ঢাকা ১০:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ কাব্যছন্দ ইন্সপায়ার অ্যাওয়ার্ড পেলেন এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ শার্শায় এসএসসি পরীক্ষায় নিজ মেয়েকে সহযোগিতা : প্রধান শিক্ষকসহ দুইজন কারাগারে ভারত থেকে পুশইন, দেশে ফিরলেন ১০ বাংলাদেশি সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে উপ-সচিব গোলাম কিবরিয়া মৌলভীবাজারে হামলা, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ; পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ বাংলাদেশের ৪১৩ রানের জবাব দিচ্ছে পাকিস্তান ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হিজবুল্লাহর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিএনপি নতুন যুদ্ধ শুরু করেছে: প্রধানমন্ত্রী হাওরের সংকট মোকাবিলায় পাঁচ বছর মেয়াদি সমন্বিত কর্মসূচি নেওয়া হবে : অর্থ উপদেষ্টা জিপিএ-৫ কেন্দ্রিক শিক্ষা নয়, বিশ্বমানের নাগরিক গঠনের আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

মৌলভীবাজারে হামলা, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ; পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মাতারকাপন এলাকার বাসিন্দা ফাহিমুল ইসলাম ও তার স্ত্রী নাজমিন চৌধুরীর উপর হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নাজমিন চৌধুরী বাদী হয়ে প্রথমে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

পরবর্তীতে অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা চেয়ে গত ৩ মে ২০২৬ ইং তারিখে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপারের কাছেও লিখিত আবেদন করেছেন তিনি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ এপ্রিল ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালায়। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা ঘরে ঢুকে ভাঙচুর, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। হামলার সময় ঘরে থাকা মালামাল নষ্ট করা হয় এবং স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ লুটের অভিযোগও করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে স্থানীয় আলিম মিয়া, জহির মিয়া, আজিম মিয়া, রুকসানা বেগমসহ আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ দায়েরের পর সদর মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ভাঙচুরসহ বিভিন্ন আলামত পর্যবেক্ষণ করেন এবং ঘটনাস্থলের ছবি সংগ্রহ করেন।

এ সময় তিনি অভিযুক্তদের ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সংঘাত বা দাঙ্গাহাঙ্গামা না করার জন্য সতর্ক করে দেন এবং অন্যথায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানান।

তবে অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর থেকেই অভিযুক্তরা পুনরায় ভুক্তভোগী পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, গালাগালি, উস্কানিমূলক আচরণ এবং হামলার হুমকি দিতে থাকে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম, রুকসানা বেগমসহ অন্যরা বিভিন্নভাবে ভিডিও ধারণ করে উস্কানিমূলক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, অভিযুক্তদের বসতঘরের আশপাশে এলাকার বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট মুরব্বির বাড়ি রয়েছে। তাদের কাছে জানতে চাইলে ঘটনার সত্যতা ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগীদের দাবি, কেবল ফাহিমুল ইসলাম ও তার পরিবারই নয়, আশপাশের লোকজনও অভিযুক্তদের আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। হামলার ঘটনায় আহত হয়ে তারা চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফাহিমুল ইসলাম ও তার স্ত্রী নাজমিন চৌধুরী বলেন, “আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা পুলিশ সুপার বরাবরে একটি অভিযোগ দাখিল করেছি। আমরা আশা করি অভিযোগের প্রেক্ষিতে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ কাব্যছন্দ ইন্সপায়ার অ্যাওয়ার্ড পেলেন এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ

মৌলভীবাজারে হামলা, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ; পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৮:৩৩:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মাতারকাপন এলাকার বাসিন্দা ফাহিমুল ইসলাম ও তার স্ত্রী নাজমিন চৌধুরীর উপর হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নাজমিন চৌধুরী বাদী হয়ে প্রথমে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

পরবর্তীতে অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা চেয়ে গত ৩ মে ২০২৬ ইং তারিখে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপারের কাছেও লিখিত আবেদন করেছেন তিনি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ এপ্রিল ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালায়। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা ঘরে ঢুকে ভাঙচুর, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। হামলার সময় ঘরে থাকা মালামাল নষ্ট করা হয় এবং স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ লুটের অভিযোগও করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে স্থানীয় আলিম মিয়া, জহির মিয়া, আজিম মিয়া, রুকসানা বেগমসহ আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ দায়েরের পর সদর মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ভাঙচুরসহ বিভিন্ন আলামত পর্যবেক্ষণ করেন এবং ঘটনাস্থলের ছবি সংগ্রহ করেন।

এ সময় তিনি অভিযুক্তদের ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সংঘাত বা দাঙ্গাহাঙ্গামা না করার জন্য সতর্ক করে দেন এবং অন্যথায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানান।

তবে অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর থেকেই অভিযুক্তরা পুনরায় ভুক্তভোগী পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, গালাগালি, উস্কানিমূলক আচরণ এবং হামলার হুমকি দিতে থাকে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম, রুকসানা বেগমসহ অন্যরা বিভিন্নভাবে ভিডিও ধারণ করে উস্কানিমূলক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, অভিযুক্তদের বসতঘরের আশপাশে এলাকার বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট মুরব্বির বাড়ি রয়েছে। তাদের কাছে জানতে চাইলে ঘটনার সত্যতা ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগীদের দাবি, কেবল ফাহিমুল ইসলাম ও তার পরিবারই নয়, আশপাশের লোকজনও অভিযুক্তদের আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। হামলার ঘটনায় আহত হয়ে তারা চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফাহিমুল ইসলাম ও তার স্ত্রী নাজমিন চৌধুরী বলেন, “আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা পুলিশ সুপার বরাবরে একটি অভিযোগ দাখিল করেছি। আমরা আশা করি অভিযোগের প্রেক্ষিতে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।