ঢাকা ১২:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফতুল্লায় তিতাসের অভিযান: ৪০০ অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন, ওয়াশিং কারখানাকে জরিমানা নারায়ণগঞ্জ সদরে যুব সংগঠক ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে ইউএনও’র মতবিনিময়: কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণে জোর সাংবাদিক সোনালীর পাশে থেকে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেখালেন ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে সেবার মান ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি জেলা প্রশাসকের কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অস্থায়ী কার্যালয় পরিদর্শনে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু মানব পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে নারায়ণগঞ্জে জেলা পর্যায়ের সেনসিটাইজেশন কর্মশালা রামুতে র‌্যাবের অভিযানে গোয়ালঘর থেকে বন্দুক ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিক তানভীর হোসেনের মা অসুস্থ, সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা রংপুরে শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় নারীকে হত্যার উদ্দেশ্য হামলা হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর চট্টগ্রাম বিভাগীয় ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল সম্পন্ন,নতুন কমিটি গঠন

নির্বাচন কীভাবে করবেন তা নিয়ে নিজেরা বসুন, রাজনৈতিক নেতাদের ড. ইউনূস

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১২:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৪৬ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঐক্যের সুর নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনের দিকে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এই নির্বাচন কীভাবে করা হবে, সেজন্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের বসে একটি সনদ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) জুলাই জাতীয় সনদ সাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই সুর, যে সুর আজকে আমরা এখানে বাজালাম, সেই সুর নিয়ে আমরা নির্বাচনের দিকে যাব। ঐক্যের সুর। ঐক্যের সুর দিয়ে আমরা নির্বাচনের দিকে যাব। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে এবং এই ঐক্য যেন বজায় থাকে।

ড. ইউনূস বলেন, এই সনদের মাধ্যমে আমরা আরেকটা বড় কাজ করলাম। আমরা বর্বরতা থেকে সভ্যতায় এলাম। আমরা এক বর্বর জগতে ছিলাম, যেখানে আইন-কানুন ছিল না। মানুষের যা ইচ্ছা তা করতে পারত। এখন আমরা সভ্যতায় এলাম এবং এমন সভ্যতা আমরা গড়ে তুলব, মানুষ বিস্ময় চোখে আমাদেরকে দেখবে। কাজেই সেটা এখন আমাদের পরবর্তী জীবন- এই সনদ-পরবর্তী জীবন আমরা কীভাবে গঠন করব, তার উপর নির্ভর করবে।

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত আমরা আমাদের যে সম্পদ আছে, যেটা আমরা ব্যবহার করতে পারিনি। আমি বারে বারে যেটার কথা উল্লেখ করি- এটা হলো বঙ্গোপসাগর। বঙ্গোপসাগর আমাদেরই অঞ্চল, আমাদেরই বাংলাদেশের অংশ। কোনোদিন আমরা খেয়াল করে দেখি নাই এই অংশে আমরা কী করি। এই অংশ অত্যন্ত সম্পদশালী অংশ। আমরা বলছি যে এটা আমরা পূর্ণ ব্যবহার করতে চাই, সম্পদকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমরা আর তর্ক-বিতর্কের মধ্যে থাকতে চাই না। সেজন্যই আজকে সনদ হলো। এই সনদ তর্ক-বিতর্কের অবসান করবে। আমরা নিয়মমতো চলে যাবো। আমরা এখন নিয়ম মাফিক চলার জন্য তৈরি হয়েছি।

তিনি বলেন, আমি বারবার বলছি যে, আমরা যদি সমুদ্র বন্দর করে দিই, তাহলে সারা দুনিয়ার জাহাজ আমাদের বন্দরে ভিড়তে বাধ্য হবে। আমাদের পণ্য সিঙ্গাপুরে খালাস করে দিয়ে চলে যেতে হবে না। অন্য দেশের পণ্য সিঙ্গাপুরে খালাস করে দিয়ে যেতে হবে না। আমার দুয়ার পর্যন্ত নিয়ে আসতে পারবে এবং অন্যান্য দেশের যারা সুযোগ দিতে পারবে না, তাদের পণ্য এখানে দেওয়া যাবে। আমাদের এখান থেকে তারা নিয়ে যাবে। কাজেই এটা একটা বিরাট সুযোগ।

তিনি আরও বলেন, আমাদের পরিকল্পনায় যদি আমরা মাতারবাড়ি, কক্সবাজার, মহেশখালী সবকিছু মিলিয়ে একযোগে বন্দর উন্নত করি, তাহলে পুরো এলাকা নতুন সিঙ্গাপুরে পরিণত হবে। এটা নির্ঘাত। এটার থেকে কেউ বাইরে যেতে পারবে না। সব দেশের মানুষ এখানে আসবে। আমরা আমাদের অর্থনীতির অংশ হিসেবে আঞ্চলিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারি। আমরা নেপালে, ভুটানে, সেভেন সিস্টারসে- তাদের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি শুধু এই বন্দরের কারণে, এই যোগাযোগের কারণে। তারাও সমৃদ্ধ হবে, আমরাও সমৃদ্ধ হবো। কাজেই এই সুযোগগুলো আছে, যদি আমরা পথমত ঠিকমতো চলতে পারি।

