মোঃ সবুজ হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার: কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ঝলম ইউনিয়নের শোলাপুকুরিয়া গ্রামে অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে সামাজিক সংগঠন ‘গ্রামবাংলা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন’-এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর পরবর্তী পুনর্মিলনী ও ঈদ আনন্দ উৎসব উদযাপিত হয়েছে।
দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সংগঠনের সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়।
সকালে সংগঠনের কার্যালয় প্রাঙ্গণে কেক কাটার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। এরপরই শুরু হয় গ্রামীণ ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় সাজানো বৈচিত্র্যময় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। এই আয়োজনে আধুনিকতার চেয়ে গ্রামীণ কৃষ্টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, যা দর্শকদের বিশেষভাবে বিমোহিত করে।
প্রতিযোগিতার বিশেষ আকর্ষণ ছিল ৫৫ ঊর্ধ্ব মুরুব্বিদের জন্য ‘পাতিল ভাঙা’ ও তরুণ-যুবক-প্রবীণ বয়সীদের ‘পুকুরে হাঁস ধরা’। তরুণদের জন্য আয়োজিত হয় ‘১০ বার ঘুরে ফুটবল কিক করে গোল দেওয়া’, যা বেশ হাস্যরসের সৃষ্টি করে। এছাড়া মহিলাদের জন্য ছিল ‘বালিশ বদল’ খেলা এবং শিশুদের ‘যেমন খুশি তেমন সাজ’ প্রতিযোগিতা খুদে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতাকে ফুটিয়ে তোলে।
বিকেলে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এক বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিদের সম্মান জানাতে ৭০ ঊর্ধ্ব মুরুব্বিদের হাতে ‘বিশেষ সম্মাননা স্মারক’ তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিক্ষার প্রসারে উৎসাহিত করতে এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং ৮ম শ্রেণিতে সরকারি বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
অতিথিবৃন্দ ও আয়োজক কমিটি সংগঠনের সভাপতি ও বন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ হানিফ মিয়া-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অবসরপ্রাপ্ত এসপি সিরাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন- গ্রামবাংলা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ও আমেরিকান প্রবাসী মাস্টার মোঃ বশির উল্যাহ। সাংগঠনিক সম্পাদক ও আর এম হেল্থকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের কর্মকর্তা, মোঃ আবুল কালাম আজাদ। আইন বিষয়ক সম্পাদক ও বান্দরবান ডিএসবি’র এসআই আবু ফয়সাল।
পুরো অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে নিরলসভাবে কাজ করেন সংগঠনের ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ দিদার হোসেন, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক মাহমুদুল হাসান সায়েম এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রবিন। অনুষ্ঠানে সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে আয়োজনের সার্থকতা বৃদ্ধি করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ ভাগে উপস্থিত সবার মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয় ২০টি আকর্ষণীয় পুরস্কার সম্বলিত একটি উন্মুক্ত র্যাফেল ড্র। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘গ্রামবাংলা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন’ কেবল উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এলাকার অসহায় বিধবা নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহযোগিতা এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে সংগঠনটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। আগামীতেও গ্রামের মানুষের মধ্যে শান্তি, ঐক্য এবং শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।
প্রতিনিধির নাম 


















