নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আহসান এইচ মনসুরের মতো অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদকে সরিয়ে দেয়া আমাদের হতবাক করেছে। তাকে সরিয়ে সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর বিদেশে অর্থ পাচারের পথ আবারও সুগম করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের ভেঙে পড়া ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে অন্তর্বর্তী সরকার আহসান এইচ মনসুরকে গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ব্যাংকিং খাতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেন এবং বাস্তবায়নে অগ্রগতি দেখান বলেও দাবি করেন তিনি। এতে আর্থিক খাত কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল বলে উল্লেখ করেন এনসিপি আহ্বায়ক।
আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচার রোধেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংককে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিতের উদ্যোগ ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। এসব পদক্ষেপে রাজনৈতিকভাবে সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর স্বার্থে আঘাত লাগে বলে মন্তব্য করেন নাহিদ।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা শুরু হয়। কিছু কর্মকর্তা বিধি উপেক্ষা করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেন এবং গভর্নরের উপদেষ্টাকে শারীরিকভাবে হেনস্তার ঘটনাও ঘটে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এসব ঘটনার সঙ্গে সরকারপন্থি গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেন নাহিদ ইসলাম।
নতুন গভর্নর নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপি আহ্বায়ক। তার দাবি, একজন বিতর্কিত ব্যবসায়ীকে গভর্নর করা হয়েছে, যিনি অতীতে ঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ সুবিধা পেয়েছিলেন। এমন একজনের হাতে দেশের আর্থিক খাত নিরাপদ থাকবে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
আহসান এইচ মনসুরের অপসারণে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এতে করে আবারও অর্থপাচার ও অনিয়মের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সরকারের এ সিদ্ধান্তকে অগণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়ে তিনি এর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতি সুরক্ষায় সৎ, দক্ষ ও অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদের হাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
প্রতিনিধির নাম 























