ঢাকা ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তিস্তাপারের মানুষের স্পষ্ট দাবি যারা নদীভাঙন রোধে স্থায়ী পদক্ষেপ নেবে, ভোট পাবে তারাই যশোর শার্শায় জামায়াতের নির্বাচনী গণসভা: ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার মাওলানা- আজিজুর রহমানের চাঁদপুর-২ : উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে ছাতা মার্কার প্রার্থী বিল্লাল মিয়াজির গণসংযোগ খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে ১১ প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, প্রচারণায় সরগরম এলাকা মতলব উত্তরে ধানের শীষের পক্ষে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের প্রচারণা চাঁদপুর-২ : দুর্গাপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে ধানের শীষের ব্যাপক প্রচারণা চাঁদপুর ২ ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে : জিয়াউর রহমান ছেংগারচর পৌরসভায় নুরুল হক সরকার ও আমেনা বেগমের উদ্যোগ ধানের শীষের গণসংযোগ টেকনাফে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ পরিদর্শনে নির্বাচন নিয়ে কোনো আশঙ্কা নেই: জেলা প্রশাসক সিদ্ধিরগঞ্জে মাদক চক্রের আস্তানায় পুলিশের হানা, উদ্ধার ১০,১০০ পিস ইয়াবা ও ৬ লাখ টাকা

তিস্তাপারের মানুষের স্পষ্ট দাবি যারা নদীভাঙন রোধে স্থায়ী পদক্ষেপ নেবে, ভোট পাবে তারাই

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১১:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর প্রতিনিধি: হামার তিস্তা নদী যাই বাঁধি দিবো, হামরা তাকে ভোট দিমু।’ কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার তিস্তাপারের চরাঞ্চলে এখন এই এক সুর। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের প্রচার—প্রচারণা তুঙ্গে থাকলেও ভোটারদের মাঝে কাজ করছে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার ক্ষোভ। তিস্তাপারের মানুষের স্পষ্ট দাবি— এবার আর মৌখিক প্রতিশ্রুতি নয়, যারা নদীভাঙন রোধে স্থায়ী পদক্ষেপ নেবে, ভোট পাবে তারাই।

কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার বজরা, গুনাইগাছ, থেতরাই ও দলদলিয়া ইউনিয়নের বড় একটি অংশ তিস্তা নদীর করাল গ্রাসে বিভক্ত। এখানকার মানুষের প্রধান আয়ের উৎস কৃষি। কিন্তু প্রতি বছর ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের কাছে চরের মানুষের একটাই চাওয়া—‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন ও নদীশাসন। এমনকি আশ্বাস না পেলে অনেকে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

কিশোরপুর গ্রামের মোঃ আব্দুল বারী (৬০) জানান, তাঁর বাড়ি নদী ভেঙেছে তিন বার। আগে চাষাবাদ করে সংসার চললেও এখন ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করছেন। একই এলাকার ৭৫ বছর বয়সী মোঃ আব্দুল আজিজের গল্প আরও করুণ। ১১ বার নদীভাঙনের শিকার হয়ে গত ২০ বছর ধরে যাযাবরের মতো এক চর থেকে অন্য চরে ঘুরছেন। তাঁর আক্ষেপ, ‘নদী হামার জীবন তেনা তেনা করি ফ্যালাইছে বাহে।’

সরেজমিনে বিভিন্ন চর ঘুরে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ভোট দিতে না পারার আক্ষেপ থাকলেও এবার ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ আছে। তবে অভিযোগও কম নয়। চরের বাসিন্দারা নিয়মিত খাজনা দিলেও দুর্যোগের সময় কাউকে পাশে পান না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

কিশোরপুর চরের বালু বহনকারী ঘোড়ার গাড়িচালক আবুল হোসেন ও তৈয়ব আলীদের কণ্ঠেও একই দাবি—তারা আর পরবাসী হয়ে থাকতে চান না। তিস্তা নদীশাসনের মাধ্যমেই তারা তাদের বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষা করতে চান।

কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার একটি একক আসন নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম—৩। এখানকার মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭০, যার একটি বড় অংশই চরাঞ্চলের বাসিন্দা। এ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ধানের শীষ প্রতীকে মোঃ তাসভীর—উল ইসলাম, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ব্যারিস্টার মোঃ মাহবুবুর আলম ছালেহী, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মোঃ আব্দুস সোবাহান, হাতপাখা প্রতীকে ডাঃ মোঃ আক্কাছ আলী সরকার, ট্রাক প্রতীকে সরকার মোঃ নুরে এরশাদ সিদ্দিকী ও হাঁস প্রতীকে এডভোকেট মোঃ শাফিউর রহমান।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তাপারের মানুষের স্পষ্ট দাবি যারা নদীভাঙন রোধে স্থায়ী পদক্ষেপ নেবে, ভোট পাবে তারাই

তিস্তাপারের মানুষের স্পষ্ট দাবি যারা নদীভাঙন রোধে স্থায়ী পদক্ষেপ নেবে, ভোট পাবে তারাই

আপডেট সময় : ০৯:১১:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর প্রতিনিধি: হামার তিস্তা নদী যাই বাঁধি দিবো, হামরা তাকে ভোট দিমু।’ কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার তিস্তাপারের চরাঞ্চলে এখন এই এক সুর। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের প্রচার—প্রচারণা তুঙ্গে থাকলেও ভোটারদের মাঝে কাজ করছে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার ক্ষোভ। তিস্তাপারের মানুষের স্পষ্ট দাবি— এবার আর মৌখিক প্রতিশ্রুতি নয়, যারা নদীভাঙন রোধে স্থায়ী পদক্ষেপ নেবে, ভোট পাবে তারাই।

কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার বজরা, গুনাইগাছ, থেতরাই ও দলদলিয়া ইউনিয়নের বড় একটি অংশ তিস্তা নদীর করাল গ্রাসে বিভক্ত। এখানকার মানুষের প্রধান আয়ের উৎস কৃষি। কিন্তু প্রতি বছর ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের কাছে চরের মানুষের একটাই চাওয়া—‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন ও নদীশাসন। এমনকি আশ্বাস না পেলে অনেকে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

কিশোরপুর গ্রামের মোঃ আব্দুল বারী (৬০) জানান, তাঁর বাড়ি নদী ভেঙেছে তিন বার। আগে চাষাবাদ করে সংসার চললেও এখন ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করছেন। একই এলাকার ৭৫ বছর বয়সী মোঃ আব্দুল আজিজের গল্প আরও করুণ। ১১ বার নদীভাঙনের শিকার হয়ে গত ২০ বছর ধরে যাযাবরের মতো এক চর থেকে অন্য চরে ঘুরছেন। তাঁর আক্ষেপ, ‘নদী হামার জীবন তেনা তেনা করি ফ্যালাইছে বাহে।’

সরেজমিনে বিভিন্ন চর ঘুরে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ভোট দিতে না পারার আক্ষেপ থাকলেও এবার ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ আছে। তবে অভিযোগও কম নয়। চরের বাসিন্দারা নিয়মিত খাজনা দিলেও দুর্যোগের সময় কাউকে পাশে পান না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

কিশোরপুর চরের বালু বহনকারী ঘোড়ার গাড়িচালক আবুল হোসেন ও তৈয়ব আলীদের কণ্ঠেও একই দাবি—তারা আর পরবাসী হয়ে থাকতে চান না। তিস্তা নদীশাসনের মাধ্যমেই তারা তাদের বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষা করতে চান।

কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার একটি একক আসন নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম—৩। এখানকার মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭০, যার একটি বড় অংশই চরাঞ্চলের বাসিন্দা। এ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ধানের শীষ প্রতীকে মোঃ তাসভীর—উল ইসলাম, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ব্যারিস্টার মোঃ মাহবুবুর আলম ছালেহী, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মোঃ আব্দুস সোবাহান, হাতপাখা প্রতীকে ডাঃ মোঃ আক্কাছ আলী সরকার, ট্রাক প্রতীকে সরকার মোঃ নুরে এরশাদ সিদ্দিকী ও হাঁস প্রতীকে এডভোকেট মোঃ শাফিউর রহমান।