ঢাকা ১০:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুষ্টিয়ায় বৃদ্ধাকে অচেতন করে ১০ লাখ টাকা লুট, গ্রেপ্তার ৬ খুলনায় লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলির শিকার শিক্ষা কর্মকর্তা মশিউর রহমান বরিশালে ঠিকাদারের মোটরসাইকেল নিয়ে গেলেন বিএনপি নেতা, চাঁদা দাবির অভিযোগ স্বপ্নের প্রথম সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্ট প্রকাশ, টেকসই উন্নয়নের উদ্যোগ তুলে ধরা হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আটক যুবক বিএনপির রাজনীতির দাবি করেছেন তুরস্কে গাছের স্থান পরিবর্তনের ভিডিও নিয়ে আলোচনা যশোরে এসআরবি’র অভিযান; ৫০ বোতল উইনকেরিক্সসহ আটক ১ এইচএসসি ফলাফল বিপর্যয়: শিক্ষাব্যবস্থার অন্তর্নিহিত সংকট, দায়বদ্ধতা ও উত্তরণের পথ রামগড়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ মাধবপুরে ৩ টন ভারতীয় জিরাসহ ট্রাক জব্দ, গ্রেপ্তার ৩

বিজিবির অভিযানে মানবপাচারের চেষ্টা ব্যর্থ, ৯ জন উদ্ধার

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৫:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

বিজিবির অভিযানে মানবপাচারের চেষ্টা — কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার দক্ষিণ লম্বরীঘাট এলাকায় বিজিবির অভিযানে মানবপাচারের একটি চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। শনিবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ৯ জনকে উদ্ধার করা হয়, যাদের মধ্যে কিশোর-কিশোরীও রয়েছে। পাচারকারীদের একটি নৌকা তাদের নিতে ঘাটের দিকে আসছিল, কিন্তু বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালিয়ে যায়।

বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী রবিবার (৮ অক্টোবর) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে যে, দক্ষিণ লম্বরীঘাট এলাকায় কয়েকজনকে জোরপূর্বক সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের প্রস্তুতি চলছে।

শনিবার বিকালে বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তারা ঘাটে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দলকে দেখতে পান। এ সময় সমুদ্র থেকে একটি সন্দেহজনক নৌকা ঘাটের দিকে আসতে দেখে বিজিবি সদস্যরা সেটিকে ধাওয়া করেন।

অভিযানের সময় পাচারচক্রের ১০ থেকে ১৫ সদস্য দ্রুত নৌকায় উঠে সাগরের দিকে পালিয়ে যায়। বিজিবি সদস্যরা পরে ঘটনাস্থল থেকে ৯ জনকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ১৭ ও ১৬ বছর বয়সী দুজন কিশোর এবং ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী রয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা, অন্যরা কক্সবাজার সদর, চকরিয়া, মহেশখালী ও উখিয়া উপজেলার বাসিন্দা।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধারকৃত ব্যক্তিরা জানান যে, তাদের জোরপূর্বক মানব পাচারের উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় নিয়ে আসা হয়েছিল। তিনি বলেন, মানব পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে বিজিবির অবস্থান কঠোর।

বিজিবি অধিনায়ক আরও জানান, সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকায় মানব পাচার প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা, নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। উদ্ধারকৃত ব্যক্তিদের থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। মানব পাচার প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমকে স্বাগত জানানো হয়েছে। তবে, পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মানব পাচার একটি গুরুতর অপরাধ এবং এটি প্রতিরোধে সকলকে সচেতন হতে হবে। উদ্ধারকৃতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় বৃদ্ধাকে অচেতন করে ১০ লাখ টাকা লুট, গ্রেপ্তার ৬

বিজিবির অভিযানে মানবপাচারের চেষ্টা ব্যর্থ, ৯ জন উদ্ধার

আপডেট সময় : ০২:৪৫:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

বিজিবির অভিযানে মানবপাচারের চেষ্টা — কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার দক্ষিণ লম্বরীঘাট এলাকায় বিজিবির অভিযানে মানবপাচারের একটি চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। শনিবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ৯ জনকে উদ্ধার করা হয়, যাদের মধ্যে কিশোর-কিশোরীও রয়েছে। পাচারকারীদের একটি নৌকা তাদের নিতে ঘাটের দিকে আসছিল, কিন্তু বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালিয়ে যায়।

বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী রবিবার (৮ অক্টোবর) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে যে, দক্ষিণ লম্বরীঘাট এলাকায় কয়েকজনকে জোরপূর্বক সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের প্রস্তুতি চলছে।

শনিবার বিকালে বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তারা ঘাটে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দলকে দেখতে পান। এ সময় সমুদ্র থেকে একটি সন্দেহজনক নৌকা ঘাটের দিকে আসতে দেখে বিজিবি সদস্যরা সেটিকে ধাওয়া করেন।

অভিযানের সময় পাচারচক্রের ১০ থেকে ১৫ সদস্য দ্রুত নৌকায় উঠে সাগরের দিকে পালিয়ে যায়। বিজিবি সদস্যরা পরে ঘটনাস্থল থেকে ৯ জনকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ১৭ ও ১৬ বছর বয়সী দুজন কিশোর এবং ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী রয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা, অন্যরা কক্সবাজার সদর, চকরিয়া, মহেশখালী ও উখিয়া উপজেলার বাসিন্দা।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধারকৃত ব্যক্তিরা জানান যে, তাদের জোরপূর্বক মানব পাচারের উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় নিয়ে আসা হয়েছিল। তিনি বলেন, মানব পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে বিজিবির অবস্থান কঠোর।

বিজিবি অধিনায়ক আরও জানান, সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকায় মানব পাচার প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা, নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। উদ্ধারকৃত ব্যক্তিদের থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। মানব পাচার প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমকে স্বাগত জানানো হয়েছে। তবে, পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মানব পাচার একটি গুরুতর অপরাধ এবং এটি প্রতিরোধে সকলকে সচেতন হতে হবে। উদ্ধারকৃতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হবে।