ঢাকা ১২:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য রুখতে নারায়ণগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের মোটরসাইকেল টহল সিদ্ধিরগঞ্জে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার রোষানলে সাধারণ মানুষ: ভাঙচুর ও সাংবাদিকের সাথে অসদাচরণের অভিযোগ সিদ্ধিরগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত আ’লীগের নাশকতার প্রতিবাদে মহানগর যুবদলের বিশাল মোটরসাইকেল মহড়া সিদ্ধিরগঞ্জে সুন্দর সিদ্ধিরগঞ্জ গঠন ও আমাদের করণীয়” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রেসক্লাব যশোর, নির্বাচনে টুকুন সভাপতি নূর ইসলাম সাধারণ সম্পাদক উখিয়ার সীমান্তে ৪০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার যশোরের শার্শায় ৩৫ বিঘার মাছের ঘের নিয়ে বিরোধ : প্রাণভয়ে বাড়িছাড়া ব্যবসায়ী যশোরের শার্শায় পাটের বাম্পার ফলন ও ভালো দামে খুশি চাষিরা কালাপাহাড়িয়ায় চেয়ারম্যান পদে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী গোলাম মোস্তফা সিরাজী বেনাপোলে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার

টেকনাফে জিরো পয়েন্টের শাপলায় ফিরছে নতুন প্রাণ: পর্যটন নগরীর প্রবেশদ্বারে সাজের ছোঁয়া

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০৩:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৬৯ বার পড়া হয়েছে

“নতুন রূপে গড়ে উঠছে টেকনাফের ঐতিহ্যবাহী শাপলা চত্ত্বর—যেখানে ইতিহাস, সংস্কৃতি আর আধুনিক নান্দনিকতার মেলবন্ধন।”

ফরহাদ রহমান: বাংলাদেশের দক্ষিণ প্রান্তের শেষ সীমান্ত শহর টেকনাফ—যেখানে স্থলভাগ শেষ হয়ে সাগরের সঙ্গে মিশেছে। আর সেই অনন্য শহরের প্রবেশদ্বার ‘জিরো পয়েন্ট’ ও শাপলা চত্ত্বর দীর্ঘদিন ধরে ছিল অবহেলিত, নিস্তেজ এক স্মৃতি। সময়ের ধুলো জমে ঢেকে দিয়েছিল এক সময়ের গৌরবময় এই প্রতীকটিকে। কিন্তু এবার সেই চিত্র পাল্টাতে শুরু করেছে—ফিরে আসছে প্রাণ, আলো আর সৌন্দর্যের ছোঁয়া।

টেকনাফ পৌরসভা হাতে নিয়েছে ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনাটির সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প। স্থানীয় মানুষের বহুদিনের দাবি পূরণে শুরু হয়েছে নতুন নকশায় শাপলা চত্ত্বর পুনর্নির্মাণের কাজ, যা সম্পন্ন হলে টেকনাফের সৌন্দর্যে যুক্ত হবে নতুন মাত্রা।

শিল্পী কুয়াশা বিন্দুর সৃজনশীল নকশায় গড়ে উঠছে নতুন শাপলা চত্ত্বর। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এতে থাকবে একটি ঝলমলে ওয়াটার বডি, নান্দনিক ফোয়ারা এবং রাতে আলোকসজ্জার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। শাপলার চারপাশের দেয়ালে খোদাই করা হবে টেকনাফের ঐতিহ্যবাহী প্রতীকগুলো—মাছ, শুটকি, সাম্পান, সাগর, লবণচাষ ও সুপারি—যা বহন করবে এই অঞ্চলের জীবন ও সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি। আর সেই ঐতিহ্যের মাঝে জ্বলজ্বল করবে লেখা—“টেকনাফ ০ কিমি”, যা প্রতিটি ভ্রমণপিপাসুর কাছে এক গর্বের ঠিকানা হয়ে উঠবে।

দেশের নানা প্রান্ত থেকে আগত পর্যটকরা প্রায়ই এই জিরো পয়েন্টে এসে ছবি তোলেন, কারণ এখান থেকেই শুরু হয় বাংলাদেশের দক্ষিণতম ভ্রমণপথ। পর্যটকরা জানান, যদি শাপলা চত্ত্বরটি নতুন করে সাজানো হয়, তাহলে এটি কক্সবাজার থেকে টেকনাফগামী পর্যটন রুটে একটি প্রধান আকর্ষণীয় স্পট হয়ে উঠবে।

টেকনাফ পৌরসভা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পৌরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কাজের সার্বিক তদারকিতে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক জনাব শেখ এহসান উদ্দীন। তিনি বলেন, “এই প্রকল্প শেষ হলে টেকনাফের মুখচ্ছবি বদলে যাবে। পর্যটকরা টেকনাফে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই অনুভব করবেন এক ভিন্ন ধরনের স্বাগত।”

সংস্কারকাজের সময় যাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি না হয়, সে জন্য পৌর ট্রাফিক বিভাগও কাজ করছে সক্রিয়ভাবে। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

টেকনাফের স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা আলহাজ মো. ছালেহ আহমদ জানান, “আমাদের শাপলা চত্ত্বর এক সময় টেকনাফের গর্ব ছিল। বহু বছর পরে আবার সেটি নতুন করে গড়ে উঠছে, এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।”

পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, শাপলা চত্ত্বর পুনর্নির্মাণ হলে শুধু শহরের সৌন্দর্যই বাড়বে না, এতে টেকনাফের স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

