ঢাকা ০৯:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নারায়ণগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালন, ২০ জনকে হুইলচেয়ার বিতরণ অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে সাফল্যের স্বীকৃতি পেল কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি’র সাথে শাহানাজ জামানের সৌজন্য সাক্ষাৎ অটিজমে আক্রান্তদের পূর্ণ মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে প্রতিবন্ধীবান্ধব সমাজ ও রাষ্ট্র গড়তে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির পটিয়ায় ক্লিন ইমেজ যুবদল নেতা পিবলু চৌধুরী বিরুদ্ধে অপপ্রচার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল উখিয়ায় ৪০ হাজার ইয়াবাসহ যুবক আটক চকরিয়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযান: মদ-ইয়াবাসহ আটক ৮ হাম ও উপসর্গে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু আসছে মুর্তজা পলাশের নতুন নাটক ‘বোকা মানুষ’

টেকনাফে ১৪ ভুক্তভোগী উদ্ধার, পাচারকারী ৩ সদস্য আটক

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৫:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫
  • ২০০ বার পড়া হয়েছে

ফরহাদ রহমান: মানব পাচার প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আবারও প্রমাণ করেছে তাদের অদম্য সক্ষমতা ও দায়িত্ববোধ। একই রাতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) পরিচালিত দুইটি পৃথক অভিযানে ১৪ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং মানব পাচারকারী চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শনিবার (২৬ অক্টোবর) রাতে বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়নের বিশেষ দল দুটি অভিযান পরিচালনা করে। প্রথম অভিযানটি চলে নোয়াখালীপাড়া এলাকায়, যেখানে আবু তাহেরের বাড়ি ঘেরাও করে ৮ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয় এবং পাচারকারী আবু তাহের (৬৯) ও তার স্ত্রী দিলদার বেগম (৩৮)-কে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

এরপর মধ্যরাত ১টা ৩০ মিনিটে দক্ষিণ লম্বরী এলাকায় মোহাম্মদ শফির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আরও ৬ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় মূল অভিযুক্ত শফিকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় বিজিবি সদস্যরা। পাচার চক্রের আরও কয়েকজন সদস্য রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যায়।

বিজিবির নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে এই চক্রটি ভুক্তভোগীদের পাহাড়ি এলাকায় জিম্মি করে রেখেছিল। তবে বিজিবির পরিকল্পিত ও সমন্বিত অভিযান তাদের নীলনকশা ভেস্তে দেয়।

আটককৃত পাচারকারীরা হলেন—মোঃ আবু তাহের (৬৯), পিতা-আমির হোসেন দিলদার বেগম (৩৮), স্বামী-আবু তাহের মোহাম্মদ শফি (৩২), পিতা-আলী হোসেন। এছাড়া পলাতক পাচারকারীদের মধ্যে রয়েছেন ফাইসেল, সাইফুল, নুরুল মোস্তফা, মোঃ উল্লাহ, সাইদ, হারুন প্রকাশ বাবুল ও ফিরোজসহ আরও কয়েকজন।

অভিযান শেষে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি বলেন,“আজকের রাতটি মানব পাচারকারীদের জন্য এক দুঃস্বপ্নের রাত। টেকনাফ সীমান্তের পাহাড় থেকে সাগর পর্যন্ত কোথাও তাদের জন্য নিরাপদ জায়গা নেই। মানবতা বিরোধী এ অপরাধ আমরা কোনোভাবেই বরদাশত করব না। বিজিবির কঠোর নজরদারি ও সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালন, ২০ জনকে হুইলচেয়ার বিতরণ

টেকনাফে ১৪ ভুক্তভোগী উদ্ধার, পাচারকারী ৩ সদস্য আটক

আপডেট সময় : ০৮:০৫:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫

ফরহাদ রহমান: মানব পাচার প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আবারও প্রমাণ করেছে তাদের অদম্য সক্ষমতা ও দায়িত্ববোধ। একই রাতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) পরিচালিত দুইটি পৃথক অভিযানে ১৪ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং মানব পাচারকারী চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শনিবার (২৬ অক্টোবর) রাতে বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়নের বিশেষ দল দুটি অভিযান পরিচালনা করে। প্রথম অভিযানটি চলে নোয়াখালীপাড়া এলাকায়, যেখানে আবু তাহেরের বাড়ি ঘেরাও করে ৮ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয় এবং পাচারকারী আবু তাহের (৬৯) ও তার স্ত্রী দিলদার বেগম (৩৮)-কে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

এরপর মধ্যরাত ১টা ৩০ মিনিটে দক্ষিণ লম্বরী এলাকায় মোহাম্মদ শফির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আরও ৬ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় মূল অভিযুক্ত শফিকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় বিজিবি সদস্যরা। পাচার চক্রের আরও কয়েকজন সদস্য রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যায়।

বিজিবির নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে এই চক্রটি ভুক্তভোগীদের পাহাড়ি এলাকায় জিম্মি করে রেখেছিল। তবে বিজিবির পরিকল্পিত ও সমন্বিত অভিযান তাদের নীলনকশা ভেস্তে দেয়।

আটককৃত পাচারকারীরা হলেন—মোঃ আবু তাহের (৬৯), পিতা-আমির হোসেন দিলদার বেগম (৩৮), স্বামী-আবু তাহের মোহাম্মদ শফি (৩২), পিতা-আলী হোসেন। এছাড়া পলাতক পাচারকারীদের মধ্যে রয়েছেন ফাইসেল, সাইফুল, নুরুল মোস্তফা, মোঃ উল্লাহ, সাইদ, হারুন প্রকাশ বাবুল ও ফিরোজসহ আরও কয়েকজন।

অভিযান শেষে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি বলেন,“আজকের রাতটি মানব পাচারকারীদের জন্য এক দুঃস্বপ্নের রাত। টেকনাফ সীমান্তের পাহাড় থেকে সাগর পর্যন্ত কোথাও তাদের জন্য নিরাপদ জায়গা নেই। মানবতা বিরোধী এ অপরাধ আমরা কোনোভাবেই বরদাশত করব না। বিজিবির কঠোর নজরদারি ও সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।”