ঢাকা ১২:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী বস্ত্রখাতের সমস্যা সমাধানে বাস্তবভিত্তিক সমন্বিত নীতি সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতির জনগণের শক্তির ওপর নির্ভর করেই বিএনপি রাজনীতি করে: রুহুল কবির রিজভী রূপগঞ্জে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চুরির অভিযোগে গ্রেফতার-২ টেকনাফে বাল্যবিয়ের আয়োজন, দুই রোহিঙ্গা যুবকের কারাদণ্ড বন্দিদের জন্য মাদকবিরোধী সভা ও গার্মেন্টস প্রশিক্ষণ: ৩ ঘোষণা দিলেন ডিসি মো:রায়হান কবির বরুড়ায় আবু তাহের ফাউন্ডেশনের আন্তঃউপজেলা ফুটবল টুর্নামেন্ট উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে বেনাপোল থেকে দুরপাল্লার আমদানি-রপ্তানি পণ্যের ট্রাকপ্রতি ভাড়া বেড়েছে ৪-৫ হাজার নতুন কুঁড়িতে নিবন্ধনে দেশসেরা চট্টগ্রাম প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিলো সদর উপজেলা প্রশাসন

টেকনাফে ১৪ ভুক্তভোগী উদ্ধার, পাচারকারী ৩ সদস্য আটক

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৫:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৮০ বার পড়া হয়েছে

ফরহাদ রহমান: মানব পাচার প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আবারও প্রমাণ করেছে তাদের অদম্য সক্ষমতা ও দায়িত্ববোধ। একই রাতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) পরিচালিত দুইটি পৃথক অভিযানে ১৪ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং মানব পাচারকারী চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শনিবার (২৬ অক্টোবর) রাতে বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়নের বিশেষ দল দুটি অভিযান পরিচালনা করে। প্রথম অভিযানটি চলে নোয়াখালীপাড়া এলাকায়, যেখানে আবু তাহেরের বাড়ি ঘেরাও করে ৮ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয় এবং পাচারকারী আবু তাহের (৬৯) ও তার স্ত্রী দিলদার বেগম (৩৮)-কে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

এরপর মধ্যরাত ১টা ৩০ মিনিটে দক্ষিণ লম্বরী এলাকায় মোহাম্মদ শফির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আরও ৬ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় মূল অভিযুক্ত শফিকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় বিজিবি সদস্যরা। পাচার চক্রের আরও কয়েকজন সদস্য রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যায়।

বিজিবির নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে এই চক্রটি ভুক্তভোগীদের পাহাড়ি এলাকায় জিম্মি করে রেখেছিল। তবে বিজিবির পরিকল্পিত ও সমন্বিত অভিযান তাদের নীলনকশা ভেস্তে দেয়।

আটককৃত পাচারকারীরা হলেন—মোঃ আবু তাহের (৬৯), পিতা-আমির হোসেন দিলদার বেগম (৩৮), স্বামী-আবু তাহের মোহাম্মদ শফি (৩২), পিতা-আলী হোসেন। এছাড়া পলাতক পাচারকারীদের মধ্যে রয়েছেন ফাইসেল, সাইফুল, নুরুল মোস্তফা, মোঃ উল্লাহ, সাইদ, হারুন প্রকাশ বাবুল ও ফিরোজসহ আরও কয়েকজন।

অভিযান শেষে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি বলেন,“আজকের রাতটি মানব পাচারকারীদের জন্য এক দুঃস্বপ্নের রাত। টেকনাফ সীমান্তের পাহাড় থেকে সাগর পর্যন্ত কোথাও তাদের জন্য নিরাপদ জায়গা নেই। মানবতা বিরোধী এ অপরাধ আমরা কোনোভাবেই বরদাশত করব না। বিজিবির কঠোর নজরদারি ও সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী

টেকনাফে ১৪ ভুক্তভোগী উদ্ধার, পাচারকারী ৩ সদস্য আটক

আপডেট সময় : ০৮:০৫:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫

ফরহাদ রহমান: মানব পাচার প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আবারও প্রমাণ করেছে তাদের অদম্য সক্ষমতা ও দায়িত্ববোধ। একই রাতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) পরিচালিত দুইটি পৃথক অভিযানে ১৪ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং মানব পাচারকারী চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শনিবার (২৬ অক্টোবর) রাতে বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়নের বিশেষ দল দুটি অভিযান পরিচালনা করে। প্রথম অভিযানটি চলে নোয়াখালীপাড়া এলাকায়, যেখানে আবু তাহেরের বাড়ি ঘেরাও করে ৮ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয় এবং পাচারকারী আবু তাহের (৬৯) ও তার স্ত্রী দিলদার বেগম (৩৮)-কে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

এরপর মধ্যরাত ১টা ৩০ মিনিটে দক্ষিণ লম্বরী এলাকায় মোহাম্মদ শফির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আরও ৬ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় মূল অভিযুক্ত শফিকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় বিজিবি সদস্যরা। পাচার চক্রের আরও কয়েকজন সদস্য রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যায়।

বিজিবির নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে এই চক্রটি ভুক্তভোগীদের পাহাড়ি এলাকায় জিম্মি করে রেখেছিল। তবে বিজিবির পরিকল্পিত ও সমন্বিত অভিযান তাদের নীলনকশা ভেস্তে দেয়।

আটককৃত পাচারকারীরা হলেন—মোঃ আবু তাহের (৬৯), পিতা-আমির হোসেন দিলদার বেগম (৩৮), স্বামী-আবু তাহের মোহাম্মদ শফি (৩২), পিতা-আলী হোসেন। এছাড়া পলাতক পাচারকারীদের মধ্যে রয়েছেন ফাইসেল, সাইফুল, নুরুল মোস্তফা, মোঃ উল্লাহ, সাইদ, হারুন প্রকাশ বাবুল ও ফিরোজসহ আরও কয়েকজন।

অভিযান শেষে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি বলেন,“আজকের রাতটি মানব পাচারকারীদের জন্য এক দুঃস্বপ্নের রাত। টেকনাফ সীমান্তের পাহাড় থেকে সাগর পর্যন্ত কোথাও তাদের জন্য নিরাপদ জায়গা নেই। মানবতা বিরোধী এ অপরাধ আমরা কোনোভাবেই বরদাশত করব না। বিজিবির কঠোর নজরদারি ও সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।”