ঢাকা ১২:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাংবাদিক পরিচয়ে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা, হোয়াইক্যং চেকপোস্টে আটক পটিয়াবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দিদারুল আলম ডিসি জাহিদের উদ্যোগে উৎসবে নতুন সংস্কৃতি: ‘দাম কমেছে পণ্যের, উৎসব হবে সকলের’ বেনাপোল ছোট আঁচড়া গ্রামের ইউনুস হত্যায় এবার সোহেল রানা আটক নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন পশুর হাট পরিদর্শনে ডিসি মো. রায়হান কবির আসন্ন ঈদুল আজহায় কাঁচা চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণে সর্বাত্মক প্রস্তুতি: ডিসি মো:রায়হান কবির ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে বড় বাধা মোজতবার যোগাযোগ ব্যবস্থা : যুক্তরাষ্ট্র হিলি স্থলবন্দর ঈদুল আযহায় ৭ দিন আমদানি রপ্তানি বন্ধ পাকিস্তানে বোমা হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ রামিসা হত্যা মামলায় রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ

টেকনাফে বিজিবির অভিযানে ১২ পাচারকারী আটক

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৭:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১৭৫ বার পড়া হয়েছে

ফরহাদ রহমান,টেকনাফ প্রতিনিধি: কক্সবাজারের টেকনাফে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) বিশেষ অভিযানে ১২ জন মানব পাচারকারীকে আটক এবং ১১ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে পরিচালিত দুটি পৃথক অভিযানে এ সাফল্য আসে।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মেরিন ড্রাইভ ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি এলাকায় সংঘবদ্ধ মানব পাচার চক্র সক্রিয় ছিল। এসব চক্র বাংলাদেশ ও মিয়ানমার হয়ে মালয়েশিয়া পর্যন্ত মানব পাচার পরিচালনা করে আসছিল। বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তারা সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলত। যাত্রী সংগ্রহের পর স্থানীয় দালালদের কাছে হস্তান্তর করে তাদের গোপন আস্তানায় রাখা হতো। এসময় ভুক্তভোগীদের মোবাইল ফোন ও অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হতো, খাবারও অপ্রতুল দেওয়া হতো। অনেক ক্ষেত্রে মুক্তিপণ আদায় করত পাচারকারীরা।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর শাহপীরদ্বীপ মোহনায় সমুদ্রপথে মিয়ানমারের প্রায় ১০০ নাগরিক পাচারের সময় ৪ পাচারকারীকে হাতে-নাতে আটক করে বিজিবি। একই রাতে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন কচ্ছপিয়া ও বড়ইতলি এলাকা থেকে আরও ৮ পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় উদ্ধার করা হয় ১১ জন ভুক্তভোগী।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, এ বছরের জুলাই মাসে ১৫ জন, আগস্টে ৪ জন এবং সেপ্টেম্বর মাসে এখন পর্যন্ত ১৭ জন পাচারকারীকে আটক করেছে ২ বিজিবি। চলতি বছর মোট ৬২ মানব পাচারকারী আটক হলেও এখনো ২৪ জন পলাতক রয়েছে।

আটক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—আব্দুর রশিদ, মিজানুর রহমান, আবু তৈয়ব, ইদ্রিস, জাহেদ, জুবায়ের, নরুল আবছার, ইসমাইল, ইমরান, নুর মোহাম্মদ, মাহমুদউল্লাহ ও খুরশিদা কোম।
পলাতক আসামিরা হলেন—হোসেন, সাইফুল ও নেজাম।

টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান পিএসসি বলেন, “মানবতা ও দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্তে যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে মাদক ও মানব পাচারের বিরুদ্ধে বিজিবির জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।”

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক পরিচয়ে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা, হোয়াইক্যং চেকপোস্টে আটক

টেকনাফে বিজিবির অভিযানে ১২ পাচারকারী আটক

আপডেট সময় : ১১:৩৭:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ফরহাদ রহমান,টেকনাফ প্রতিনিধি: কক্সবাজারের টেকনাফে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) বিশেষ অভিযানে ১২ জন মানব পাচারকারীকে আটক এবং ১১ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে পরিচালিত দুটি পৃথক অভিযানে এ সাফল্য আসে।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মেরিন ড্রাইভ ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি এলাকায় সংঘবদ্ধ মানব পাচার চক্র সক্রিয় ছিল। এসব চক্র বাংলাদেশ ও মিয়ানমার হয়ে মালয়েশিয়া পর্যন্ত মানব পাচার পরিচালনা করে আসছিল। বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তারা সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলত। যাত্রী সংগ্রহের পর স্থানীয় দালালদের কাছে হস্তান্তর করে তাদের গোপন আস্তানায় রাখা হতো। এসময় ভুক্তভোগীদের মোবাইল ফোন ও অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হতো, খাবারও অপ্রতুল দেওয়া হতো। অনেক ক্ষেত্রে মুক্তিপণ আদায় করত পাচারকারীরা।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর শাহপীরদ্বীপ মোহনায় সমুদ্রপথে মিয়ানমারের প্রায় ১০০ নাগরিক পাচারের সময় ৪ পাচারকারীকে হাতে-নাতে আটক করে বিজিবি। একই রাতে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন কচ্ছপিয়া ও বড়ইতলি এলাকা থেকে আরও ৮ পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় উদ্ধার করা হয় ১১ জন ভুক্তভোগী।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, এ বছরের জুলাই মাসে ১৫ জন, আগস্টে ৪ জন এবং সেপ্টেম্বর মাসে এখন পর্যন্ত ১৭ জন পাচারকারীকে আটক করেছে ২ বিজিবি। চলতি বছর মোট ৬২ মানব পাচারকারী আটক হলেও এখনো ২৪ জন পলাতক রয়েছে।

আটক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—আব্দুর রশিদ, মিজানুর রহমান, আবু তৈয়ব, ইদ্রিস, জাহেদ, জুবায়ের, নরুল আবছার, ইসমাইল, ইমরান, নুর মোহাম্মদ, মাহমুদউল্লাহ ও খুরশিদা কোম।
পলাতক আসামিরা হলেন—হোসেন, সাইফুল ও নেজাম।

টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান পিএসসি বলেন, “মানবতা ও দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্তে যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে মাদক ও মানব পাচারের বিরুদ্ধে বিজিবির জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।”