ঢাকা ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তিস্তাপারের মানুষের স্পষ্ট দাবি যারা নদীভাঙন রোধে স্থায়ী পদক্ষেপ নেবে, ভোট পাবে তারাই যশোর শার্শায় জামায়াতের নির্বাচনী গণসভা: ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার মাওলানা- আজিজুর রহমানের চাঁদপুর-২ : উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে ছাতা মার্কার প্রার্থী বিল্লাল মিয়াজির গণসংযোগ খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে ১১ প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, প্রচারণায় সরগরম এলাকা মতলব উত্তরে ধানের শীষের পক্ষে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের প্রচারণা চাঁদপুর-২ : দুর্গাপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে ধানের শীষের ব্যাপক প্রচারণা চাঁদপুর ২ ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে : জিয়াউর রহমান ছেংগারচর পৌরসভায় নুরুল হক সরকার ও আমেনা বেগমের উদ্যোগ ধানের শীষের গণসংযোগ টেকনাফে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ পরিদর্শনে নির্বাচন নিয়ে কোনো আশঙ্কা নেই: জেলা প্রশাসক সিদ্ধিরগঞ্জে মাদক চক্রের আস্তানায় পুলিশের হানা, উদ্ধার ১০,১০০ পিস ইয়াবা ও ৬ লাখ টাকা

খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে ১১ প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, প্রচারণায় সরগরম এলাকা

 

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের নির্বাচনী মাঠ। এ আসনে ১১ জন প্রার্থী নিজ নিজ প্রতীক, কৌশল ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন। ব্যানার, পোস্টার, লিফলেট, পথসভা ও গণসংযোগে এখন সরগরম পুরো খাগড়াছড়ি। এ আসনে উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ওয়াদুদ ভূঁইয়া (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. এয়াকুব আলী চৌধুরী (দাঁড়িপাল্লা), স্বতন্ত্র প্রার্থী সমীরণ দেওয়ান (ফুটবল), ধর্ম জ্যোতি চাকমা (ঘোড়া), ইসলামী আন্দোলনের কাউসার আজিজী (হাতপাখা), বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির উশ্যেপ্রু মারমা (রকেট), গণঅধিকার পরিষদের দীনময় রোয়াজা (ট্রাক), জাতীয় পার্টির মিথিলা রোয়াজা (লাঙল), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. নুর ইসলাম (আপেল), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. মোস্তফা (হারিকেন) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী জিরুনা ত্রিপুরা (কলস)। প্রার্থীরা নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে ভোটারদের কাছে ভোট চাইছেন। পাহাড়ি দুর্গম এলাকা থেকে শুরু করে শহরাঞ্চল—সবখানেই চলছে সরব প্রচারণা। স্থানীয় ভোটারদের মতে, পাহাড়ি অঞ্চলের রাজনীতি সমতলের তুলনায় ভিন্ন। পাহাড়ি জনগোষ্ঠী সাধারণত সংগঠিতভাবে ভোট প্রদান করেন। ফলে বাঙালি প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় ভোট বিভাজনের সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড়ি ও বাঙালি ভোটের সমীকরণ এবারের নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিএনপির সক্রিয় প্রচারণা সরকার পতনের পর থেকেই বিএনপি খাগড়াছড়িতে ধারাবাহিকভাবে মিছিল, শোডাউন ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়ার পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএন আবছার বলেন, “পাহাড়ের উন্নয়নের রূপকার ওয়াদুদ ভূঁইয়ার কোনো বিকল্প নেই। ভোটাররা আবারও তাঁর ওপর আস্থা রাখবেন।”স্বতন্ত্র প্রার্থীদের চমক ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সমীরণ দেওয়ান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে আসায় ভোটের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আঞ্চলিক সংগঠনের সমর্থন পাওয়ার বিষয়ে গুঞ্জন থাকলেও তিনি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি।জামায়াতের নীরব গণসংযোগ সব দলের প্রচারণা দৃশ্যমান হলেও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরী তুলনামূলক নীরবে গণসংযোগ ও জনসেবামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তিনি শান্তি, ন্যায়বিচার ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার করে ভোট চাইছেন। পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন, মেডিকেল কলেজ স্থাপন এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরছেন।অন্যান্য প্রার্থীদের তৎপরতা ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্ম জ্যোতি চাকমা পাহাড়ের প্রত্যন্ত এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছেন। ইসলামী আন্দোলনের কাউসার আজিজী হাতপাখা প্রতীকে আইনশৃঙ্খলা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।‌ রকেট প্রতীকের উশ্যেপ্রু মারমা স্থানীয় কর্মসংস্থান ও টেকসই উন্নয়নের কথা বলছেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী মিথিলা রোয়াজা লাঙল প্রতীকে শান্তিপূর্ণ বসবাস, নিরাপত্তা ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের আশ্বাস দিচ্ছেন।প্রশাসনের প্রস্তুতি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মো. আনোয়ার সাদাত, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এস. এম শাহাদাত হোসেন এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোস্তফা জাবেদ কায়সার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক কাজ করছে। এক নজরে খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসন মোট ভোটার: ৫,৫৪,১১৪ জন পুরুষ: ২,৮০,২০৬ জন নারী: ২,৭৩,৯০৪ জন তৃতীয় লিঙ্গ: ৪ জন মোট ভোটকেন্দ্র: ২০৩টি সব মিলিয়ে প্রতিশ্রুতি, কৌশল ও ভোটের সমীকরণের জটিলতায় এবারের খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের নির্বাচন হতে যাচ্ছে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উত্তেজনাপূর্ণ—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তাপারের মানুষের স্পষ্ট দাবি যারা নদীভাঙন রোধে স্থায়ী পদক্ষেপ নেবে, ভোট পাবে তারাই

খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে ১১ প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, প্রচারণায় সরগরম এলাকা

আপডেট সময় : ০৭:১২:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের নির্বাচনী মাঠ। এ আসনে ১১ জন প্রার্থী নিজ নিজ প্রতীক, কৌশল ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন। ব্যানার, পোস্টার, লিফলেট, পথসভা ও গণসংযোগে এখন সরগরম পুরো খাগড়াছড়ি। এ আসনে উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ওয়াদুদ ভূঁইয়া (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. এয়াকুব আলী চৌধুরী (দাঁড়িপাল্লা), স্বতন্ত্র প্রার্থী সমীরণ দেওয়ান (ফুটবল), ধর্ম জ্যোতি চাকমা (ঘোড়া), ইসলামী আন্দোলনের কাউসার আজিজী (হাতপাখা), বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির উশ্যেপ্রু মারমা (রকেট), গণঅধিকার পরিষদের দীনময় রোয়াজা (ট্রাক), জাতীয় পার্টির মিথিলা রোয়াজা (লাঙল), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. নুর ইসলাম (আপেল), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. মোস্তফা (হারিকেন) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী জিরুনা ত্রিপুরা (কলস)। প্রার্থীরা নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে ভোটারদের কাছে ভোট চাইছেন। পাহাড়ি দুর্গম এলাকা থেকে শুরু করে শহরাঞ্চল—সবখানেই চলছে সরব প্রচারণা। স্থানীয় ভোটারদের মতে, পাহাড়ি অঞ্চলের রাজনীতি সমতলের তুলনায় ভিন্ন। পাহাড়ি জনগোষ্ঠী সাধারণত সংগঠিতভাবে ভোট প্রদান করেন। ফলে বাঙালি প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় ভোট বিভাজনের সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড়ি ও বাঙালি ভোটের সমীকরণ এবারের নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিএনপির সক্রিয় প্রচারণা সরকার পতনের পর থেকেই বিএনপি খাগড়াছড়িতে ধারাবাহিকভাবে মিছিল, শোডাউন ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়ার পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএন আবছার বলেন, “পাহাড়ের উন্নয়নের রূপকার ওয়াদুদ ভূঁইয়ার কোনো বিকল্প নেই। ভোটাররা আবারও তাঁর ওপর আস্থা রাখবেন।”স্বতন্ত্র প্রার্থীদের চমক ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সমীরণ দেওয়ান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে আসায় ভোটের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আঞ্চলিক সংগঠনের সমর্থন পাওয়ার বিষয়ে গুঞ্জন থাকলেও তিনি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি।জামায়াতের নীরব গণসংযোগ সব দলের প্রচারণা দৃশ্যমান হলেও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরী তুলনামূলক নীরবে গণসংযোগ ও জনসেবামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তিনি শান্তি, ন্যায়বিচার ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার করে ভোট চাইছেন। পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন, মেডিকেল কলেজ স্থাপন এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরছেন।অন্যান্য প্রার্থীদের তৎপরতা ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্ম জ্যোতি চাকমা পাহাড়ের প্রত্যন্ত এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছেন। ইসলামী আন্দোলনের কাউসার আজিজী হাতপাখা প্রতীকে আইনশৃঙ্খলা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।‌ রকেট প্রতীকের উশ্যেপ্রু মারমা স্থানীয় কর্মসংস্থান ও টেকসই উন্নয়নের কথা বলছেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী মিথিলা রোয়াজা লাঙল প্রতীকে শান্তিপূর্ণ বসবাস, নিরাপত্তা ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের আশ্বাস দিচ্ছেন।প্রশাসনের প্রস্তুতি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মো. আনোয়ার সাদাত, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এস. এম শাহাদাত হোসেন এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোস্তফা জাবেদ কায়সার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক কাজ করছে। এক নজরে খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসন মোট ভোটার: ৫,৫৪,১১৪ জন পুরুষ: ২,৮০,২০৬ জন নারী: ২,৭৩,৯০৪ জন তৃতীয় লিঙ্গ: ৪ জন মোট ভোটকেন্দ্র: ২০৩টি সব মিলিয়ে প্রতিশ্রুতি, কৌশল ও ভোটের সমীকরণের জটিলতায় এবারের খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের নির্বাচন হতে যাচ্ছে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উত্তেজনাপূর্ণ—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।