ঢাকা ১০:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণের প্রতিবাদ কুষ্টিয়ায় বৃদ্ধাকে অচেতন করে ১০ লাখ টাকা লুট, গ্রেপ্তার ৬ খুলনায় লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলির শিকার শিক্ষা কর্মকর্তা মশিউর রহমান বরিশালে ঠিকাদারের মোটরসাইকেল নিয়ে গেলেন বিএনপি নেতা, চাঁদা দাবির অভিযোগ স্বপ্নের প্রথম সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্ট প্রকাশ, টেকসই উন্নয়নের উদ্যোগ তুলে ধরা হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আটক যুবক বিএনপির রাজনীতির দাবি করেছেন তুরস্কে গাছের স্থান পরিবর্তনের ভিডিও নিয়ে আলোচনা যশোরে এসআরবি’র অভিযান; ৫০ বোতল উইনকেরিক্সসহ আটক ১ এইচএসসি ফলাফল বিপর্যয়: শিক্ষাব্যবস্থার অন্তর্নিহিত সংকট, দায়বদ্ধতা ও উত্তরণের পথ রামগড়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ

কুষ্টিয়ায় বৃদ্ধাকে অচেতন করে ১০ লাখ টাকা লুট, গ্রেপ্তার ৬

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৬:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

কুষ্টিয়ায় বৃদ্ধাকে অচেতন করে — কুষ্টিয়া শহরে এক বৃদ্ধাকে ‘শয়তানের নিশ্বাস’ নামে পরিচিত চেতনানাশক পদার্থ প্রয়োগ করে অচেতন করে ১০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই ঘটনা ঘটে গত ১৬ আগস্ট, এবং প্রায় আড়াই মাস পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযানের মাধ্যমে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়া শহরের পূর্ব মজমপুর এলাকায় ওই দিন দুপুর ৩টা ১৩ মিনিট থেকে ৩টা ৩০ মিনিটের মধ্যে মাত্র ১৭ মিনিটের মধ্যে দুর্বৃত্তরা বৃদ্ধার বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা বৃদ্ধার ওপর চেতনানাশক পদার্থ প্রয়োগ করে তাঁকে অচেতন করে নগদ ১০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী বৃদ্ধার ছেলে ওয়াসিফ বিল্লাহ কুষ্টিয়া সদর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় নাঈম হোসেন, পারভীনা খাতুন, মো. ইদাদুল, মো. মনিরুল ইসলাম ও সাবিনা গণপতসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।

মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান কুষ্টিয়া সদর থানার উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) বাদশাহ মিয়া। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে আসামিদের শনাক্ত করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ৭ নভেম্বর বিকেল ৪টার দিকে মেহেরপুরের গাংনী থানার নওদা হোগলবাড়িয়া (শুকুরকান্দি) গ্রামে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নাঈম হোসেন, পারভীনা খাতুন ও ইদাদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে তারিকুল ইসলাম ও মিজানুর রহমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বিকেল ৫টার দিকে ইদাদুলের দেখানো মতে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে রেহা খাতুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে লুট হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অলংকারের মধ্যে রয়েছে একটি স্বর্ণের গলার হার, এক জোড়া কানের দুল, এক জোড়া ঝুমকা, এক জোড়া কানের বালা, এক জোড়া কানের টানা, দুটি স্বর্ণের আংটি ও একটি গলার চেইন। এসব অলংকারের মোট ওজন ৪৫ দশমিক ৭৮ গ্রাম এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।

উদ্ধার করা স্বর্ণালংকার স্থানীয় একটি অনুমোদিত স্বর্ণ পরীক্ষার দোকানে পরীক্ষা করানো হলে সেগুলো স্বর্ণ বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে ৭ নভেম্বর বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে অলংকারগুলো জব্দ করে পুলিশ।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত করে আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ‘শয়তানের নিশ্বাস’ নামে পরিচিত চেতনানাশক পদার্থ প্রয়োগ করে বৃদ্ধাকে অচেতন করার পর স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণের প্রতিবাদ

কুষ্টিয়ায় বৃদ্ধাকে অচেতন করে ১০ লাখ টাকা লুট, গ্রেপ্তার ৬

আপডেট সময় : ০৯:৫৬:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

কুষ্টিয়ায় বৃদ্ধাকে অচেতন করে — কুষ্টিয়া শহরে এক বৃদ্ধাকে ‘শয়তানের নিশ্বাস’ নামে পরিচিত চেতনানাশক পদার্থ প্রয়োগ করে অচেতন করে ১০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই ঘটনা ঘটে গত ১৬ আগস্ট, এবং প্রায় আড়াই মাস পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযানের মাধ্যমে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়া শহরের পূর্ব মজমপুর এলাকায় ওই দিন দুপুর ৩টা ১৩ মিনিট থেকে ৩টা ৩০ মিনিটের মধ্যে মাত্র ১৭ মিনিটের মধ্যে দুর্বৃত্তরা বৃদ্ধার বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা বৃদ্ধার ওপর চেতনানাশক পদার্থ প্রয়োগ করে তাঁকে অচেতন করে নগদ ১০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী বৃদ্ধার ছেলে ওয়াসিফ বিল্লাহ কুষ্টিয়া সদর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় নাঈম হোসেন, পারভীনা খাতুন, মো. ইদাদুল, মো. মনিরুল ইসলাম ও সাবিনা গণপতসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।

মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান কুষ্টিয়া সদর থানার উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) বাদশাহ মিয়া। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে আসামিদের শনাক্ত করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ৭ নভেম্বর বিকেল ৪টার দিকে মেহেরপুরের গাংনী থানার নওদা হোগলবাড়িয়া (শুকুরকান্দি) গ্রামে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নাঈম হোসেন, পারভীনা খাতুন ও ইদাদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে তারিকুল ইসলাম ও মিজানুর রহমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বিকেল ৫টার দিকে ইদাদুলের দেখানো মতে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে রেহা খাতুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে লুট হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অলংকারের মধ্যে রয়েছে একটি স্বর্ণের গলার হার, এক জোড়া কানের দুল, এক জোড়া ঝুমকা, এক জোড়া কানের বালা, এক জোড়া কানের টানা, দুটি স্বর্ণের আংটি ও একটি গলার চেইন। এসব অলংকারের মোট ওজন ৪৫ দশমিক ৭৮ গ্রাম এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।

উদ্ধার করা স্বর্ণালংকার স্থানীয় একটি অনুমোদিত স্বর্ণ পরীক্ষার দোকানে পরীক্ষা করানো হলে সেগুলো স্বর্ণ বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে ৭ নভেম্বর বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে অলংকারগুলো জব্দ করে পুলিশ।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত করে আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ‘শয়তানের নিশ্বাস’ নামে পরিচিত চেতনানাশক পদার্থ প্রয়োগ করে বৃদ্ধাকে অচেতন করার পর স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।