ঢাকা ১২:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিদ্ধিরগঞ্জে নাসিকের ওয়ার্ড সচিবের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ চা বিক্রেতার মেয়ের উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব নিলেন মানবিক ডিসি জাহিদ বালিয়াকান্দিতে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে যুবদলের পথসভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ, অভিযুক্ত রামগড় থানার এসআই বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা স্পিকারের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ মেধাবী প্রতিবন্ধী রাহাত কে মানবিক সহায়তা দিয়ে পাশে দাড়ালেন ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন পেকুয়ায় ভুয়া ডিজিএফআই পরিচয়ে নারী আটক “জব ফেয়ার ২০২৬”: উদ্বোধনে কর্মসংস্থান একটি জাতির অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি: ডিসি রায়হান কবিরের মৌলভীবাজারে রাস্তা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা, নারীসহ আহত ৩; থানায় অভিযোগ

সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ, অভিযুক্ত রামগড় থানার এসআই

সাইফুল ইসলাম, রামগড়- প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে রামগড় থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আনসার আলীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন উপজেলার ফেনীরকুল স্কেল সংলগ্ন এলাকায় মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর ও ১৯ বছর বয়সী এক যুবককে আটক করতে যান দুই পুলিশ সদস্য। তারা সিভিল পোশাকে এসে ওই দুইজনকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিক সাহেদ রানা পুলিশ সদস্যদের পরিচয় জানতে চাইলে এসআই আনসার আলী তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেন। সাংবাদিক সাহেদ রানা জানান, সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর এসআই আনসার আলী তাকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তি করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকিমূলক বক্তব্য দেন। এমনকি বেশি প্রশ্ন করলে তাকে আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে থানায় নিয়ে যাওয়ারও হুমকি দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সাহেদ রানা বলেন, “আমি কেবল দায়িত্বশীল সাংবাদিক হিসেবে ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়েছে এবং জনসম্মুখে আমাকে অপমান করা হয়েছে।”

ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাংবাদিক নেতারা বলেন, সংবাদ সংগ্রহ ও তথ্য যাচাই করা গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব।

এ দায়িত্ব পালনের সময় কোনো সাংবাদিককে বাধা দেওয়া বা হেনস্তা করা স্বাধীন সাংবাদিকতা চর্চার পরিপন্থী। এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই মো. আনসার আলীর বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাজির আলমের কাছে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি ভুক্তভোগী সাংবাদিকের বক্তব্য না শুনেই এসআইয়ের পক্ষে অবস্থান নেন বলে অভিযোগ করেছেন রামগড় প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ।

রামগড় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন বলেন সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। তাই সংবাদ সংগ্রহে বাধা কিংবা সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য উদ্বেগের বিষয়।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিদ্ধিরগঞ্জে নাসিকের ওয়ার্ড সচিবের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ, অভিযুক্ত রামগড় থানার এসআই

আপডেট সময় : ১১:১৭:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সাইফুল ইসলাম, রামগড়- প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে রামগড় থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আনসার আলীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন উপজেলার ফেনীরকুল স্কেল সংলগ্ন এলাকায় মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর ও ১৯ বছর বয়সী এক যুবককে আটক করতে যান দুই পুলিশ সদস্য। তারা সিভিল পোশাকে এসে ওই দুইজনকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিক সাহেদ রানা পুলিশ সদস্যদের পরিচয় জানতে চাইলে এসআই আনসার আলী তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেন। সাংবাদিক সাহেদ রানা জানান, সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর এসআই আনসার আলী তাকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তি করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকিমূলক বক্তব্য দেন। এমনকি বেশি প্রশ্ন করলে তাকে আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে থানায় নিয়ে যাওয়ারও হুমকি দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সাহেদ রানা বলেন, “আমি কেবল দায়িত্বশীল সাংবাদিক হিসেবে ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়েছে এবং জনসম্মুখে আমাকে অপমান করা হয়েছে।”

ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাংবাদিক নেতারা বলেন, সংবাদ সংগ্রহ ও তথ্য যাচাই করা গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব।

এ দায়িত্ব পালনের সময় কোনো সাংবাদিককে বাধা দেওয়া বা হেনস্তা করা স্বাধীন সাংবাদিকতা চর্চার পরিপন্থী। এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই মো. আনসার আলীর বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাজির আলমের কাছে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি ভুক্তভোগী সাংবাদিকের বক্তব্য না শুনেই এসআইয়ের পক্ষে অবস্থান নেন বলে অভিযোগ করেছেন রামগড় প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ।

রামগড় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন বলেন সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। তাই সংবাদ সংগ্রহে বাধা কিংবা সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য উদ্বেগের বিষয়।