মনির হোসেন,যশোর প্রতিনিধি: সনাতন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব দীপাবলি (কালীপূজা) উপলক্ষে ভারতে ছুটির কারনে সোমবার (০৯ নভেম্বর) দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে বেনাপোল কাস্টমস হাউজ ও বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে। সেই সাথে দু‘দেশের মধ্যে পাসপোর্টযাত্রী পারাপারও চলবে। মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) সকাল থেকে পুনরায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চলবে এ বন্দরে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস স্টাফ এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি জানান, দীপাবলি উপলক্ষে ভারতের পেট্রাপোল ব্যবসায়ীরা সব ধরনের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখবেন। মূলত রোববার বিকাল থেকেই ভারতের পেট্রাপোল বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। এ বিষয়ে তারা আমাদের চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন। তবে ওইদিন যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক থাকবে। বেনাপোল বন্দর ও কাস্টমসে কাজ চলবে। মঙ্গলবার সকাল থেকে পুনরায় আমদানি-রপ্তানি চালু হবে।
ভারতের পেট্রাপোল বন্দর ক্লিয়ারিং এজেন্টস স্টাফ ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্ত্তিক চক্রবর্তী বলেন, সোমবার দীপাবলীতে (কালিপূজা) ভারত সরকারের সরকারি ছুটি থাকায় আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকবে। বেনাপোল বন্দর ব্যবসায়ীদের পত্র দ্বারা আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান বলেন, ভারতে কালী পূজার ছুটির কারনে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকলেও ভারতের সাথে পাসপোর্টযাত্রী চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। ভারত থেকে আগত বা বাংলাদেশ থেকে ভারতগামী পাসপোর্টযাত্রীগন স্বাভাবিক নিয়মে যাতায়াত করতে পারবেন।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন জানান, ভারতে দীপাবলি উপলক্ষে সোমবার কোনো পণ্য আমদানি-রপ্তানি হবে না। তবে বন্দর ও কাস্টমসের সকল কার্যক্রম চালু থাকবে। ভারত থেকে আমদানি পণ্য নিয়ে আসা খালি ট্রাক ফেরত যাওয়ার জন্য চেকপোস্ট কার্গো শাখা খোলা থাকবে। সেই সাথে দু‘দেশের মধ্যে পাসপোর্টযাত্রী চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।
উল্লেখ্য, দেশের অর্থনীতিতে বেনাপোল বন্দরের ভূমিকা অপরিসীম। ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ৯০ ভাগই আসে বেনাপোল বন্দর দিয়ে। মাত্র সাত দিনের এলসিতে পণ্য আনা যায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে। বেনাপোল চেকপোস্ট থেকে কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮১ কিলোমিটার। আড়াই ঘন্টায় চলে আসা যায় চেকপোস্টে। সে কারণে আমদানিকারকরা পণ্য আমদানির জন্য বেনাপোল বন্দর ব্যবহার থাকেন। প্রতিদিন বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৩শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ পণ্য বোঝাই ট্রাক আসে ভারত থেকে। আর ১০০ ট্রাক পণ্য রপ্তানি হয় ভারতে। এ ছাড়াও শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাচাঁ মালামালের পাশাপাশি বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য আসে এই বন্দর দিয়ে । প্রায় আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় প্রভাব পড়ে বাজারসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ থাকায় দু‘দেশের বন্দরে প্রায় শত শত পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে থাকে। এসব পণ্যের মধ্যে শিল্পকারখানার কাঁচামাল, গার্মেন্টস সামগ্রী ও পঁচনশীল জাতীয় পণ্য থাকে। রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে পাট ও পাটজাত পণ্য এবং মাছ।
এর আগে দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটিতে টানা ৮দিন বন্ধ ছিল আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। পরে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বন্ধ থাকে আমদানি-রপ্তানি। আমদানি-রপ্তানির পাশাপাশি চিকিৎসা, ব্যবসা ও বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিদিন দেড় হাজারের বেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী এ পথে যাতায়াত করেন। বাণিজ্যিক কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিদিন সরকার প্রায় ১০ কোটি টাকা এবং যাত্রী যাতায়াত থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে।
প্রতিনিধির নাম 





















