ঢাকা ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চট্টগ্রামে পাঁচ বছরে দেড় কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য: ডিসি জাহিদ শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য শুধু সনদ নয়, মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হতে হবে : ডিসি জাহিদুল ইসলাম মিঞা নরসিংদীর শিবপুরে গাছের চারা রোপণ করেন মোছাঃ ফারজানা ইয়াসমিন সোনারগাঁয়ের পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘বিশ্বেশ্বর পোদ্দার ভবন’ শুভ উদ্বোধনে শিক্ষা মন্ত্রী ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির উদ্বোধন, নারায়ণগঞ্জ সদরে ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ সারা দেশের ন্যায় রামগড়ে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন আসন্ন ইউপি নির্বাচন: আশিয়া নির্বাচনী মাঠে আলোচনায় চেয়ারম্যান পদে ওলামা দল নেতা মাওলানা তৌহিদুল ইসলাম মৌলভীবাজারের উত্তর কলিমাবাদে ক্লুলেস সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রহস্য উদঘাটন: দুই আসামি গ্রেপ্তার- স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ক্সবাজারের ডুলাহাজারা থেকে নারায়ণগঞ্জে একযোগে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির উদ্বোধন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন

জনগণের সকল প্রত্যাশা পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৯:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬
  • ৪৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের সাধারণ জনগণের প্রতিটি সুনির্দিষ্ট প্রত্যাশা ও মৌলিক দাবি পূরণ করতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণভাবে বদ্ধপরিকর বলে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রোববার ৩১মে বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

‘সামনে অত্যন্ত কঠিন সময় অপেক্ষা করছে’ উল্লেখ করে একটি সফল সরকার পরিচালনা করতে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘আজ সকলের (নেতা-কর্মী-সমর্থক) উদ্দেশে বলতে চাই, সামনে অত্যন্ত কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। একই সঙ্গে সামনের সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণও। এমন সময় হেসে-খেলে পার করলে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ক্ষতি হয়ত ব্যক্তি পর্যায়ে হবে না; ক্ষতি হবে দেশের, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের। কাজেই আসুন, শহীদ জিয়া যেভাবে দেশকে গঠন করতে চেয়েছিলেন, যেভাবে সামনে এগিয়ে নিতে চেয়েছিলের; আমরা সে ধারা বজায় রেখেই দেশ পরিচালনার চেষ্টা করি।’

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি ধীরে ধীরে প্রত্যেকটি সেক্টরকে সামনে এগিয়ে নিয়ে দেশকে স্বাবলম্বী করে গড়তে চেয়েছিলেন। আমাদের যে ইশতেহারের পক্ষে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে দেশের মানুষ রায় দিয়েছে সেটিতে শহীদ জিয়ার প্রত্যেকটি পথ নির্দেশিকা মেনে গ্রহণ করেছি।

নেতামকমীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘সরকার সরকারের কাজ করবে। আপনি সরকারি দলেরই একজন কর্মী। সরকার তখনই সফল হতে পারবে যখন আপনি প্রত্যেকটি কার্যক্রমে সহযোগিতা করবেন। সঠিক কাজে সঠিকভাবে সহযোগিতা করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, আইনজীবী ফোরাম, তাঁতি দল বা শ্রমিক দল অর্থাৎ আমাদের মূল দলসহ প্রত্যেকটি অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা দেশের আনাচে কানাচে গ্রাম-গঞ্জে, হাট-বাজারে, উপজেলায়, পৌরসভায়, বিভাগীয় শহর সবখানে-অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে নির্বাচনে দলকে জিতিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু কাজ শেষ হয়ে যায়নি। একইভাবে আমাদের লক্ষ্যগুলো সফল করার মাধ্যমে জনগণের দৃষ্টিতে সফল সরকার হতে হবে।’

শুধু এমপি-মন্ত্রীরা পরিশ্রম করলেই সফলতা আসবে না। সারাদেশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সকল নেতাকর্মী যখন কর্মসূচিগুলোকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠে নামবেন তখন তা সম্ভব হবে। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার একটি রাজনৈতিক সরকার। বিএনপি এমন একটি রাজনৈতিক দল যাদের নীতি আছে, আদর্শ আছে এবং ম্যানিফেস্টোও আছে। এই ম্যানিফেস্টো দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরেছিলাম ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে। জনগণ তা দেখেছে, শুনেছে ও বুঝেছে। এরপর তারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে দায়িত্ব দিয়েছেন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য।’