নভেম্বর মাসের শেষ নাগাদ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রশাসক জনাব শেখ এহসান উদ্দীন। কাজ শেষ হলে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের প্রস্তুতিও নেওয়া হবে।

টেকনাফের মানুষ এখন সেই দিনের অপেক্ষায়—যেদিন আলো ঝলমলে শাপলা চত্ত্বর আবারও হবে টেকনাফের প্রাণকেন্দ্র, পর্যটকদের আকর্ষণের নতুন প্রতীক, আর স্থানীয়দের গর্বের স্মারক।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য রুখতে নারায়ণগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের মোটরসাইকেল টহল

টেকনাফে জিরো পয়েন্টের শাপলায় ফিরছে নতুন প্রাণ: পর্যটন নগরীর প্রবেশদ্বারে সাজের ছোঁয়া

আপডেট সময় : ১২:০৩:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

“নতুন রূপে গড়ে উঠছে টেকনাফের ঐতিহ্যবাহী শাপলা চত্ত্বর—যেখানে ইতিহাস, সংস্কৃতি আর আধুনিক নান্দনিকতার মেলবন্ধন।”

ফরহাদ রহমান: বাংলাদেশের দক্ষিণ প্রান্তের শেষ সীমান্ত শহর টেকনাফ—যেখানে স্থলভাগ শেষ হয়ে সাগরের সঙ্গে মিশেছে। আর সেই অনন্য শহরের প্রবেশদ্বার ‘জিরো পয়েন্ট’ ও শাপলা চত্ত্বর দীর্ঘদিন ধরে ছিল অবহেলিত, নিস্তেজ এক স্মৃতি। সময়ের ধুলো জমে ঢেকে দিয়েছিল এক সময়ের গৌরবময় এই প্রতীকটিকে। কিন্তু এবার সেই চিত্র পাল্টাতে শুরু করেছে—ফিরে আসছে প্রাণ, আলো আর সৌন্দর্যের ছোঁয়া।

টেকনাফ পৌরসভা হাতে নিয়েছে ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনাটির সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প। স্থানীয় মানুষের বহুদিনের দাবি পূরণে শুরু হয়েছে নতুন নকশায় শাপলা চত্ত্বর পুনর্নির্মাণের কাজ, যা সম্পন্ন হলে টেকনাফের সৌন্দর্যে যুক্ত হবে নতুন মাত্রা।

শিল্পী কুয়াশা বিন্দুর সৃজনশীল নকশায় গড়ে উঠছে নতুন শাপলা চত্ত্বর। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এতে থাকবে একটি ঝলমলে ওয়াটার বডি, নান্দনিক ফোয়ারা এবং রাতে আলোকসজ্জার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। শাপলার চারপাশের দেয়ালে খোদাই করা হবে টেকনাফের ঐতিহ্যবাহী প্রতীকগুলো—মাছ, শুটকি, সাম্পান, সাগর, লবণচাষ ও সুপারি—যা বহন করবে এই অঞ্চলের জীবন ও সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি। আর সেই ঐতিহ্যের মাঝে জ্বলজ্বল করবে লেখা—“টেকনাফ ০ কিমি”, যা প্রতিটি ভ্রমণপিপাসুর কাছে এক গর্বের ঠিকানা হয়ে উঠবে।

দেশের নানা প্রান্ত থেকে আগত পর্যটকরা প্রায়ই এই জিরো পয়েন্টে এসে ছবি তোলেন, কারণ এখান থেকেই শুরু হয় বাংলাদেশের দক্ষিণতম ভ্রমণপথ। পর্যটকরা জানান, যদি শাপলা চত্ত্বরটি নতুন করে সাজানো হয়, তাহলে এটি কক্সবাজার থেকে টেকনাফগামী পর্যটন রুটে একটি প্রধান আকর্ষণীয় স্পট হয়ে উঠবে।

টেকনাফ পৌরসভা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পৌরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কাজের সার্বিক তদারকিতে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক জনাব শেখ এহসান উদ্দীন। তিনি বলেন, “এই প্রকল্প শেষ হলে টেকনাফের মুখচ্ছবি বদলে যাবে। পর্যটকরা টেকনাফে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই অনুভব করবেন এক ভিন্ন ধরনের স্বাগত।”

সংস্কারকাজের সময় যাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি না হয়, সে জন্য পৌর ট্রাফিক বিভাগও কাজ করছে সক্রিয়ভাবে। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

টেকনাফের স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা আলহাজ মো. ছালেহ আহমদ জানান, “আমাদের শাপলা চত্ত্বর এক সময় টেকনাফের গর্ব ছিল। বহু বছর পরে আবার সেটি নতুন করে গড়ে উঠছে, এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।”

পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, শাপলা চত্ত্বর পুনর্নির্মাণ হলে শুধু শহরের সৌন্দর্যই বাড়বে না, এতে টেকনাফের স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

নভেম্বর মাসের শেষ নাগাদ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রশাসক জনাব শেখ এহসান উদ্দীন। কাজ শেষ হলে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের প্রস্তুতিও নেওয়া হবে।

টেকনাফের মানুষ এখন সেই দিনের অপেক্ষায়—যেদিন আলো ঝলমলে শাপলা চত্ত্বর আবারও হবে টেকনাফের প্রাণকেন্দ্র, পর্যটকদের আকর্ষণের নতুন প্রতীক, আর স্থানীয়দের গর্বের স্মারক।