ঢাকা ০৬:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নিজ কার্যালয়ে বিদায়ী ভাষণ দিলেন প্রধান উপদেষ্টা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকায় নির্বাচন প্রশংসিত: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ভালো মন্দ মিলিয়ে দায়িত্বের দেড় বছর শেষ হলো: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা টেকনাফে কোস্ট গার্ড ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে ১৫ জন উদ্ধার বরুড়ায় আলো পাঠাগার কর্তৃক ইফতার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ সিদ্ধিরগঞ্জে নির্মাণাধীন ভবনে নারীর মরদেহ, সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার মন্ত্রীদের জন্য ধানমন্ডিসহ কয়েকটি এলাকায় ৩৭টি বাসা প্রস্তুত: গণপূর্ত উপদেষ্টা শপথ অনুষ্ঠানে থাকছেন ১২শ দেশি-বিদেশি অতিথি টেকনাফে প্রাইভেটকারে ৬ হাজার ইয়াবা উদ্ধার চালক আটক বিয়ের প্রলোভনেশারীরিক সম্পর্ক ও পর্নোগ্রাফির মামলায় চার্জশিট

পরিবেশ উপদেষ্টার সতর্কতা:নদী দূষণে হুমকিতে ডলফিন, বিপদে মানুষও

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২৩:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫
  • ৯৪ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: নদী, প্রাণী আর মানুষের বেঁচে থাকা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তার মতে, ডলফিন আমাদের নদীর সুস্থতার প্রতীক। যেখানে ডলফিন টিকে থাকে, সেখানে নদীও টিকে থাকে আর নদী টিকে থাকলেই মানুষ বাঁচে।

রোববার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন অধিদপ্তর আয়োজিত আন্তর্জাতিক মিঠাপানির ডলফিন দিবসের আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ডলফিন রক্ষা মানে নদী রক্ষা, আর নদী রক্ষা মানেই মানুষের জীবন রক্ষা। ডলফিন নিয়ে কথা বলা মানে আমাদের বেঁচে থাকার কথাই বলা। কারণ, নদীর পানি যদি দূষিত হয়, তবে তা যেমন ডলফিনের জন্য বিপদ, তেমনি মানুষের জন্যও। নদী পরিষ্কার রাখাই মানুষের ও ডলফিনের জীবনের অন্যতম শর্ত।

নদী দূষণের জন্য মানবিক দায়িত্ববোধের অভাবকেই দায়ী করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘আমরা নিজেরাই আমাদের নদীগুলোকে দূষিত করছি অথচ নিজেদের সভ্য জাতি দাবি করছি– এটা পরস্পরবিরোধী। ডলফিনের সংখ্যা বাড়লে বুঝতে হবে আমরা নদী রক্ষা করছি; আর কমলে বুঝতে হবে আমরা নদীগুলোকে বিপদে ফেলেছি।’

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে শুধু আইনি পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়, বরং প্রয়োজন মানসিক ও আচরণগত পরিবর্তন– উল্লেখ করেন তিনি।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘যদি মানুষ নিরীহ প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর হয়, তা সমাজের মূল্যবোধের অবক্ষয়ের প্রতিফলন। এই নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে সমাজকে দাঁড়াতে হবে।’

উপদেষ্টা জানান, দেশের প্রতিটি জেলায় বনবিভাগকে সহায়তা করার জন্য স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও সুরক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, ‘বন্যপ্রাণী রক্ষায় যারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করছেন, তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মঙ্গল একসূত্রে গাঁথা। আমরা যদি প্রাণীদের বাঁচাই, প্রকৃতি আমাদেরও বাঁচাবে।’

অনুষ্ঠানে প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী, ডব্লিউসিএস বাংলাদেশের ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ড. মো. ইশতিয়াক সোবহা এবং সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে ‘গাঙ্গেয় ডলফিন সংরক্ষণ হ্যান্ডবুক’ এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। পাশাপাশি আয়োজিত প্রদর্শনীতে ডলফিন সংরক্ষণ, নদী পরিবেশ এবং মিঠাপানির জীববৈচিত্র্য বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম প্রদর্শন করা হয়।

