সিদ্ধিরগঞ্জে পবিত্র রমজান মাসে বাউল গানের নামে নারী শিল্পীদের দিয়ে রাতভর চলছে রমরমা অশ্লীল গান। আর সেই গানের তালে তালে চলছে নারী, পুরুষ ও যুবক-যুবতীদের উন্মাতাল নৃত্য ও উন্মাদনা। এসব অশ্লীল উন্মাতাল নৃত্যে মাঝে মাঝে শিশুদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। পবিত্র রমজান মাসে এমন অশ্লীলতায় আলেম সমাজ ও স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তবে পুলিশ ঘটনার সততা পেয়ে গানের আসর থেকে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নিয়ে যায়। পরে গান পরিচালনা কারীরা থানা পুলিশের কাছে গিয়ে গান চালাবেনা মর্মে মোচলেকা দিয়ে তাদের যন্ত্রপাতি নিয়ে আসে। এসে আবার গান চালু করে। জানা যায়, আওয়ামী লীগের দোসর ইমরান দেওয়ান নামে এক ব্যক্তি সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় প্রো-একটিভ হাসপাতালের ঠিক উল্টো-পাশে পারিজাত মার্কেটের সামনে নারায়ণগঞ্জ চিশতিয়া বাউল সমিতি নামে একটি আস্তানা গড়ে তুলেন। দীর্ঘদিন থেকে এ আন্তানাটি থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রভাবশালীকে ম্যানেজ করে রাত ১০টার পর বাউল গানের নামে নারী শিল্পীরা গানের সাথে অশ্লীলভাবে অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে আসছে। এসব দেখতে স্থানীয় যুব সমাজসহ বিভিন্ন পেশাজীবি মহল ছাড়াও দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসছে মানুষ। এখানে গানের পাশা-পাশি প্রকাশ্যে মাদক সেবন করে নানা বয়সের লোকজন ও অপরাধীরা। এদিকে নারীদের দিয়ে এ সব নানান অশ্লীল অঙ্গ ভঙ্গিমায় গান পরিবেশন করে আসর জমিয়ে তাদের কাছ থেকে নানান কৌশলে টাকাকড়ি হাতিয়ে নিচ্ছে আস্তানার মালিকরা। ক্ষোভ প্রকাশ করে মারুফ নামে এক ব্যক্তি জানান, আমরা পবিত্র এই রমজান মাসে বাউল গানের নামে কখনো অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা প্রশ্রয় দিতে পারি না। নারায়ণগঞ্জ চিশতিয়া বাউল সমিতির পরিচালক ইমরান দেওয়ানের আস্তানা থেকে পুলিশ তার যন্ত্রপাতি নিয়ে যায়। এতে আস্তানার মালিক ইমরান দেওয়ান ক্ষিপ্ত হয়ে মনির হোসেন মৃধা নামে এক সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। মনির হোসেন মৃধা এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারন ডায়রী করে। সাধারন ডায়রীটি তুলে ধরা হলো, মোঃ ইমরান দেওয়ান (৪৫), পিতা- অজ্ঞাত, সাং- সাইনবোর্ড পারিজাত মার্কেট, থানা, সিদ্ধিরগঞ্জ, জেলা-নারায়ণগঞ্জ এর বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়রীর আবেদন করিতেছি যে, আমি সাংবাদিকতা করি। উক্ত বিবাদীর সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন সাইনবোর্ড পারিজাত মার্কেট সংলগ্ন একটি চিশতিয়া বাউল সমিতি নামক একটি ক্লাব রহিয়াছে। বিবদী উক্ত ক্লাবে বিভিন্ন গান বাজনা এবং মাদক বিক্রয় সহ মাদক সেবন করিয়া থাকে। পবিত্র রমজান মাসে বিবাদী একই কর্মকান্ড করায় আমি রমজান মাসে উপলখ্যে গান বাজনা করিতে বাধা প্রদান করিলে বিবাদী আমার উপর ক্ষিপ্ত হইয়া যায়। এরই যের ধরিয়া গত ইং- ২৫/০২/২০২৬ তারিখ রাত্র অনুমান ১১.৫১ ঘটিকার সময় বিবাদীর মোবাইল নাম্বার- ০১৬৪৬-১১২৮৮৫ হইতে আমার মোবাইল নাম্বার- ০১৭৬৬-০৯৯০৪১ তে ও একই তারিখ রাত্র অনুমান ১১.৫৬ ঘটিকার সময় বিবাদীর মোবাইল নাম্বার- ০১৬১০-৬০৮৬৯১ হইতে আমার মোবাইল নাম্বার- ০১৭৬৬-০৯৯০৪১ তে এবং ইং ২৬/০২/২০২৬ তারিখ রাত্র অনুমান ১২.০৭ ঘটিকার সময় বিবাদীর মোবাইল নাম্বার- ০১৬১০-৬০৮৬৯১ হইতে আমার মোবাইল নাম্বার-০১৭৬৬-০৯৯০৪১ তে ফোন করিয়া আমাকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করিতে থাকে। আমি বিবাদীকে গালি-গালাজ করিতে নিষেধ করিলে বিবাদী আমাকে বিভিন্ন ভয়ভীতিসহ প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করে। আমাকে সময় সুযোগ মত পাইলে প্রাণে মারিয়া লাশ গুম করা সহ আমার পরিবারের যে কোন ক্ষতি করিবে বলিয়া হুমকি প্রদান করিয়া ফোনটি কাটিয়া দেয়। পরবর্তীতে আমি আমার পরিবারের সহিত আলোচনা করিয়া ও স্থানীয় লোকজনদের জানাইয়া থানায় আসিয়া সাধারণ ডায়রী করিতে বিলম্ব হইল। এমতাবস্থায়, উপরোক্ত বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য সাধারন ডাইরীভূক্ত করিয়া রাখা একান্ত প্রয়োজন। মাহে রমজান মাসে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড,পারিজাত মার্কেটের সামনে ইমরান দেওয়ান,সানারপাড় বাসসট্যান্ড,টিপু সুলতান এর মার্কেটে ডিম মিজান শিমরাইল মোড়ে ঝর্না সরকার ও জালকুড়ি বাসসট্যান্ড এলাকায় মিন্টু কানা এসব গানের আস্তানা পরিচালনা করেন। রাতে চুরি ও ছিনতাই করে অপরাধীরা সহজে এ সমস্ত আস্তানায় নিরাপদে প্রবেশ করে। এতে করে পুলিশ অপরাধিরে আর ধরতে পারে না।এ ব্যাপারে প্রতিবেদক ইমরান দেওয়ানের কাছে ফোন দিয়ে জানতে চাইলে সে বলে এই সমস্ত কথাবার্তা ভিত্তিহীন কেউ আমার নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে, রমজান মাসে যদি গান বাজনা করা নিষেধ থাকে তাহলে আরো অন্যান্য ক্লাবও চলে সেগুলো কেন বন্ধ করে না। অভিযোগ এর সত্যতা যাচাইয়ে, সিদ্ধিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ আব্দুল বারিক জানান, বাউল ক্লাব বন্ধ করে দেয়া হয়েছে অনুমতি ব্যতিরেকে গান পরিচালনা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা করা হবে। হুমকি প্রদানের বিষয়ে একটি জিডি করা হয়েছে তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি 





