 

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফতুল্লায় তিতাসের অভিযান: ৪০০ অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন, ওয়াশিং কারখানাকে জরিমানা

নির্বাচন কীভাবে করবেন তা নিয়ে নিজেরা বসুন, রাজনৈতিক নেতাদের ড. ইউনূস

আপডেট সময় : ০৮:১২:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঐক্যের সুর নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনের দিকে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এই নির্বাচন কীভাবে করা হবে, সেজন্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের বসে একটি সনদ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) জুলাই জাতীয় সনদ সাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই সুর, যে সুর আজকে আমরা এখানে বাজালাম, সেই সুর নিয়ে আমরা নির্বাচনের দিকে যাব। ঐক্যের সুর। ঐক্যের সুর দিয়ে আমরা নির্বাচনের দিকে যাব। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে এবং এই ঐক্য যেন বজায় থাকে।

ড. ইউনূস বলেন, এই সনদের মাধ্যমে আমরা আরেকটা বড় কাজ করলাম। আমরা বর্বরতা থেকে সভ্যতায় এলাম। আমরা এক বর্বর জগতে ছিলাম, যেখানে আইন-কানুন ছিল না। মানুষের যা ইচ্ছা তা করতে পারত। এখন আমরা সভ্যতায় এলাম এবং এমন সভ্যতা আমরা গড়ে তুলব, মানুষ বিস্ময় চোখে আমাদেরকে দেখবে। কাজেই সেটা এখন আমাদের পরবর্তী জীবন- এই সনদ-পরবর্তী জীবন আমরা কীভাবে গঠন করব, তার উপর নির্ভর করবে।

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত আমরা আমাদের যে সম্পদ আছে, যেটা আমরা ব্যবহার করতে পারিনি। আমি বারে বারে যেটার কথা উল্লেখ করি- এটা হলো বঙ্গোপসাগর। বঙ্গোপসাগর আমাদেরই অঞ্চল, আমাদেরই বাংলাদেশের অংশ। কোনোদিন আমরা খেয়াল করে দেখি নাই এই অংশে আমরা কী করি। এই অংশ অত্যন্ত সম্পদশালী অংশ। আমরা বলছি যে এটা আমরা পূর্ণ ব্যবহার করতে চাই, সম্পদকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমরা আর তর্ক-বিতর্কের মধ্যে থাকতে চাই না। সেজন্যই আজকে সনদ হলো। এই সনদ তর্ক-বিতর্কের অবসান করবে। আমরা নিয়মমতো চলে যাবো। আমরা এখন নিয়ম মাফিক চলার জন্য তৈরি হয়েছি।

তিনি বলেন, আমি বারবার বলছি যে, আমরা যদি সমুদ্র বন্দর করে দিই, তাহলে সারা দুনিয়ার জাহাজ আমাদের বন্দরে ভিড়তে বাধ্য হবে। আমাদের পণ্য সিঙ্গাপুরে খালাস করে দিয়ে চলে যেতে হবে না। অন্য দেশের পণ্য সিঙ্গাপুরে খালাস করে দিয়ে যেতে হবে না। আমার দুয়ার পর্যন্ত নিয়ে আসতে পারবে এবং অন্যান্য দেশের যারা সুযোগ দিতে পারবে না, তাদের পণ্য এখানে দেওয়া যাবে। আমাদের এখান থেকে তারা নিয়ে যাবে। কাজেই এটা একটা বিরাট সুযোগ।

তিনি আরও বলেন, আমাদের পরিকল্পনায় যদি আমরা মাতারবাড়ি, কক্সবাজার, মহেশখালী সবকিছু মিলিয়ে একযোগে বন্দর উন্নত করি, তাহলে পুরো এলাকা নতুন সিঙ্গাপুরে পরিণত হবে। এটা নির্ঘাত। এটার থেকে কেউ বাইরে যেতে পারবে না। সব দেশের মানুষ এখানে আসবে। আমরা আমাদের অর্থনীতির অংশ হিসেবে আঞ্চলিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারি। আমরা নেপালে, ভুটানে, সেভেন সিস্টারসে- তাদের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি শুধু এই বন্দরের কারণে, এই যোগাযোগের কারণে। তারাও সমৃদ্ধ হবে, আমরাও সমৃদ্ধ হবো। কাজেই এই সুযোগগুলো আছে, যদি আমরা পথমত ঠিকমতো চলতে পারি।