ঢাকা ১২:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা কামনা জ্বালানি মন্ত্রীর জ্বালানি ও জলবায়ু প্রকল্পে বাংলাদেশকে বাজেট সহায়তা দেবে এআইআইবি : অর্থমন্ত্রী টেকনাফে সাবেক মেম্বার দিলদার আহমদের মৃত্যুতে এমপি শাহজাহান চৌধুরীর শোক উখিয়ার পালংখালীতে চাঞ্চল্যকর হামলার মূলহোতা গ্রেপ্তার কেরানীগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক, তদন্ত ও সহায়তার নির্দেশ সরকারি জলমহাল ইজারায় প্রকৃত জেলেদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা হবে: ভূমিমন্ত্রী এক ঘণ্টা কমিয়ে ব্যাংক লেনদেন ১০টা থেকে ৩টা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা চায় সরকার যশোর শিক্ষা বোর্ড : এইচএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়নে ৫২৫৫ পরীক্ষক পাচ্ছেন প্রায় ৮ কোটি টাকা বালিয়াকান্দিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণের ঘর ভেঙে পড়ে কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যু

গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা চায় সরকার

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৮:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাতিল করে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম করতে চায় সরকার। তারা গুম ও স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় আসার পর তাদের মুখোশ উন্মোচন হচ্ছে। অথচ বিগত দিনে ইলিয়াস আলীসহ তাদের অনেক নেতাকর্মীই গুম হয়েছে। আমরা মনে করি, বিচারপতি নিয়োগসহ সামগ্রিকভাবে বিএনপি একটি সংস্কারবিরোধী দল।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে সৌদি আরব থেকে পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তাকে স্বাগত জানান, দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিবসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

নাহিদ বলেন, গত ১৬ বছরে বিএনপির আন্দোলনে দেশের মানুষ সাড়া দেয়নি। কারণ তাদের সব কর্মসূচি ছিল দলীয়। তারা জনগণের আন্দোলন করতে পারেনি। তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব ছিল দেশের বাইরে। তাই তাদের নেতাদের প্রতি মানুষের আস্থা ছিল না। কারণ তারা জানতো বিএনপি আসলে মৌলিক সংস্কার হবে না। নির্বাচনের পর ঠিকই তাদের মুখোশ উন্মোচন হচ্ছে।

তিনি বলেন, কোনও কিছুকেই তোয়াক্কা করছে না ক্ষমতাসীন দল। প্রথমত গণভোটের গণরায়কে তারা বাতিল করেছে। সংস্কার প্রশ্নে নতুন নতুন অজুহাত দিচ্ছে। অথচ দেশের ৭০ শতাংশ জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। সংস্কারকে কেন্দ্র করে দেশে যা হচ্ছে, তা খুবই অপ্রত্যাশিত। আসলে এই ধারণা ঐকমত্য কমিশন ও ৫ আগস্টের পর থেকেই শুরু হয়েছে। কারণ আমরা বারবার সংস্কারে জোর দিলেও তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল নির্বাচন করে ক্ষমতায় বসে যাওয়া। আর আমরা বলেছিলাম, শুধু ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্যই গণঅভ্যুত্থান হয়নি। নেতৃত্বের আমূল সংস্কারের জন্যই ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে। আমরা আসা করবো, তারা মানুষের অনুভূতিকে বিবেচনায় নেবে। না হলে জনগণের জন্য আমরা আমাদের করণীয় নির্ধারণ করে এগিয়ে যাব।

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, জাতীয় সংসদে এক ধরনের নাটক হচ্ছে। সংসদে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিয়েছেন। অথচ এই রাষ্ট্রপতির থাকারই কথা না। আমরা মনে করি, সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনে গণপরিষদ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সম্ভাব্য অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলা করতে রাজনৈতিক ঐক্য জরুরি। না হলে সরকার টিকবে না। অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তর করতে হবে। এসব অধ্যাদেশে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলদের কাজ করতে হবে। নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপির হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে গেলে হবে না।’

তিনি অভিযোগ করেন, নিয়ম কানুনের বেড়াজালে মূল আলোচনা থেকে সবাই সরে যাচ্ছে। এসব কারণে আমরা রাজপথে নেমেছি।

এর আগে রোববার (২৯ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টা ১৯ মিনিটে স্ত্রীকে নিয়ে সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন নাহিদ।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা কামনা জ্বালানি মন্ত্রীর

গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা চায় সরকার

আপডেট সময় : ০৯:০৮:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাতিল করে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম করতে চায় সরকার। তারা গুম ও স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় আসার পর তাদের মুখোশ উন্মোচন হচ্ছে। অথচ বিগত দিনে ইলিয়াস আলীসহ তাদের অনেক নেতাকর্মীই গুম হয়েছে। আমরা মনে করি, বিচারপতি নিয়োগসহ সামগ্রিকভাবে বিএনপি একটি সংস্কারবিরোধী দল।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে সৌদি আরব থেকে পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তাকে স্বাগত জানান, দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিবসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

নাহিদ বলেন, গত ১৬ বছরে বিএনপির আন্দোলনে দেশের মানুষ সাড়া দেয়নি। কারণ তাদের সব কর্মসূচি ছিল দলীয়। তারা জনগণের আন্দোলন করতে পারেনি। তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব ছিল দেশের বাইরে। তাই তাদের নেতাদের প্রতি মানুষের আস্থা ছিল না। কারণ তারা জানতো বিএনপি আসলে মৌলিক সংস্কার হবে না। নির্বাচনের পর ঠিকই তাদের মুখোশ উন্মোচন হচ্ছে।

তিনি বলেন, কোনও কিছুকেই তোয়াক্কা করছে না ক্ষমতাসীন দল। প্রথমত গণভোটের গণরায়কে তারা বাতিল করেছে। সংস্কার প্রশ্নে নতুন নতুন অজুহাত দিচ্ছে। অথচ দেশের ৭০ শতাংশ জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। সংস্কারকে কেন্দ্র করে দেশে যা হচ্ছে, তা খুবই অপ্রত্যাশিত। আসলে এই ধারণা ঐকমত্য কমিশন ও ৫ আগস্টের পর থেকেই শুরু হয়েছে। কারণ আমরা বারবার সংস্কারে জোর দিলেও তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল নির্বাচন করে ক্ষমতায় বসে যাওয়া। আর আমরা বলেছিলাম, শুধু ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্যই গণঅভ্যুত্থান হয়নি। নেতৃত্বের আমূল সংস্কারের জন্যই ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে। আমরা আসা করবো, তারা মানুষের অনুভূতিকে বিবেচনায় নেবে। না হলে জনগণের জন্য আমরা আমাদের করণীয় নির্ধারণ করে এগিয়ে যাব।

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, জাতীয় সংসদে এক ধরনের নাটক হচ্ছে। সংসদে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিয়েছেন। অথচ এই রাষ্ট্রপতির থাকারই কথা না। আমরা মনে করি, সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনে গণপরিষদ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সম্ভাব্য অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলা করতে রাজনৈতিক ঐক্য জরুরি। না হলে সরকার টিকবে না। অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তর করতে হবে। এসব অধ্যাদেশে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলদের কাজ করতে হবে। নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপির হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে গেলে হবে না।’

তিনি অভিযোগ করেন, নিয়ম কানুনের বেড়াজালে মূল আলোচনা থেকে সবাই সরে যাচ্ছে। এসব কারণে আমরা রাজপথে নেমেছি।

এর আগে রোববার (২৯ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টা ১৯ মিনিটে স্ত্রীকে নিয়ে সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন নাহিদ।