্য নিহত মিরপুরে পুলিশের ওপর হামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক নেতার অনুসারীদের জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে ডিবি তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ছাড়ছেন আমির খান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু শ্রমিকরা কাজে ফেরায় শিল্পাঞ্চলে ফিরছে স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য হরমুজে মাইন বিস্ফোরণে আরও দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন তিন স্পিনার খেলানোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেন তাসকিন মার্কিন ফার্স্ট লেডিকে ইউক্রেনের বেসামরিক সম্মাননা প্রদান

গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা চায় সরকার

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৮:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৫৩ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাতিল করে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম করতে চায় সরকার। তারা গুম ও স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় আসার পর তাদের মুখোশ উন্মোচন হচ্ছে। অথচ বিগত দিনে ইলিয়াস আলীসহ তাদের অনেক নেতাকর্মীই গুম হয়েছে। আমরা মনে করি, বিচারপতি নিয়োগসহ সামগ্রিকভাবে বিএনপি একটি সংস্কারবিরোধী দল।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে সৌদি আরব থেকে পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তাকে স্বাগত জানান, দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিবসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

নাহিদ বলেন, গত ১৬ বছরে বিএনপির আন্দোলনে দেশের মানুষ সাড়া দেয়নি। কারণ তাদের সব কর্মসূচি ছিল দলীয়। তারা জনগণের আন্দোলন করতে পারেনি। তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব ছিল দেশের বাইরে। তাই তাদের নেতাদের প্রতি মানুষের আস্থা ছিল না। কারণ তারা জানতো বিএনপি আসলে মৌলিক সংস্কার হবে না। নির্বাচনের পর ঠিকই তাদের মুখোশ উন্মোচন হচ্ছে।

তিনি বলেন, কোনও কিছুকেই তোয়াক্কা করছে না ক্ষমতাসীন দল। প্রথমত গণভোটের গণরায়কে তারা বাতিল করেছে। সংস্কার প্রশ্নে নতুন নতুন অজুহাত দিচ্ছে। অথচ দেশের ৭০ শতাংশ জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। সংস্কারকে কেন্দ্র করে দেশে যা হচ্ছে, তা খুবই অপ্রত্যাশিত। আসলে এই ধারণা ঐকমত্য কমিশন ও ৫ আগস্টের পর থেকেই শুরু হয়েছে। কারণ আমরা বারবার সংস্কারে জোর দিলেও তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল নির্বাচন করে ক্ষমতায় বসে যাওয়া। আর আমরা বলেছিলাম, শুধু ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্যই গণঅভ্যুত্থান হয়নি। নেতৃত্বের আমূল সংস্কারের জন্যই ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে। আমরা আসা করবো, তারা মানুষের অনুভূতিকে বিবেচনায় নেবে। না হলে জনগণের জন্য আমরা আমাদের করণীয় নির্ধারণ করে এগিয়ে যাব।

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, জাতীয় সংসদে এক ধরনের নাটক হচ্ছে। সংসদে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিয়েছেন। অথচ এই রাষ্ট্রপতির থাকারই কথা না। আমরা মনে করি, সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনে গণপরিষদ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সম্ভাব্য অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলা করতে রাজনৈতিক ঐক্য জরুরি। না হলে সরকার টিকবে না। অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তর করতে হবে। এসব অধ্যাদেশে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলদের কাজ করতে হবে। নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপির হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে গেলে হবে না।’

তিনি অভিযোগ করেন, নিয়ম কানুনের বেড়াজালে মূল আলোচনা থেকে সবাই সরে যাচ্ছে। এসব কারণে আমরা রাজপথে নেমেছি।

এর আগে রোববার (২৯ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টা ১৯ মিনিটে স্ত্রীকে নিয়ে সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন নাহিদ।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্রদলের দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে

গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা চায় সরকার

আপডেট সময় : ০৯:০৮:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাতিল করে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম করতে চায় সরকার। তারা গুম ও স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় আসার পর তাদের মুখোশ উন্মোচন হচ্ছে। অথচ বিগত দিনে ইলিয়াস আলীসহ তাদের অনেক নেতাকর্মীই গুম হয়েছে। আমরা মনে করি, বিচারপতি নিয়োগসহ সামগ্রিকভাবে বিএনপি একটি সংস্কারবিরোধী দল।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে সৌদি আরব থেকে পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তাকে স্বাগত জানান, দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিবসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

নাহিদ বলেন, গত ১৬ বছরে বিএনপির আন্দোলনে দেশের মানুষ সাড়া দেয়নি। কারণ তাদের সব কর্মসূচি ছিল দলীয়। তারা জনগণের আন্দোলন করতে পারেনি। তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব ছিল দেশের বাইরে। তাই তাদের নেতাদের প্রতি মানুষের আস্থা ছিল না। কারণ তারা জানতো বিএনপি আসলে মৌলিক সংস্কার হবে না। নির্বাচনের পর ঠিকই তাদের মুখোশ উন্মোচন হচ্ছে।

তিনি বলেন, কোনও কিছুকেই তোয়াক্কা করছে না ক্ষমতাসীন দল। প্রথমত গণভোটের গণরায়কে তারা বাতিল করেছে। সংস্কার প্রশ্নে নতুন নতুন অজুহাত দিচ্ছে। অথচ দেশের ৭০ শতাংশ জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। সংস্কারকে কেন্দ্র করে দেশে যা হচ্ছে, তা খুবই অপ্রত্যাশিত। আসলে এই ধারণা ঐকমত্য কমিশন ও ৫ আগস্টের পর থেকেই শুরু হয়েছে। কারণ আমরা বারবার সংস্কারে জোর দিলেও তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল নির্বাচন করে ক্ষমতায় বসে যাওয়া। আর আমরা বলেছিলাম, শুধু ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্যই গণঅভ্যুত্থান হয়নি। নেতৃত্বের আমূল সংস্কারের জন্যই ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে। আমরা আসা করবো, তারা মানুষের অনুভূতিকে বিবেচনায় নেবে। না হলে জনগণের জন্য আমরা আমাদের করণীয় নির্ধারণ করে এগিয়ে যাব।

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, জাতীয় সংসদে এক ধরনের নাটক হচ্ছে। সংসদে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিয়েছেন। অথচ এই রাষ্ট্রপতির থাকারই কথা না। আমরা মনে করি, সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনে গণপরিষদ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সম্ভাব্য অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলা করতে রাজনৈতিক ঐক্য জরুরি। না হলে সরকার টিকবে না। অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তর করতে হবে। এসব অধ্যাদেশে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলদের কাজ করতে হবে। নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপির হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে গেলে হবে না।’

তিনি অভিযোগ করেন, নিয়ম কানুনের বেড়াজালে মূল আলোচনা থেকে সবাই সরে যাচ্ছে। এসব কারণে আমরা রাজপথে নেমেছি।

এর আগে রোববার (২৯ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টা ১৯ মিনিটে স্ত্রীকে নিয়ে সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন নাহিদ।