ঢাকা ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু পণ্যবাহী গাড়ি থেকে তেল, চিনি ও রড ডাকাতি বন্ধের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রান্সপোর্ট মালিকদের মানববন্ধন বানভাসী দক্ষিণ চট্টগ্রামের পাশে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো গাড়িতে ইয়াবা পাচার, রামুতে আটক ৩ শার্শায় ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার-১ ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল ব্যবসার যশোরাঞ্চলে বিশাল বিস্তৃতি অপরাধমুক্ত, শান্তিপূর্ণ নারায়ণগঞ্জ গড়াই আমাদের অঙ্গীকার: পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সী পটিয়ার ভাটিখাইনে কালি বাড়ি সড়কের বেহাল দশা চলাচলের জন দুর্ভোগ চরমে সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর ‎বরুড়ায় মানবসেবা সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে দুই শতাধিক বৃক্ষ বিতরণ পটিয়ার কেলিশহরে রথযাত্রা সদ্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম উদ্দিনের খিচুড়ি বিতরণ

জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী দূতাবাস কমপ্লেক্স নির্মাণে চুক্তি স্বাক্ষর

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫২:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ৪৬ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জেরুসালেমে নতুন স্থায়ী মার্কিন দূতাবাস কমপ্লেক্স নির্মাণে বুধবার (১ জুলাই) ইসরাইলের সাথে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরাইল বলেছে, এই পদক্ষেপ দুই দেশের ‘অটুট জোটের’ প্রতিফলন।

নিজের প্রথম মেয়াদে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। একইসাথে তেল আবিব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশন সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেন।

জেরুজালেম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

তবে একটি স্থায়ী স্থান নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত দূতাবাসের কার্যক্রম জেরুজালেমের কয়েকটি পৃথক স্থানে পরিচালিত হয়।

ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেন, ওয়াশিংটন ‘জেরুজালেমকে ইহুদিদের শাশ্বত, আদি ও সর্বকালীন রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জেরুজালেমের মাটিতে আমাদের আমেরিকান পতাকা স্থায়ীভাবে উড়াব। এখানে একটি নতুন স্থায়ী দূতাবাস কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। এটি ইসরাইলে আমাদের সব কূটনৈতিক কার্যক্রমের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।’

হাকাবি আরও বলেন, ‘আমি বলব, ঈশ্বর ৩ হাজার ৮০০ বছর আগেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বহু আগেই বিষয়টি নির্ধারিত হয়েছিল। আমরা শুধু সেটি স্বীকার করতে এতদিন সময় নিয়েছি।’

জেরুজালেমের দক্ষিণাঞ্চলের অ্যালেনবি কমপ্লেক্সে নতুন দূতাবাসটি নির্মাণ করা হবে।

ট্রাম্পের ২০১৭ সালের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের নীতির ব্যতিক্রম ছিল। সেই নীতি অনুযায়ী, জেরুজালেমের চূড়ান্ত মর্যাদা ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ হওয়ার কথা ছিল।
ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সবচেয়ে বিতর্কিত শহরগুলোর একটি দীর্ঘদিন ধরেই জেরুজালেম।

১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময় পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর ইসরাইল পুরো শহরকে তার অবিভক্ত রাজধানী ঘোষণা করে। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশই এ দাবির স্বীকৃতি দেয়নি।

ফিলিস্তিনিরা ভবিষ্যৎ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে পূর্ব জেরুজালেমকে দাবি করে আসছে।

এই পরস্পরবিরোধী দাবির কারণে অধিকাংশ দেশ তাদের দূতাবাস তেল আবিবে স্থাপন করেছে। তাদের অবস্থান, আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব অনুযায়ী শান্তি আলোচনার মাধ্যমেই জেরুজালেমের মর্যাদা নির্ধারণ হওয়া উচিত।

ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার বলেন, জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী দূতাবাস নির্মাণের এই চুক্তি দুই দেশের ‘অটুট জোটকে’ আরও দৃঢ় করেছে।

স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের যে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ স্থায়ী দূতাবাস কমপ্লেক্স নির্মাণ শুরুর চুক্তির মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত আরও গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী রূপ পেল।’

তবে ইসরাইলের অধিকারবিষয়ক সংগঠন আদালাহ নির্ধারিত স্থানে দূতাবাস নির্মাণের সমালোচনা করেছে। তাদের ভাষ্য, এটি ‘গভীর একটি ঐতিহাসিক অবিচারকে স্থায়ী রূপ দিচ্ছে।’

সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে, দূতাবাসের জন্য নির্ধারিত স্থানটি ‘১৯৫০ সালের বৈষম্যমূলক অনুপস্থিত সম্পত্তি আইনের আওতায় ফিলিস্তিনি ভূমির মালিকদের কাছ থেকে ইসরাইল যে জমি অধিগ্রহণ করেছিল, তার ওপর অবস্থিত।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মূল ফিলিস্তিনি মালিকদের উত্তরাধিকারীদের পক্ষে তারা এর আগে আপত্তি জানিয়েছিল। ওই উত্তরাধিকারীদের মধ্যে কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডানের নাগরিক।

