ঢাকা ০৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী মেরিন ড্রাইভে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা মোটরসাইকেল চালক নিহত আশঙ্কাজনক আরও ২ বেনাপোলে পণ্য পরিবহন বন্ধ রেখে বন্দর চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি সেন্টমার্টিন উপকূলে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ১৩ পাচারকারী আটক, মূলহোতাসহ সিন্ডিকেটের সন্ধান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রোসাটম মহাপরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ যশোরে নারীদের স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষা বিনা মূল্যে করা হবে : প্রধানমন্ত্রী টেকনাফে শিশুকে অপহরণচেষ্টা, বাধা দিতে গিয়ে বাবাকে মারধর এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের চিন্তা করছে সরকার যদি ৬ মাসের মধ্যে স্কুলের শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনতে না পারি আমি দায়িত্ব ছেড়ে দিবো – টিপু

সেন্টমার্টিন উপকূলে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ১৩ পাচারকারী আটক, মূলহোতাসহ সিন্ডিকেটের সন্ধান

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৫:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩৬ বার পড়া হয়েছে

ফরহাদ রহমান,স্টাফ রিপোর্টার কক্সবাজার:সেন্টমার্টিন দ্বীপ-এর উত্তর-পশ্চিম সংলগ্ন গভীর সমুদ্র এলাকায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ পণ্যসহ ১৩ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।

কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (২৭ এপ্রিল) ভোর ৪টার দিকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় সন্দেহজনক একটি ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ৯০০ বস্তা সিমেন্ট উদ্ধার করা হয়। এসব সিমেন্ট শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মায়ানমার-এ পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা হচ্ছিল। একই সঙ্গে পাচার কাজে ব্যবহৃত বোট ও ১৩ জনকে আটক করা হয়।

পরবর্তীতে আটক বোটের মাঝি চাঁন মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিকাল ৫টায় কোস্ট গার্ড ও র‍্যাব-১৫ (সিপিসি-২)-এর যৌথ অভিযানে বালুখালী এলাকা থেকে পাচার সিন্ডিকেটের অন্যতম মূলহোতা মোঃ আজিম উল্লাহ (৪০) কে গ্রেপ্তার করা হয়।

জানা গেছে, আজিম উল্লাহ বালুখালীর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত। তিনি মায়ানমারে অবস্থানকারী এক ব্যক্তির মাধ্যমে চাহিদা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম, সন্দ্বীপ ও হাতিয়া এলাকার কিছু অসাধু বোট মালিকের সহায়তায় এসব পণ্য পাচার করতেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, এসব পণ্য মায়ানমারের নিষিদ্ধ সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি-র কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, এই পাচার কার্যক্রমের বিনিময়ে তিনি মাদকদ্রব্য, বিদেশি সিগারেটসহ অন্যান্য অবৈধ পণ্য দেশে আনার চেষ্টা করতেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বাহিনী।

দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির পর এই সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে পাচার সিন্ডিকেটের মূলহোতাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় জব্দকৃত সিমেন্ট, বোট এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সেন্টমার্টিন উপকূলে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ১৩ পাচারকারী আটক, মূলহোতাসহ সিন্ডিকেটের সন্ধান

আপডেট সময় : ০৩:২৫:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

ফরহাদ রহমান,স্টাফ রিপোর্টার কক্সবাজার:সেন্টমার্টিন দ্বীপ-এর উত্তর-পশ্চিম সংলগ্ন গভীর সমুদ্র এলাকায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ পণ্যসহ ১৩ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।

কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (২৭ এপ্রিল) ভোর ৪টার দিকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় সন্দেহজনক একটি ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ৯০০ বস্তা সিমেন্ট উদ্ধার করা হয়। এসব সিমেন্ট শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মায়ানমার-এ পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা হচ্ছিল। একই সঙ্গে পাচার কাজে ব্যবহৃত বোট ও ১৩ জনকে আটক করা হয়।

পরবর্তীতে আটক বোটের মাঝি চাঁন মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিকাল ৫টায় কোস্ট গার্ড ও র‍্যাব-১৫ (সিপিসি-২)-এর যৌথ অভিযানে বালুখালী এলাকা থেকে পাচার সিন্ডিকেটের অন্যতম মূলহোতা মোঃ আজিম উল্লাহ (৪০) কে গ্রেপ্তার করা হয়।

জানা গেছে, আজিম উল্লাহ বালুখালীর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত। তিনি মায়ানমারে অবস্থানকারী এক ব্যক্তির মাধ্যমে চাহিদা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম, সন্দ্বীপ ও হাতিয়া এলাকার কিছু অসাধু বোট মালিকের সহায়তায় এসব পণ্য পাচার করতেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, এসব পণ্য মায়ানমারের নিষিদ্ধ সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি-র কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, এই পাচার কার্যক্রমের বিনিময়ে তিনি মাদকদ্রব্য, বিদেশি সিগারেটসহ অন্যান্য অবৈধ পণ্য দেশে আনার চেষ্টা করতেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বাহিনী।

দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির পর এই সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে পাচার সিন্ডিকেটের মূলহোতাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় জব্দকৃত সিমেন্ট, বোট এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।