ঢাকা ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিজয়ী ৫ অদম্য নারী যাচ্ছেন বিভাগীয় লড়াইয়ে সাহায্যগ্রহীতাকে নিয়ে ক্যামেরার সামনে পোজ ও ফেসবুকে প্রচার এখন নিয়মিত দৃশ্য বরুড়ায় রাজাপুরের আফসানা ইসলাম পরশীর ট্যালেন্টপুল বৃত্তি # প্রবাসী বাবার স্বপ্ন মেয়ে ডাক্তার হবেন … গণঅভ্যুত্থান করল ছাত্ররা, ফল ভোগ করছে নানা রাজনৈতিক দল: নাহিদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিশ্চয়ই একদিন বিশ্বজগতে আলো ছড়াবে: প্রধানমন্ত্রী বন্দর থেকে অপহৃত কিশোর উদ্ধার, হানি ট্র্যাপ চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার  বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে যোগ দিলেন মোস্তাকুর রহমান আহসান মনসুরকে সরিয়ে আর্থিক খাতে লুটপাটের পথ উন্মুক্ত করলো বিএনপি সরকার: নাহিদ ইসলাম সিদ্ধিরগঞ্জে পৃথক অভিযানে মাদকসহ ১৪ জন গ্রেফতার, উদ্ধার ১৮১ পুরিয়া হেরোইন লালমাই উপজেলা পরিষদে সম্ভাব্য ভাইস চেয়ারম্যান পদে শাহ আলমকে নিয়ে তৃণমূলের জোর দাবি

সাহায্যগ্রহীতাকে নিয়ে ক্যামেরার সামনে পোজ ও ফেসবুকে প্রচার এখন নিয়মিত দৃশ্য

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১৮:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

মোঃ আল আমিন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: দান করা পুণ্যের কাজ। একজন মানুষ তখনই সাহায্য চায় যখন তার আর কোনো উপায় থাকে না। নিম্নবিত্তরা মানুষের কাছে সরাসরি হাত পাতলেও মধ্যবিত্তরা কিন্তু তা পারে না। সারাদেশে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে অনেক সংগঠন বা ব্যক্তি উদ্যোগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। নিঃসন্দেহে এমনটি সওয়াবের কাজ হলেও ইদানীং তা যেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হওয়ার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৫-১০ জন মিলে একজনকে ইফতার সামগ্রী বা ত্রাণ উপহার দিয়ে সেই ছবি ফেসবুকে শেয়ার করার এই সংস্কৃতি নিয়ে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকে একে বলছেন মানবিকতা, আবার অনেকের মতে এটি কেবলই আত্মপ্রচারের মাধ্যম। এক মুঠো চাল বা এক প্যাকেট লবণ; সাহায্যের পরিমাণ যাই হোক না কেন, সেটি হাতে নিয়ে ক্যামেরার সামনে পোজ দেওয়া এখন নিয়মিত দৃশ্য। দেশের যেকোনো দুর্যোগে বা বিশেষ উপলক্ষ্যে অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো যতটা না মূল লক্ষ্য থাকে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় নিখুঁত একটি ছবি তোলা বা ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা। আর এতে সাহায্যগ্রহীতাদের ছবি প্রকাশ হওয়ায় তাদের সামাজিক মর্যাদা নষ্ট হচ্ছে। এর কারনে অনেকে কষ্টে দিনাতিপাত করলেও ছবি বা ফটোসেশনের ভয়ে সাহায্য গ্রহণ করতেও ইতস্তবোধ করেন। মানুষের মধ্যে ফটোসেশনভিত্তিক দান নিয়ে একটা নেতিবাচক ধারণা জন্ম নিচ্ছে।

“মানুষ যখন বিপদে পড়ে তখন সাহায্য চায়, কিন্তু সেই সাহায্যের বিনিময়ে তার মান-সম্মান বিলিয়ে দিতে চায় না। দশজন মিলে ছবি তোলাটা লজ্জাজনক।”  মন্তব্য মরিয়ম নামে একজন নারীর।

সমাজগবেষকরা বলছেন, অন্যের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে নিজের প্রচারণা চালানো কেবল নৈতিকতা বিরোধীই নয়, এটি সাহায্যগ্রহীতাকে মানসিকভাবে ছোট করে। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। কেউ কেউ মনে করেন, এই ছবিগুলো অন্যদেরও সাহায্য করতে অনুপ্রাণিত করে। সে ক্ষেত্রে সাহায্যগ্রহীতার মুখ অস্পষ্ট রাখা বা সম্মান বজায় রাখা জরুরি।

“ইসলামী বিধান অনুযায়ী, দান হতে হবে গোপনে যেন ডান হাতের দান বাম হাত না জানে। বর্তমানে যে ‘ফটোসেশন সংস্কৃতি’ আমরা দেখছি, তাতে দানের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হচ্ছে।” বলছিলেন মাও. আবুল কাশেম নামে একজন মসজিদের ইমাম।

