নিজস্ব প্রতিবেদক: সারাদেশে এক বছরে ২০ হাজার খাল খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি।
শুক্রবার (দুপুরে) উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের মধুমতি নদী থেকে নদীয়ার চাঁদ ও কামারগ্রাম স্লুইসগেট পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পটি স্থানীয় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্বোধনের পর এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, দেশব্যাপী খাল খনন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অগ্রাধিকার প্রকল্প। আমাদের সরকার শপথ নেওয়ার মাত্র দুই মাসের মধ্যে যে পরিমাণ কাজ হাতে নিয়েছে এবং বাস্তবায়ন শুরু করেছে, তা অভাবনীয়।
তিনি বলেন, আমরা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা করে যাচ্ছি। একটি দলের ক্যাপ্টেন যদি দক্ষ হন, তবে সেই দলও ভালো করে।
তিনি আরো বলেন, খাল খননের ফলে কৃষক বিনামূল্যে সেচের পানি পাবে। পাশাপাশি কৃষকদের স্বল্পমূল্যে সার ও ওষুধ প্রদানের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। এর ফলে গ্রামীণ জনপদে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং কৃষিখাতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।
বিগত শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালের পর এ দেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। ফ্যাসিবাদী সরকার দিনের ভোট রাতে করেছে এবং প্রশাসনকে ভোট কাটতে বাধ্য করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার জনগণের ভোটাধিকার ও সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহ-সভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম।
বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাবু সঞ্জয় কুমার সাহা, বোয়ালমারী-মধুখালী-আলফাডাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজম খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রকিবুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব্বির আহমেদ, বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানবৃন্দসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, বর্তমান সরকারের ‘কৃষি ও কৃষক উন্নয়ন’ নীতির আওতায় এ বছর সারাদেশে ২০ হাজার খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, এলজিইডি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
প্রতিনিধির নাম 



















