ঢাকা ১২:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হাটহাজারীতে গোলা বিস্ফোরণে শহীদ সেনাসদস্যদের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে শিশুদের সম্ভাবনা বিকশিত করতে মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জুবাইদা রহমানের উখিয়ায় ১ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবাসহ দুইজন আটক চকরিয়ায় পুলিশের অভিযানে বিপুল অস্ত্র-গুলি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৬ টেকনাফ লেদায় পুলিশ অ্যাসল্ট মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার ১১তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ – বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ রাজনীতির মহাপুরুষ সৈয়দ মহসিন আলী নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে যানজট,সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও সম্মিলিত উদ্যোগেই সম্ভব যানজটমুক্ত নগর’ -এসপি হাবিবুর রহমান বরুড়ায় সরকারি জায়গায় অনুমতি ছাড়াই গাছ কাটার অভিযোগ বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক সাময়িক বরখাস্ত

ভোলায় থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ঈমনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন গণমাধ্যমকর্মীরা

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০১:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫
  • ২০১ বার পড়া হয়েছে

ভোলা প্রতিনিধি: জেলায় দুরারোগ্য ‘থ্যালাসেমিয়া’ রোগে আক্রান্ত মো. ঈমন (১৮)। দরিদ্র রিকশাচালক বাবা তার ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিজের জমি ও বসতভিটা বিক্রি করেছেন বহু আগেই। নিজেদের বাড়ি-ঘর নেই। অন্যের বাড়িতে ভাড়া থাকেন ঈমনের পরিবার। অর্থকষ্টে জর্জরিত, তাই ছেলের চিকিৎসা করাতে হিমসিম খাচ্ছেন। অভাবের সংসারে যেখানে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়, সেখানে ছেলের চিকিৎসা তো দু:স্বপ্ন। ফলে চিকিৎসা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। অবশেষে অসুস্থ ঈমনের পাশে দাঁড়িয়েছেন ভোলার গণমাধ্যমকর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈমন ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের মহাজনের পোল এলাকার রিক্সাচালক আবুল বাশার মিয়ার ছেলে। বর্তমানে ওই এলাকার লাল মিয়া হাওলাদার বাড়িতে ভাড়া থাকেন তার পরিবার।

অসুস্থ্য ঈমন জানান, তারা এক ভাই এক বোন। প্রায় ৭/৮ বছর আগে তার থ্যালাসেমিয়া রোগটি ধরা পরে। পরে তার বাবা রিক্সা চালানোর আয় দিয়ে ভোলা, বরিশাল ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে তার চিকিৎসা করিয়েছেন। চিকিৎসার খরচ জোগাতে তার বাবা বহু আগেই জমি ও শেষ সম্বল বসতভিটা বিক্রি করে এ পর্যন্ত ১০/১২ লাখ টাকা খরচ করেছেন। এরপর তার বাবা রিক্সা চালানোর সামান্য আয় দিয়ে আর চিকিৎসা করাতে পারছিল না। তাই বাধ্য হয়ে ঈমন কয়েক বছর আগে ভোলা শহরের কাঁচা বাজারের একটি ডিমের দোকানে চাকরি নেন। সেখানে সে মাসে ৮ হাজার টাকা বেতন পান।

ঈমন আরো জানান, তার প্রতি মাসে দুই হাজার টাকার ওষুধ লাগে। প্রতি মাসেই ডাক্তার ও শরীরের বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে হয় এবং প্রতি ৩/৪ মাসে তার শরীরে রক্ত দিতে হয়। সব মিলে বহু খরচ গুনতে হয় তার পরিবারকে। কিন্ত রিকশাচালক বাবার আয় ও তার বেতনের টাকায় বর্তমানে চিকিৎসা করাতে হিমশিম খাচ্ছিল। এখন চিকিৎসা প্রায় বন্ধের পথে।

ঈমন জানান, এরই মধ্যে একদিন ডিম কিনতে গেলে পরিচয় হয় “ভোলা জার্নালিস্ট ফোরাম” সভাপতি মো. শাহিন কাদেরের সাথে। তিনি আমার কাছে জানতে চাইলে আমি তাকে সব জানাই। এরপর তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, আমার চিকিৎসার সব খরচ বহনের। এখন তারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমি ও আমার পরিবার তার কাছে কৃতজ্ঞ। তাদের জন্য আমি ও আমার পরিবার অনেক অনেক দোয়া করি।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় ভোলা জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি মো. শাহিন কাদেরের সাথে। তিনি জানান, শনিবার (৪ অক্টোবর) থেকে আমিসহ আমার সংগঠনের সকল সদস্য গণমাধ্যমকর্মীরা ঈমনের পাশে রয়েছি। তার চিকিৎসা, ওষুধসহ যাবতীয় খরচ আমরা ভোলা জার্নালিস্ট ফোরামের সকল সদস্য বহন করবো এবং আগামী ৬ মাসের মধ্যে আমরা ঈমনকে ঢাকা নিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করবো। তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ্য করে তোলার জন্য যা যা করা দরকার আমরা তা-ই করবো।

এদিকে শনিবার ঈমনকে রক্ত দিয়ে মানবিক মূল্যবোধ দেখান গণমাধ্যমকর্মী শাহিন কাদের। সাংবাদিক শাহিন কাদের বলেন, আমি এক ব্যাগ রক্ত দিয়েছি। পরবর্তীতে আমাদের সংগঠনের যাদের রক্তের গ্রুপ এ পজেটিভ তারা সবাই ঈমনকে রক্ত দেবো বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান হোসেন জানান, আমাদের সভাপতির মাধ্যমে ৪/৫ দিন আগে ঈমনের বিষয়টি জানতে পেরে আমরা মিটিং ডেকে সবাই মিলে সামর্থ অনুয়ায়ী সহযোগিতা শুরু করেছি। এই সহযোগিতা অব্যহত থাকবে।

অসুস্থ ঈমনের চিকিৎসার সব দায়িত্ব নিয়ে ভোলার গণমাধ্যমকর্মীরা এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় বিত্ত্ববানদের অনেকেই ঈমনের জন্য সহায়তার আশ্বাস দেন।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাটহাজারীতে গোলা বিস্ফোরণে শহীদ সেনাসদস্যদের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা

ভোলায় থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ঈমনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন গণমাধ্যমকর্মীরা

আপডেট সময় : ১০:০১:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫

ভোলা প্রতিনিধি: জেলায় দুরারোগ্য ‘থ্যালাসেমিয়া’ রোগে আক্রান্ত মো. ঈমন (১৮)। দরিদ্র রিকশাচালক বাবা তার ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিজের জমি ও বসতভিটা বিক্রি করেছেন বহু আগেই। নিজেদের বাড়ি-ঘর নেই। অন্যের বাড়িতে ভাড়া থাকেন ঈমনের পরিবার। অর্থকষ্টে জর্জরিত, তাই ছেলের চিকিৎসা করাতে হিমসিম খাচ্ছেন। অভাবের সংসারে যেখানে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়, সেখানে ছেলের চিকিৎসা তো দু:স্বপ্ন। ফলে চিকিৎসা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। অবশেষে অসুস্থ ঈমনের পাশে দাঁড়িয়েছেন ভোলার গণমাধ্যমকর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈমন ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের মহাজনের পোল এলাকার রিক্সাচালক আবুল বাশার মিয়ার ছেলে। বর্তমানে ওই এলাকার লাল মিয়া হাওলাদার বাড়িতে ভাড়া থাকেন তার পরিবার।

অসুস্থ্য ঈমন জানান, তারা এক ভাই এক বোন। প্রায় ৭/৮ বছর আগে তার থ্যালাসেমিয়া রোগটি ধরা পরে। পরে তার বাবা রিক্সা চালানোর আয় দিয়ে ভোলা, বরিশাল ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে তার চিকিৎসা করিয়েছেন। চিকিৎসার খরচ জোগাতে তার বাবা বহু আগেই জমি ও শেষ সম্বল বসতভিটা বিক্রি করে এ পর্যন্ত ১০/১২ লাখ টাকা খরচ করেছেন। এরপর তার বাবা রিক্সা চালানোর সামান্য আয় দিয়ে আর চিকিৎসা করাতে পারছিল না। তাই বাধ্য হয়ে ঈমন কয়েক বছর আগে ভোলা শহরের কাঁচা বাজারের একটি ডিমের দোকানে চাকরি নেন। সেখানে সে মাসে ৮ হাজার টাকা বেতন পান।

ঈমন আরো জানান, তার প্রতি মাসে দুই হাজার টাকার ওষুধ লাগে। প্রতি মাসেই ডাক্তার ও শরীরের বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে হয় এবং প্রতি ৩/৪ মাসে তার শরীরে রক্ত দিতে হয়। সব মিলে বহু খরচ গুনতে হয় তার পরিবারকে। কিন্ত রিকশাচালক বাবার আয় ও তার বেতনের টাকায় বর্তমানে চিকিৎসা করাতে হিমশিম খাচ্ছিল। এখন চিকিৎসা প্রায় বন্ধের পথে।

ঈমন জানান, এরই মধ্যে একদিন ডিম কিনতে গেলে পরিচয় হয় “ভোলা জার্নালিস্ট ফোরাম” সভাপতি মো. শাহিন কাদেরের সাথে। তিনি আমার কাছে জানতে চাইলে আমি তাকে সব জানাই। এরপর তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, আমার চিকিৎসার সব খরচ বহনের। এখন তারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমি ও আমার পরিবার তার কাছে কৃতজ্ঞ। তাদের জন্য আমি ও আমার পরিবার অনেক অনেক দোয়া করি।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় ভোলা জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি মো. শাহিন কাদেরের সাথে। তিনি জানান, শনিবার (৪ অক্টোবর) থেকে আমিসহ আমার সংগঠনের সকল সদস্য গণমাধ্যমকর্মীরা ঈমনের পাশে রয়েছি। তার চিকিৎসা, ওষুধসহ যাবতীয় খরচ আমরা ভোলা জার্নালিস্ট ফোরামের সকল সদস্য বহন করবো এবং আগামী ৬ মাসের মধ্যে আমরা ঈমনকে ঢাকা নিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করবো। তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ্য করে তোলার জন্য যা যা করা দরকার আমরা তা-ই করবো।

এদিকে শনিবার ঈমনকে রক্ত দিয়ে মানবিক মূল্যবোধ দেখান গণমাধ্যমকর্মী শাহিন কাদের। সাংবাদিক শাহিন কাদের বলেন, আমি এক ব্যাগ রক্ত দিয়েছি। পরবর্তীতে আমাদের সংগঠনের যাদের রক্তের গ্রুপ এ পজেটিভ তারা সবাই ঈমনকে রক্ত দেবো বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান হোসেন জানান, আমাদের সভাপতির মাধ্যমে ৪/৫ দিন আগে ঈমনের বিষয়টি জানতে পেরে আমরা মিটিং ডেকে সবাই মিলে সামর্থ অনুয়ায়ী সহযোগিতা শুরু করেছি। এই সহযোগিতা অব্যহত থাকবে।

অসুস্থ ঈমনের চিকিৎসার সব দায়িত্ব নিয়ে ভোলার গণমাধ্যমকর্মীরা এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় বিত্ত্ববানদের অনেকেই ঈমনের জন্য সহায়তার আশ্বাস দেন।