ক্যামেরার ফ্ল্যাশ নয়, বরং মানুষের প্রকৃত সেবাই হোক মূল লক্ষ্য—এমনটাই প্রত্যাশা সচেতন মহলের। দানের নামে কারো আত্মসম্মান নষ্ট করা মোটেও উচিত নয়।
প্রচারণার মোহ কাটিয়ে প্রকৃত মানবিকতা ফুটে উঠুক সবার কাজে—এমনটাই কাম্য সচেতন মহলের।
ছবি বা ভিডিও করার উদ্দেশ্য যদি অন্যকে উৎসাহিত করা হয়, তবে দানগ্রহীতার পরিচয় প্রকাশ না করা উচিত। সুবিধাবঞ্চিতরা ভিখারি নন, তারা পরিস্থিতির শিকার; তাই তাদের ছবি তুলে লজ্জিত করা অনুচিত।অধিকাংশ ক্ষেত্রে লোক দেখানো দান ধর্মীয়ভাবেও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিজয়ী ৫ অদম্য নারী যাচ্ছেন বিভাগীয় লড়াইয়ে

সাহায্যগ্রহীতাকে নিয়ে ক্যামেরার সামনে পোজ ও ফেসবুকে প্রচার এখন নিয়মিত দৃশ্য

আপডেট সময় : ১২:১৮:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মোঃ আল আমিন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: দান করা পুণ্যের কাজ। একজন মানুষ তখনই সাহায্য চায় যখন তার আর কোনো উপায় থাকে না। নিম্নবিত্তরা মানুষের কাছে সরাসরি হাত পাতলেও মধ্যবিত্তরা কিন্তু তা পারে না। সারাদেশে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে অনেক সংগঠন বা ব্যক্তি উদ্যোগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। নিঃসন্দেহে এমনটি সওয়াবের কাজ হলেও ইদানীং তা যেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হওয়ার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৫-১০ জন মিলে একজনকে ইফতার সামগ্রী বা ত্রাণ উপহার দিয়ে সেই ছবি ফেসবুকে শেয়ার করার এই সংস্কৃতি নিয়ে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকে একে বলছেন মানবিকতা, আবার অনেকের মতে এটি কেবলই আত্মপ্রচারের মাধ্যম। এক মুঠো চাল বা এক প্যাকেট লবণ; সাহায্যের পরিমাণ যাই হোক না কেন, সেটি হাতে নিয়ে ক্যামেরার সামনে পোজ দেওয়া এখন নিয়মিত দৃশ্য। দেশের যেকোনো দুর্যোগে বা বিশেষ উপলক্ষ্যে অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো যতটা না মূল লক্ষ্য থাকে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় নিখুঁত একটি ছবি তোলা বা ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা। আর এতে সাহায্যগ্রহীতাদের ছবি প্রকাশ হওয়ায় তাদের সামাজিক মর্যাদা নষ্ট হচ্ছে। এর কারনে অনেকে কষ্টে দিনাতিপাত করলেও ছবি বা ফটোসেশনের ভয়ে সাহায্য গ্রহণ করতেও ইতস্তবোধ করেন। মানুষের মধ্যে ফটোসেশনভিত্তিক দান নিয়ে একটা নেতিবাচক ধারণা জন্ম নিচ্ছে।

“মানুষ যখন বিপদে পড়ে তখন সাহায্য চায়, কিন্তু সেই সাহায্যের বিনিময়ে তার মান-সম্মান বিলিয়ে দিতে চায় না। দশজন মিলে ছবি তোলাটা লজ্জাজনক।”  মন্তব্য মরিয়ম নামে একজন নারীর।

সমাজগবেষকরা বলছেন, অন্যের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে নিজের প্রচারণা চালানো কেবল নৈতিকতা বিরোধীই নয়, এটি সাহায্যগ্রহীতাকে মানসিকভাবে ছোট করে। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। কেউ কেউ মনে করেন, এই ছবিগুলো অন্যদেরও সাহায্য করতে অনুপ্রাণিত করে। সে ক্ষেত্রে সাহায্যগ্রহীতার মুখ অস্পষ্ট রাখা বা সম্মান বজায় রাখা জরুরি।

“ইসলামী বিধান অনুযায়ী, দান হতে হবে গোপনে যেন ডান হাতের দান বাম হাত না জানে। বর্তমানে যে ‘ফটোসেশন সংস্কৃতি’ আমরা দেখছি, তাতে দানের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হচ্ছে।” বলছিলেন মাও. আবুল কাশেম নামে একজন মসজিদের ইমাম।

ক্যামেরার ফ্ল্যাশ নয়, বরং মানুষের প্রকৃত সেবাই হোক মূল লক্ষ্য—এমনটাই প্রত্যাশা সচেতন মহলের। দানের নামে কারো আত্মসম্মান নষ্ট করা মোটেও উচিত নয়।
প্রচারণার মোহ কাটিয়ে প্রকৃত মানবিকতা ফুটে উঠুক সবার কাজে—এমনটাই কাম্য সচেতন মহলের।
ছবি বা ভিডিও করার উদ্দেশ্য যদি অন্যকে উৎসাহিত করা হয়, তবে দানগ্রহীতার পরিচয় প্রকাশ না করা উচিত। সুবিধাবঞ্চিতরা ভিখারি নন, তারা পরিস্থিতির শিকার; তাই তাদের ছবি তুলে লজ্জিত করা অনুচিত।অধিকাংশ ক্ষেত্রে লোক দেখানো দান ধর্মীয়ভাবেও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।