মোহাম্মদ রাসেল মির্জ, টেকনাফ প্রতিনিধি: টেকনাফের উপকূলীয় জনপদে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে মানবপাচার। মালয়েশিয়ার স্বপ্নে সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে আন্দামান সাগরে ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হয়েছেন কমপক্ষে ২৫০ জন যাত্রী। এই মর্মান্তিক খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই টেকনাফের উপকূলীয় জনপদে বইছে শোকের মাতম। প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার আশায় উত্তাল সাগরের তীরে দাঁড়িয়ে স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। এই ট্রাজেডির নেপথ্যে স্থানীয় মানবপাচারকারী সিন্ডিকেটের দুই হোতা শাকের মাঝি ও সাইফুলের নাম উঠে আসায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে টেকনাফ উপকূল থেকে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। আন্দামান সাগরে পৌঁছালে প্রচণ্ড বাতাস ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি তলিয়ে যায়। নিখোঁজদের মধ্যে স্থানীয় বাংলাদেশি নাগরিক ছাড়াও বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।
এই ভয়াবহ মরণফাঁদে সাধারণ মানুষকে ঠেলে দেওয়ার পেছনে সরাসরি আঙুল উঠেছে টেকনাফের দুই প্রভাবশালী মানবপাচারকারীর দিকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শাকের মাঝি সাবরাং ইউনিয়নের এই পাচারকারী পুরো উপকূলীয় রুট ও সাগরপথ নিয়ন্ত্রণ করে। জরাজীর্ণ ট্রলারে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই নিশ্চিত করাই তার কাজ। সাইফুল টেকনাফ সদর ইউনিয়নের এই ব্যক্তি শহর ও গ্রাম থেকে অভাবী ও নিরীহ মানুষদের উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে পাচারকারীদের খপ্পরে নিয়ে আসে।
নিখোঁজদের স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলছেন, আমরা জানি না আমাদের মানুষগুলো বেঁচে আছে নাকি সাগরের নিচে হারিয়ে গেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এই পাচারকারী চক্র পরিকল্পিতভাবে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। বারবার তাদের নাম প্রকাশ্যে এলেও অদৃশ্য কারণে তারা প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় জানান,শাকের মাঝি আর সাইফুলের রক্তমাখা সিন্ডিকেট আমাদের সব শেষ করে দিয়েছে। তাদের এখনই গ্রেপ্তার করা না হলে আরও অনেক পরিবার এভাবে নিঃস্ব হবে।
এদিকে টেকনাফের সচেতন নাগরিক সমাজ ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো অবিলম্বে শাকের মাঝি ও সাইফুলকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো,শাকের মাঝি ও সাইফুলের গ্রেপ্তার: এই দুই হোতাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগাযোগ করে নিখোঁজদের অবস্থান ও ভাগ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া। প্রতিটি ইউনিয়নে পাচারকারীদের নেটওয়ার্ক ধ্বংসে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি বৃদ্ধি করা।
সাগর আজ কেবল ২৫০টি প্রাণই কেড়ে নেয়নি, কেড়ে নিয়েছে শত শত পরিবারের বেঁচে থাকার স্বপ্ন। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসন যদি এখনই এই ঘাতক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ‘ইস্পাত-কঠিন’ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তবে এই উপকূলীয় জনপদ অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে।
প্রতিনিধির নাম 


