সংগঠনটির দাবি, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকার সরাসরি ইসরাইলের অবৈধ উচ্ছেদ ও ভূমি দখলের প্রক্রিয়াকে সমর্থন করছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে মূল ফিলিস্তিনি মালিক ও তাদের উত্তরাধিকারীদের মৌলিক সম্পত্তির অধিকার ক্ষুণ্ন করছে।’

এই দূতাবাস চুক্তি এমন এক সময়ে হলো, যখন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একসঙ্গে লড়াই করেছে। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটানোর প্রচেষ্টা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে মতপার্থক্যের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু

জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী দূতাবাস কমপ্লেক্স নির্মাণে চুক্তি স্বাক্ষর

আপডেট সময় : ১০:৫২:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জেরুসালেমে নতুন স্থায়ী মার্কিন দূতাবাস কমপ্লেক্স নির্মাণে বুধবার (১ জুলাই) ইসরাইলের সাথে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরাইল বলেছে, এই পদক্ষেপ দুই দেশের ‘অটুট জোটের’ প্রতিফলন।

নিজের প্রথম মেয়াদে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। একইসাথে তেল আবিব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশন সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেন।

জেরুজালেম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

তবে একটি স্থায়ী স্থান নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত দূতাবাসের কার্যক্রম জেরুজালেমের কয়েকটি পৃথক স্থানে পরিচালিত হয়।

ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেন, ওয়াশিংটন ‘জেরুজালেমকে ইহুদিদের শাশ্বত, আদি ও সর্বকালীন রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জেরুজালেমের মাটিতে আমাদের আমেরিকান পতাকা স্থায়ীভাবে উড়াব। এখানে একটি নতুন স্থায়ী দূতাবাস কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। এটি ইসরাইলে আমাদের সব কূটনৈতিক কার্যক্রমের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।’

হাকাবি আরও বলেন, ‘আমি বলব, ঈশ্বর ৩ হাজার ৮০০ বছর আগেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বহু আগেই বিষয়টি নির্ধারিত হয়েছিল। আমরা শুধু সেটি স্বীকার করতে এতদিন সময় নিয়েছি।’

জেরুজালেমের দক্ষিণাঞ্চলের অ্যালেনবি কমপ্লেক্সে নতুন দূতাবাসটি নির্মাণ করা হবে।

ট্রাম্পের ২০১৭ সালের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের নীতির ব্যতিক্রম ছিল। সেই নীতি অনুযায়ী, জেরুজালেমের চূড়ান্ত মর্যাদা ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ হওয়ার কথা ছিল।
ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সবচেয়ে বিতর্কিত শহরগুলোর একটি দীর্ঘদিন ধরেই জেরুজালেম।

১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময় পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর ইসরাইল পুরো শহরকে তার অবিভক্ত রাজধানী ঘোষণা করে। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশই এ দাবির স্বীকৃতি দেয়নি।

ফিলিস্তিনিরা ভবিষ্যৎ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে পূর্ব জেরুজালেমকে দাবি করে আসছে।

এই পরস্পরবিরোধী দাবির কারণে অধিকাংশ দেশ তাদের দূতাবাস তেল আবিবে স্থাপন করেছে। তাদের অবস্থান, আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব অনুযায়ী শান্তি আলোচনার মাধ্যমেই জেরুজালেমের মর্যাদা নির্ধারণ হওয়া উচিত।

ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার বলেন, জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী দূতাবাস নির্মাণের এই চুক্তি দুই দেশের ‘অটুট জোটকে’ আরও দৃঢ় করেছে।

স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের যে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ স্থায়ী দূতাবাস কমপ্লেক্স নির্মাণ শুরুর চুক্তির মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত আরও গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী রূপ পেল।’

তবে ইসরাইলের অধিকারবিষয়ক সংগঠন আদালাহ নির্ধারিত স্থানে দূতাবাস নির্মাণের সমালোচনা করেছে। তাদের ভাষ্য, এটি ‘গভীর একটি ঐতিহাসিক অবিচারকে স্থায়ী রূপ দিচ্ছে।’

সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে, দূতাবাসের জন্য নির্ধারিত স্থানটি ‘১৯৫০ সালের বৈষম্যমূলক অনুপস্থিত সম্পত্তি আইনের আওতায় ফিলিস্তিনি ভূমির মালিকদের কাছ থেকে ইসরাইল যে জমি অধিগ্রহণ করেছিল, তার ওপর অবস্থিত।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মূল ফিলিস্তিনি মালিকদের উত্তরাধিকারীদের পক্ষে তারা এর আগে আপত্তি জানিয়েছিল। ওই উত্তরাধিকারীদের মধ্যে কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডানের নাগরিক।

সংগঠনটির দাবি, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকার সরাসরি ইসরাইলের অবৈধ উচ্ছেদ ও ভূমি দখলের প্রক্রিয়াকে সমর্থন করছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে মূল ফিলিস্তিনি মালিক ও তাদের উত্তরাধিকারীদের মৌলিক সম্পত্তির অধিকার ক্ষুণ্ন করছে।’

এই দূতাবাস চুক্তি এমন এক সময়ে হলো, যখন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একসঙ্গে লড়াই করেছে। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটানোর প্রচেষ্টা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে মতপার্থক্যের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।