আজিজুল হাকিম তুহিন, লামা: লামা উপজেলার ২০২১ সালের সাম্প্রতিক দাঙ্গা সংক্রান্ত মামলাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের জন্ম হয়েছে। মামলার ভুক্তভোগীদের দাবি—তাদের পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে, এবং এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা মূলত জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের কর্মী হওয়ায় একটি মহল সুপরিকল্পিতভাবে তাদের এই মামলায় জড়িয়ে দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিযোগ করেন, দাঙ্গার সময় তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিতই ছিলেন না; বরং তারা চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন। তবুও তাদের নাম আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—যা তাদের কাছে স্পষ্ট চক্রান্ত ছাড়া কিছু নয়।
তারা আরও বলেন, মামলায় এখনো পর্যন্ত কোনো ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করা হয়নি। অথচ, যদি নিরপেক্ষভাবে ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে বিচার হতো, তাহলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসতো এবং নিরপরাধ কেউ আসামি থাকতো না। তারা প্রশাসনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে জোর দাবি জানিয়েছেন—ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।
এই মামলায় অভিযুক্তদের বড় একটি অংশ দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ। তাদের অভিযোগ, এই মিথ্যা মামলার বোঝা টেনে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
মামলার বাদী প্রধান প্রশান্ত বাবুর ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ—তিনি একদিকে মামলা প্রত্যাহারের কথা বললেও বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছেন না। তার এই দ্বিমুখী অবস্থানকে অনেকেই ‘নাটকীয়তা’ ও ‘দায় এড়ানোর কৌশল’ হিসেবে দেখছেন।
ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ স্পষ্ট: আমাদের জীবন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, অথচ যিনি মামলা করেছেন, তিনি এখন দায় এড়িয়ে চলছেন। এটা শুধু অন্যায় না, এটা মানবিকতারও চরম লঙ্ঘন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের কাছে একটাই দাবি জানিয়েছেন—রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ ও প্রমাণভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হোক এবং নিরপরাধ মানুষদের এই মিথ্যা মামলার জাল থেকে মুক্তি দেওয়া হোক।
প্রতিনিধির নাম 


