 

 

 

 

 

 

পরিবেশ উপদেষ্টার সতর্কতা
নদী দূষণে হুমকিতে ডলফিন, বিপদে মানুষও

নদী, প্রাণী আর মানুষের বেঁচে থাকা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তার মতে, ডলফিন আমাদের নদীর সুস্থতার প্রতীক। যেখানে ডলফিন টিকে থাকে, সেখানে নদীও টিকে থাকে আর নদী টিকে থাকলেই মানুষ বাঁচে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিজ কার্যালয়ে বিদায়ী ভাষণ দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

পরিবেশ উপদেষ্টার সতর্কতা:নদী দূষণে হুমকিতে ডলফিন, বিপদে মানুষও

আপডেট সময় : ০২:২৩:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: নদী, প্রাণী আর মানুষের বেঁচে থাকা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তার মতে, ডলফিন আমাদের নদীর সুস্থতার প্রতীক। যেখানে ডলফিন টিকে থাকে, সেখানে নদীও টিকে থাকে আর নদী টিকে থাকলেই মানুষ বাঁচে।

রোববার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন অধিদপ্তর আয়োজিত আন্তর্জাতিক মিঠাপানির ডলফিন দিবসের আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ডলফিন রক্ষা মানে নদী রক্ষা, আর নদী রক্ষা মানেই মানুষের জীবন রক্ষা। ডলফিন নিয়ে কথা বলা মানে আমাদের বেঁচে থাকার কথাই বলা। কারণ, নদীর পানি যদি দূষিত হয়, তবে তা যেমন ডলফিনের জন্য বিপদ, তেমনি মানুষের জন্যও। নদী পরিষ্কার রাখাই মানুষের ও ডলফিনের জীবনের অন্যতম শর্ত।

নদী দূষণের জন্য মানবিক দায়িত্ববোধের অভাবকেই দায়ী করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘আমরা নিজেরাই আমাদের নদীগুলোকে দূষিত করছি অথচ নিজেদের সভ্য জাতি দাবি করছি– এটা পরস্পরবিরোধী। ডলফিনের সংখ্যা বাড়লে বুঝতে হবে আমরা নদী রক্ষা করছি; আর কমলে বুঝতে হবে আমরা নদীগুলোকে বিপদে ফেলেছি।’

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে শুধু আইনি পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়, বরং প্রয়োজন মানসিক ও আচরণগত পরিবর্তন– উল্লেখ করেন তিনি।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘যদি মানুষ নিরীহ প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর হয়, তা সমাজের মূল্যবোধের অবক্ষয়ের প্রতিফলন। এই নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে সমাজকে দাঁড়াতে হবে।’

উপদেষ্টা জানান, দেশের প্রতিটি জেলায় বনবিভাগকে সহায়তা করার জন্য স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও সুরক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, ‘বন্যপ্রাণী রক্ষায় যারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করছেন, তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মঙ্গল একসূত্রে গাঁথা। আমরা যদি প্রাণীদের বাঁচাই, প্রকৃতি আমাদেরও বাঁচাবে।’

অনুষ্ঠানে প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী, ডব্লিউসিএস বাংলাদেশের ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ড. মো. ইশতিয়াক সোবহা এবং সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে ‘গাঙ্গেয় ডলফিন সংরক্ষণ হ্যান্ডবুক’ এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। পাশাপাশি আয়োজিত প্রদর্শনীতে ডলফিন সংরক্ষণ, নদী পরিবেশ এবং মিঠাপানির জীববৈচিত্র্য বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম প্রদর্শন করা হয়।

 

 

 

 

 

 

পরিবেশ উপদেষ্টার সতর্কতা
নদী দূষণে হুমকিতে ডলফিন, বিপদে মানুষও

নদী, প্রাণী আর মানুষের বেঁচে থাকা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তার মতে, ডলফিন আমাদের নদীর সুস্থতার প্রতীক। যেখানে ডলফিন টিকে থাকে, সেখানে নদীও টিকে থাকে আর নদী টিকে থাকলেই মানুষ বাঁচে।