মনির হোসেন, যশোর জেলা প্রতিনিধি: সোমবার যশোর কালেক্টরেট সভাকক্ষে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালন ও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস এবং জাতীয় দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভায় সভাপতির বক্তৃতা করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।
২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস যথাযথ মর্যাদা ও শোকাবহ পরিবেশে পালন এবং ২৬ মার্চ বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের অভ্যূদয়ের ৫৫তম বার্ষিকীতে জাতির বীর সন্তানদের স্মরণে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনে জমকালো আয়োজন থাকবে যশোরে। ২৫শে মার্চ গণহত্যা দিবস পালন এবং ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপনের লক্ষ্যে যশোরে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে কালেক্টরেট সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।গ্রামের কাগজ
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, এবারের স্বাধীনতা দিবসটি বর্তমান সরকারের মেয়াদের প্রথম, সে কারণে দিবসটি জমকালো ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজন করা হবে। আইন শৃংখলা রক্ষা, যানজট নিয়ন্ত্রণসহ সুষ্ঠুভাবে দিবসের আয়োজনে সব ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হবে। ২৪ মার্চ স্কুল ও ২৫ মার্চ কলেজ পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে গণহত্যা দিবস উপলক্ষে রচনা, চিত্রাংকণ, আবৃত্তি প্রতিযোগিতা। একই সাথে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন বীরমুক্তিযোদ্ধাগণ। তারা শিক্ষার্থীদের সামনের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরত্ব গাঁথা তুলে ধরবেন।বাংলাদেশ সংবাদ
সভায় জানানো হয় ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর গণহত্যায় শহীদদের স্মরণে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। ২৫ মার্চ বাদ জোহর অথবা সুবিধাজনক সময়ে সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে এই প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। ২৫ মার্চ রাত ১০টা থেকে ১০টা ১ মিনিট পর্যন্ত সারাদেশের সাথে এক মিনিটের জন্য প্রতীকী ব্ল্যাকআউট পালন করা হবে।
বিশ্বব্যাপী বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবারের স্বাধীনতা দিবসে থাকবে না আলোকসজ্জা। ২৬ মার্চ প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির উদযাপন শুরু হবে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে যশোর মণিহার চত্বরে বিজয় স্তম্ভে ফুলেল শ্রদ্ধা জ্ঞাপন শুরু হবে। সকাল আটটায় যশোর শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামে জাতীয় সঙ্গীত ও পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান শুরু হবে। সকাল সাড়ে আটটায় কুচকাওয়াজ. মার্চপাস্ট ও ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে দশটায় যশোর টাউন হল মাঠের স্বাধীনতা মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে বীরমুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠান। একই মাঠে বিকেলে গ্রামীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সন্ধ্যার পর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি, অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও উপাসনার আয়োজন করা হবে। হাসপাতাল, জেলখানা, শিশু পরিবার, বৃদ্ধাশ্রম, ভবঘুরে প্রতিষ্ঠান ও শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে। শিশুপার্ক ও জাদুঘর বিনা টিকিটে উন্মুক্ত রাখা হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করবে জেলা তথ্য অফিস।
সভায় বক্তৃতা করেন স্থানীয় সরকার বিভাগ যশোরের উপপরিচালক ও পৌরপ্রশাসক রফিকুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিসবি) রুহুল আমিন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যশোর জেলা কমান্ডের এডহক কমিটির আহবায়ক বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ, যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ার রহমান ও সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক, যশোর সদর উপজেলা ইউনিট কমান্ডের এডহক কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম।
প্রতিনিধির নাম 


