তিনি বলেন, এই পরিকল্পনা ১২ তারিখ পর্যন্ত ছিল শুধু বিএনপির। কিন্তু নির্বাচনের পর বাংলাদেশের মানুষের রায় যখন জানতে পারলাম, বুঝতে পারলাম জনগণ দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আমাদের দিয়েছেন এই পরিকল্পনার পক্ষে। অর্থাৎ সরকারের ইশতেহার এখন কেবল বিএনপির নয়, এটি এখন জনগণের। যারা এর পক্ষে রায় দিয়েছেন, তাদের সেই আশা-আকাঙ্ক্ষা আমাদের পূরণ করতে হবে।

বিচার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পর দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। গত ১৭ বছরে বিচার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতসহ গণতন্ত্রকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, জাতি তার সাক্ষী।’

সামাজিক অবক্ষয় রোধে পারিবারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘দেশে ফেরার পর মনে হয়েছে পারিবারিক শিক্ষার কিছুটা ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ বাড়াতে কাজ করার সরকারি নির্দেশনা সংশ্লিষ্টদের দেওয়া হয়েছে।’

বাবার স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে দিয়েই বিশ্ব বাংলাদেশকে চিনত। বাংলাদেশ মানেই তাকে বুঝত অনেকে। একজন সন্তান হিসেবে এটি আমাকে গর্বিত করে।’

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘২০২৪ সালে ৫ আগস্ট জনগণকে নিয়ে আমরা একটি সফল আন্দোলন করেছিলাম। এরপর ২০২৬ সালে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সফলভাবে পার করে এসেছি।’

তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা সকলে মিলে চেষ্টা করি, যে ম্যানিফেস্টোর পক্ষে বাংলাদেশের মানুষ রায় দিয়েছে সেটিকে বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা যাতে সফলভাবে সরকারের কার্যক্রম শেষ করতে পারি। তাহলেই শহীদ জিয়ার প্রতি পরিপূর্ণ সম্মান প্রদর্শণ করতে সক্ষম হব বলে বিশ্বাস করি।’

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভায় সভাপতিত্ব করেন।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম মনি এবং ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

এছাড়া অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. লুৎফর রহমান এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন জিয়াউর রহমানের জীবন ও অবদান নিয়ে আলোচনা করেন।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর দলের প্রতিষ্ঠাতার স্মরণে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন এবং তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে পাঁচ বছরে দেড় কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য: ডিসি জাহিদ

জনগণের সকল প্রত্যাশা পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১০:১৯:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের সাধারণ জনগণের প্রতিটি সুনির্দিষ্ট প্রত্যাশা ও মৌলিক দাবি পূরণ করতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণভাবে বদ্ধপরিকর বলে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রোববার ৩১মে বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

‘সামনে অত্যন্ত কঠিন সময় অপেক্ষা করছে’ উল্লেখ করে একটি সফল সরকার পরিচালনা করতে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘আজ সকলের (নেতা-কর্মী-সমর্থক) উদ্দেশে বলতে চাই, সামনে অত্যন্ত কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। একই সঙ্গে সামনের সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণও। এমন সময় হেসে-খেলে পার করলে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ক্ষতি হয়ত ব্যক্তি পর্যায়ে হবে না; ক্ষতি হবে দেশের, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের। কাজেই আসুন, শহীদ জিয়া যেভাবে দেশকে গঠন করতে চেয়েছিলেন, যেভাবে সামনে এগিয়ে নিতে চেয়েছিলের; আমরা সে ধারা বজায় রেখেই দেশ পরিচালনার চেষ্টা করি।’

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি ধীরে ধীরে প্রত্যেকটি সেক্টরকে সামনে এগিয়ে নিয়ে দেশকে স্বাবলম্বী করে গড়তে চেয়েছিলেন। আমাদের যে ইশতেহারের পক্ষে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে দেশের মানুষ রায় দিয়েছে সেটিতে শহীদ জিয়ার প্রত্যেকটি পথ নির্দেশিকা মেনে গ্রহণ করেছি।

নেতামকমীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘সরকার সরকারের কাজ করবে। আপনি সরকারি দলেরই একজন কর্মী। সরকার তখনই সফল হতে পারবে যখন আপনি প্রত্যেকটি কার্যক্রমে সহযোগিতা করবেন। সঠিক কাজে সঠিকভাবে সহযোগিতা করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, আইনজীবী ফোরাম, তাঁতি দল বা শ্রমিক দল অর্থাৎ আমাদের মূল দলসহ প্রত্যেকটি অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা দেশের আনাচে কানাচে গ্রাম-গঞ্জে, হাট-বাজারে, উপজেলায়, পৌরসভায়, বিভাগীয় শহর সবখানে-অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে নির্বাচনে দলকে জিতিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু কাজ শেষ হয়ে যায়নি। একইভাবে আমাদের লক্ষ্যগুলো সফল করার মাধ্যমে জনগণের দৃষ্টিতে সফল সরকার হতে হবে।’

শুধু এমপি-মন্ত্রীরা পরিশ্রম করলেই সফলতা আসবে না। সারাদেশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সকল নেতাকর্মী যখন কর্মসূচিগুলোকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠে নামবেন তখন তা সম্ভব হবে। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার একটি রাজনৈতিক সরকার। বিএনপি এমন একটি রাজনৈতিক দল যাদের নীতি আছে, আদর্শ আছে এবং ম্যানিফেস্টোও আছে। এই ম্যানিফেস্টো দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরেছিলাম ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে। জনগণ তা দেখেছে, শুনেছে ও বুঝেছে। এরপর তারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে দায়িত্ব দিয়েছেন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য।’

তিনি বলেন, এই পরিকল্পনা ১২ তারিখ পর্যন্ত ছিল শুধু বিএনপির। কিন্তু নির্বাচনের পর বাংলাদেশের মানুষের রায় যখন জানতে পারলাম, বুঝতে পারলাম জনগণ দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আমাদের দিয়েছেন এই পরিকল্পনার পক্ষে। অর্থাৎ সরকারের ইশতেহার এখন কেবল বিএনপির নয়, এটি এখন জনগণের। যারা এর পক্ষে রায় দিয়েছেন, তাদের সেই আশা-আকাঙ্ক্ষা আমাদের পূরণ করতে হবে।

বিচার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পর দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। গত ১৭ বছরে বিচার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতসহ গণতন্ত্রকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, জাতি তার সাক্ষী।’

সামাজিক অবক্ষয় রোধে পারিবারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘দেশে ফেরার পর মনে হয়েছে পারিবারিক শিক্ষার কিছুটা ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ বাড়াতে কাজ করার সরকারি নির্দেশনা সংশ্লিষ্টদের দেওয়া হয়েছে।’

বাবার স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে দিয়েই বিশ্ব বাংলাদেশকে চিনত। বাংলাদেশ মানেই তাকে বুঝত অনেকে। একজন সন্তান হিসেবে এটি আমাকে গর্বিত করে।’

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘২০২৪ সালে ৫ আগস্ট জনগণকে নিয়ে আমরা একটি সফল আন্দোলন করেছিলাম। এরপর ২০২৬ সালে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সফলভাবে পার করে এসেছি।’

তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা সকলে মিলে চেষ্টা করি, যে ম্যানিফেস্টোর পক্ষে বাংলাদেশের মানুষ রায় দিয়েছে সেটিকে বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা যাতে সফলভাবে সরকারের কার্যক্রম শেষ করতে পারি। তাহলেই শহীদ জিয়ার প্রতি পরিপূর্ণ সম্মান প্রদর্শণ করতে সক্ষম হব বলে বিশ্বাস করি।’

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভায় সভাপতিত্ব করেন।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম মনি এবং ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

এছাড়া অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. লুৎফর রহমান এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন জিয়াউর রহমানের জীবন ও অবদান নিয়ে আলোচনা করেন।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর দলের প্রতিষ্ঠাতার স্মরণে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন এবং তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।