ঢাকা ১০:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সচিবের ভাই পরিচয়ে রামগড় ইউএনও,র কাছে এক লাখ টাকা দাবি, আটক প্রতারক এসবিএসি ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট ইনভেস্টিট ব্রোকারেজ, ফান্ড ডিল স্বাক্ষর করেছে চাঁদাবাজির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ মহানগর কৃষকদলের সাধারন সম্পাদক ফয়সাল আট,পুলিশ সুপারকে সাধুবাদ জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা টেকনাফে পৃথক অভিযানে রোহিঙ্গা গ্রেপ্তার, একজনের ৬ মাসের কারাদণ্ড কমলগঞ্জের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ৫ দিন আটকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ: গ্রেপ্তার ৩ – পলাতক ১ পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি বসানো নিয়ে বিরোধ রাজবাড়ীতে বাড়ীর প্রবেশপথে বাঁশের বেড়া হাটুপানি দিয়ে ৪টি পরিবারের চলাচল বেনাপোল কাস্টস, বন্দর ও ব্যবসায়ীরা আমদানি-রপ্তানি নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর মতবিনিময় ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী বস্ত্রখাতের সমস্যা সমাধানে বাস্তবভিত্তিক সমন্বিত নীতি সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতির জনগণের শক্তির ওপর নির্ভর করেই বিএনপি রাজনীতি করে: রুহুল কবির রিজভী

সন্ত্রাসমুক্ত হবে জঙ্গল সলিমপুর, এখনই কাউকে উচ্ছেদ করা হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬
  • ২৩২ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের ফসল হচ্ছে এই জঙ্গল সলিমপুর। এই এলাকা থেকে কোনো সাধারণ অধিবাসীকে আমরা উচ্ছেদ করব না।

কিন্তু এখানে কোনো সন্ত্রাসী গ্রুপের অস্তিত্ব থাকবে না। এখান থেকে আমরা সন্ত্রাসীদের উচ্ছেদ করব। বর্তমান সরকার জনগণের সরকার। জনগণকে একটি কমফোর্ট লাইফ দেওয়ার জন্য যা যা করা দরকার, আমরা তা-ই করব।

রোববার ৩১মে দুপুরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর ধরে আলীনগর-জঙ্গল সলিমপুর এলাকা সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত ছিল। আমরা পরিকল্পিত ও যৌথ অভিযানের মাধ্যমে এই এলাকাকে পুরোপুরি সন্ত্রাসমুক্ত করব। পাশাপাশি বেতুয়া ও চা-বাগান এলাকায়ও অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসীদের উচ্ছেদ করা হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই চারটি অপরাধকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করা হবে এবং এগুলো নির্মূলের চেষ্টা চালানো হবে।

জুয়া নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইনের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৮৬৭ সালের জুয়া আইনের মাধ্যমে আধুনিক অনলাইন ও অফলাইন জুয়া কিংবা বেটিং কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী সংসদ অধিবেশনেই এ সংক্রান্ত আইনি সংস্কার আনার চেষ্টা করা হবে।

মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের বিষয়েও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকসংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্তমানে হাজার হাজার মাদক মামলা বছরের পর বছর ঝুলে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন আইনি কাঠামোর মাধ্যমে এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।

কিশোর গ্যাংয়ের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদ্যমান আইনের কিছু সুবিধা ও ফাঁকফোকর ব্যবহার করে অনেক কিশোর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে এবং পরবর্তীতে তারা সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীতে পরিণত হচ্ছে। এ কারণে কিশোর অপরাধ মোকাবিলাতেও আইনি সংস্কার আনার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আইনি সংস্কার, পরিকল্পিত অভিযান এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশকে মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া ও চাঁদাবাজিমুক্ত করার চেষ্টা করব। এর মাধ্যমেই যুবসমাজকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।’

পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবের ভাই পরিচয়ে রামগড় ইউএনও,র কাছে এক লাখ টাকা দাবি, আটক প্রতারক

সন্ত্রাসমুক্ত হবে জঙ্গল সলিমপুর, এখনই কাউকে উচ্ছেদ করা হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১০:১৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের ফসল হচ্ছে এই জঙ্গল সলিমপুর। এই এলাকা থেকে কোনো সাধারণ অধিবাসীকে আমরা উচ্ছেদ করব না।

কিন্তু এখানে কোনো সন্ত্রাসী গ্রুপের অস্তিত্ব থাকবে না। এখান থেকে আমরা সন্ত্রাসীদের উচ্ছেদ করব। বর্তমান সরকার জনগণের সরকার। জনগণকে একটি কমফোর্ট লাইফ দেওয়ার জন্য যা যা করা দরকার, আমরা তা-ই করব।

রোববার ৩১মে দুপুরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর ধরে আলীনগর-জঙ্গল সলিমপুর এলাকা সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত ছিল। আমরা পরিকল্পিত ও যৌথ অভিযানের মাধ্যমে এই এলাকাকে পুরোপুরি সন্ত্রাসমুক্ত করব। পাশাপাশি বেতুয়া ও চা-বাগান এলাকায়ও অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসীদের উচ্ছেদ করা হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই চারটি অপরাধকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করা হবে এবং এগুলো নির্মূলের চেষ্টা চালানো হবে।

জুয়া নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইনের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৮৬৭ সালের জুয়া আইনের মাধ্যমে আধুনিক অনলাইন ও অফলাইন জুয়া কিংবা বেটিং কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী সংসদ অধিবেশনেই এ সংক্রান্ত আইনি সংস্কার আনার চেষ্টা করা হবে।

মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের বিষয়েও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকসংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্তমানে হাজার হাজার মাদক মামলা বছরের পর বছর ঝুলে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন আইনি কাঠামোর মাধ্যমে এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।

কিশোর গ্যাংয়ের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদ্যমান আইনের কিছু সুবিধা ও ফাঁকফোকর ব্যবহার করে অনেক কিশোর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে এবং পরবর্তীতে তারা সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীতে পরিণত হচ্ছে। এ কারণে কিশোর অপরাধ মোকাবিলাতেও আইনি সংস্কার আনার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আইনি সংস্কার, পরিকল্পিত অভিযান এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশকে মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া ও চাঁদাবাজিমুক্ত করার চেষ্টা করব। এর মাধ্যমেই যুবসমাজকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।’

পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা।