ঢাকা ০৫:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রামগড়ে গুণগত মানসম্পন্ন বীজ, চারা ও কলম উৎপাদন বিষয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত টেকনাফের পাহাড়ে তিন যুবকের মরদেহ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য যশোরে এসএসসি পরীক্ষা শুরু, বাইরে অভিভাবকদের ভিড়, চলছে ব্যাপক কড়াকড়ি এসএসসি পরীক্ষা পরিদর্শনকালে নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি: ডিসি মোঃ রায়হান কবির ছয়দফা দাবিতে যশোরে  বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি কৃষক খেতমজুর সমিতির ৪৫ জন রোগীর মেরুদণ্ডের সফল অস্ত্রোপচার যশোর হাসপাতালে দেশের মানুষ ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছে : প্রধানমন্ত্রী বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথের কাজ দ্রুত শুরু হবে: প্রধানমন্ত্রী শামীম আরা স্বপ্না কে অভিনন্দন জানালেন এমপি শাহজাহান চৌধুরী টেকনাফে অন্তর্ভুক্তিমূলক গ্রাম আদালত রেডিও উৎসবে ইউএনও

সিদ্ধিরগঞ্জে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, ৩৪ ধারায় আদালতে প্রেরণ

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৪:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪২ বার পড়া হয়েছে

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:-সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের বিরুদ্ধে ইয়াবাসহ আব্দুল কাদের নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ৩৪ ধারায় আদালতে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এরকম একটি অডিও গণমাধ্যম কর্মীদের হাতে আসলে বিষয়টি জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বাহিরে আছেন বলে বলেন মোবাইলে নয় থানায় এসে স্বাক্ষাতে কথা বলবেন।
জানাগেছে, শনিবার (১৮ এপ্রিল) দিবাগত রাতে আদমজী বিহারী ক্যাম্প এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আব্দুল কাদেরকে গ্রেপ্তার করেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই মাহবুব। পরে রাতভর দেন দরবার করে ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে ৩৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তারকৃত মাদক কারবারি আব্দুল কাদের ওই এলাকার মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে।
এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং মাদক নির্মূলে পুলিশের ভুমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
তথ্যানুসারে সূত্রে জানা গেছে, ইয়াবাসহ আব্দুল কাদেরকে গ্রেপ্তারের পর কাদেরের স্ত্রী স্থানীয় বিএনপি নেতা আকরামের শরণাপন্ন হন।
আকরাম ওই পুলিশ কর্মকর্তার সাথে টাকার বিনিময়ে বিষয়টি রফাদফার চেষ্টা চালান। এক পর্যায়ে দরকষাকষিতে আকরাম ব্যর্থ হলে আব্দুল কাদেরের স্ত্রী সরাসরি পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেন। এরপর থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, শেষ পর্যন্ত ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টি রফাদফা হয়। মাদক মামলার পরিবর্তে আব্দুল কাদেরকে ৩৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়।
এলাকাবাসী জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল কাদের ও তার স্ত্রী উভয়েই এলাকায় মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংশ্লিষ্ট একটি হত্যা মামলা এবং একটি চুরির মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এমন একজন চিহ্নিত অপরাধীকে মাদকসহ ধরার পরও ৩৪ ধারায় চালান দেওয়ায় পুলিশের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার মাহবুব হাসান বলেন, আমি আদালতে সাক্ষী দেওয়ার জন্য বর্তমানে থানার বাইরে আছি। এ বিষয়ে থানায় এসে স্বাক্ষাতে কথা বলবো। এরপরই তিনি ফোনটি কেটে দেন।
অন্যদিকে, অভিযানে সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ইকবাল হোসেন পুরোপুরি দায় অস্বীকার করে বলেন, আমি বিহারী ক্যাম্প কোথায় চিনি না, সেখানে কখনো আসামি ধরতে যাইনি।
তবে স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, এসআই মাহবুবের নেতৃত্বেই ওই অভিযান পরিচালিত হয়েছিল এবং থানার ভেতরেই টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়।
মাদক নির্মূলে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের মাঝেও অর্থের বিনিময়ে মাদককারবারিকে ছেড়ে দেওয়া বা ৩৪ ধারায় মামলা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ আদমজী বিহারী ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দারা।
তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এমদাদুল হক বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

রামগড়ে গুণগত মানসম্পন্ন বীজ, চারা ও কলম উৎপাদন বিষয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

সিদ্ধিরগঞ্জে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, ৩৪ ধারায় আদালতে প্রেরণ

আপডেট সময় : ১০:৫৪:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:-সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের বিরুদ্ধে ইয়াবাসহ আব্দুল কাদের নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ৩৪ ধারায় আদালতে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এরকম একটি অডিও গণমাধ্যম কর্মীদের হাতে আসলে বিষয়টি জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বাহিরে আছেন বলে বলেন মোবাইলে নয় থানায় এসে স্বাক্ষাতে কথা বলবেন।
জানাগেছে, শনিবার (১৮ এপ্রিল) দিবাগত রাতে আদমজী বিহারী ক্যাম্প এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আব্দুল কাদেরকে গ্রেপ্তার করেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই মাহবুব। পরে রাতভর দেন দরবার করে ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে ৩৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তারকৃত মাদক কারবারি আব্দুল কাদের ওই এলাকার মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে।
এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং মাদক নির্মূলে পুলিশের ভুমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
তথ্যানুসারে সূত্রে জানা গেছে, ইয়াবাসহ আব্দুল কাদেরকে গ্রেপ্তারের পর কাদেরের স্ত্রী স্থানীয় বিএনপি নেতা আকরামের শরণাপন্ন হন।
আকরাম ওই পুলিশ কর্মকর্তার সাথে টাকার বিনিময়ে বিষয়টি রফাদফার চেষ্টা চালান। এক পর্যায়ে দরকষাকষিতে আকরাম ব্যর্থ হলে আব্দুল কাদেরের স্ত্রী সরাসরি পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেন। এরপর থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, শেষ পর্যন্ত ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টি রফাদফা হয়। মাদক মামলার পরিবর্তে আব্দুল কাদেরকে ৩৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়।
এলাকাবাসী জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল কাদের ও তার স্ত্রী উভয়েই এলাকায় মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংশ্লিষ্ট একটি হত্যা মামলা এবং একটি চুরির মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এমন একজন চিহ্নিত অপরাধীকে মাদকসহ ধরার পরও ৩৪ ধারায় চালান দেওয়ায় পুলিশের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার মাহবুব হাসান বলেন, আমি আদালতে সাক্ষী দেওয়ার জন্য বর্তমানে থানার বাইরে আছি। এ বিষয়ে থানায় এসে স্বাক্ষাতে কথা বলবো। এরপরই তিনি ফোনটি কেটে দেন।
অন্যদিকে, অভিযানে সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ইকবাল হোসেন পুরোপুরি দায় অস্বীকার করে বলেন, আমি বিহারী ক্যাম্প কোথায় চিনি না, সেখানে কখনো আসামি ধরতে যাইনি।
তবে স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, এসআই মাহবুবের নেতৃত্বেই ওই অভিযান পরিচালিত হয়েছিল এবং থানার ভেতরেই টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়।
মাদক নির্মূলে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের মাঝেও অর্থের বিনিময়ে মাদককারবারিকে ছেড়ে দেওয়া বা ৩৪ ধারায় মামলা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ আদমজী বিহারী ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দারা।
তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এমদাদুল হক বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি।