ফরহাদ রহমান,স্টাফ রিপোর্টার কক্সবাজার: কক্সবাজার, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় ডাকাত ও জলদস্যু দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। অভিযানে গত দুই মাসে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রসহ ৩০ জন ডাকাত ও জলদস্যুকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে তাদের কবল থেকে ৩২ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজার উপকূলের বিভিন্ন সমুদ্র এলাকায় ডাকাত ও জলদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় ২৪ ঘণ্টা টহল জোরদার করার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে।
তিনি আরও জানান, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সমুদ্র সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে। কোস্ট গার্ডের জাহাজ ও উচ্চগতির স্পিডবোটের মাধ্যমে টহলের পাশাপাশি আধুনিক র্যাডার, Automatic Identification System (AIS), VHF ও HF কমিউনিকেশন এবং GPS প্রযুক্তি ব্যবহার করে নাফ নদী ও সমুদ্র এলাকায় চলাচলকারী জলযান ও সন্দেহজনক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, গত দুই মাসে পরিচালিত একাধিক অভিযানে ৪টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৭টি দেশীয় অস্ত্র এবং ৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ৩০ জন ডাকাত ও জলদস্যুকে আটক করা হয়। এছাড়া ডাকাতদের হাতে জিম্মি থাকা ৩২ জন জেলেকে উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বেইস চট্টগ্রাম, কোস্ট গার্ড জাহাজ কুতুবদিয়া এবং বিসিজি স্টেশন কক্সবাজার, মহেশখালী, মাতারবাড়ী, কুতুবদিয়া ও শাহপরীর সমন্বয়ে কক্সবাজার উপকূলের বিস্তীর্ণ সমুদ্র এলাকায় দিনব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। অভিযানের লক্ষ্য ছিল জলদস্যু নির্মূল এবং সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
কোস্ট গার্ডের এই কর্মকর্তা বলেন, দেশের সাগর, নদীপথ ও উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রতিনিধির নাম 


















