ঢাকা ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অবশেষে আর্সেনালের পথে ব্রাজিল তারকা জাতিসংঘে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত মিয়ানমারের সাবেক জান্তা প্রধানের প্রথম থাইল্যান্ড সফর বেনাপোলে গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিএনপির বর্ণাঢ্য আনন্দ র‍্যালি টেকনাফে কোস্ট গার্ডের দুই অভিযানে ৩৬ হাজার ইয়াবা জব্দ বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দুইটি স্বর্ণেবারসহ পাসপোর্টধারী যাত্রী আটক পটিয়া বিএনপির বিজয় মিছিল সমাবেশ অনুষ্ঠিত প্রিপেইড মিটার বাতিল দাবিতে ১১ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ শহরে গণমিছিল, আসতে পারে হরতালের ঘোষণা ড. লুৎফুল কবিরের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি ও ন্যায়বিচারের আকুতি জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে বন্দরে বিএম ইউনিয়ন স্কুল-অ্যান্ড-কলেজে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদ বিরোধী

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৭:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

মো: আমিনুল ইসলাম: গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গৌরবময় স্মৃতিকে সংরক্ষণ ও পরবর্তী প্রজন্মের নিকট পৌঁছে দিতে নবনির্মিত ❝জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর❞ উদ্বোধন করেছেন।

আজ বুধবার (০৫ আগস্ট ২০২৬) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাদুঘরের স্মৃতিফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ফাতেহা পাঠ, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ, গণআন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি এবং স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের সময়কার নির্যাতন ও নির্মমতার সংরক্ষিত নিদর্শন, আলোকচিত্র, দলিলপত্র, স্মারক, ভিডিওচিত্র ও অন্যান্য তথ্য পরিদর্শন করেন।

এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং প্রধানমন্ত্রীর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ, গণমানুষের অংশগ্রহণ এবং বিজয়ের ইতিহাসভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

পরে ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ জনগণের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, বেদনা, সাহস ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে জাতীয় স্মৃতিতে স্থায়ীভাবে ধারণ করার এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই জাদুঘর শুধু ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের নয়, বাংলাদেশের মানুষের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্পর্ক তুলে ধরবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়- বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী চক্র কখনোই দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে মেনে নিতে পারেনি। তিনি বলেন, এদেরই পূর্বসূরিরা ১৯৭৫ সালে সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছিল। পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে পুনরায় বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব ঐতিহাসিক ঘটনা ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এ সংরক্ষিত হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অবশ্যই উপকৃত হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিহাসকে সত্যনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জাদুঘরে শহীদদের পরিচয়, জীবনকথা, আহতদের সাক্ষ্য, গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতা, আলোকচিত্র, দলিলপত্র, ভিডিওচিত্র, শিল্পকর্ম ও অন্যান্য ঐতিহাসিক উপাদান সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে দেশি-বিদেশি গবেষক এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত প্রতিটি অপরাধের বিচার আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে সম্পন্ন হবে। একই সঙ্গে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ, আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা ও কল্যাণ নিশ্চিত করে শহীদদের আকাঙ্ক্ষার একটি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

গণঅভ্যুত্থানে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং শহীদ পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আর কখনো কোনো তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে না।

আলোচনা সভা শেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

অবশেষে আর্সেনালের পথে ব্রাজিল তারকা

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদ বিরোধী

আপডেট সময় : ০৮:২৭:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

মো: আমিনুল ইসলাম: গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গৌরবময় স্মৃতিকে সংরক্ষণ ও পরবর্তী প্রজন্মের নিকট পৌঁছে দিতে নবনির্মিত ❝জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর❞ উদ্বোধন করেছেন।

আজ বুধবার (০৫ আগস্ট ২০২৬) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাদুঘরের স্মৃতিফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ফাতেহা পাঠ, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ, গণআন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি এবং স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের সময়কার নির্যাতন ও নির্মমতার সংরক্ষিত নিদর্শন, আলোকচিত্র, দলিলপত্র, স্মারক, ভিডিওচিত্র ও অন্যান্য তথ্য পরিদর্শন করেন।

এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং প্রধানমন্ত্রীর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ, গণমানুষের অংশগ্রহণ এবং বিজয়ের ইতিহাসভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

পরে ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ জনগণের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, বেদনা, সাহস ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে জাতীয় স্মৃতিতে স্থায়ীভাবে ধারণ করার এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই জাদুঘর শুধু ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের নয়, বাংলাদেশের মানুষের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্পর্ক তুলে ধরবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়- বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী চক্র কখনোই দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে মেনে নিতে পারেনি। তিনি বলেন, এদেরই পূর্বসূরিরা ১৯৭৫ সালে সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছিল। পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে পুনরায় বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব ঐতিহাসিক ঘটনা ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এ সংরক্ষিত হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অবশ্যই উপকৃত হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিহাসকে সত্যনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জাদুঘরে শহীদদের পরিচয়, জীবনকথা, আহতদের সাক্ষ্য, গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতা, আলোকচিত্র, দলিলপত্র, ভিডিওচিত্র, শিল্পকর্ম ও অন্যান্য ঐতিহাসিক উপাদান সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে দেশি-বিদেশি গবেষক এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত প্রতিটি অপরাধের বিচার আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে সম্পন্ন হবে। একই সঙ্গে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ, আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা ও কল্যাণ নিশ্চিত করে শহীদদের আকাঙ্ক্ষার একটি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

গণঅভ্যুত্থানে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং শহীদ পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আর কখনো কোনো তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে না।

আলোচনা সভা শেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন।