ঢাকা ০৪:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি হামলার পর রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ পেলেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী যশোরের শার্শা নাভারণে গাছ থেকে পড়ে লন্ড্রি ব্যবসায়ীর মৃত্যু যশোর যৌনপল্লীতে নারীকে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি যশোরে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান সোহেল এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন মীর কাদিম পৌরসভা কমিটি পটিয়ায় মাইজভান্ডারি গাউসিয়া হক কমিটির সাংগঠনিক সংলাপে বক্তারা, মানবিক বিশ্ব গড়ে তুলার আহবান বাঁশখালীতে বন্যায় ঘর হারানো ১০০ পরিবারকে ঘর তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী:ডিসি জাহিদ সাহিত্য জোট নারায়ণগঞ্জের কবিতা পাঠ ও সাহিত্য আলোচনায় মুখরিত অনুষ্ঠান যশোর কেশবপুর উপজেলায়  খাদ্য সংকটে কালোমুখ হনু

যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি হামলার পর রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ পেলেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০৩:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি ফালিহ আল-জাইদি সৌদি আরব সফরের জন্য রিয়াদের কাছ থেকে নতুন করে আমন্ত্রণ পেয়েছেন। শুক্রবার সৌদি আরবের গোয়েন্দা প্রধান খালিদ বিন আলি আল হুমাইদানের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই আমন্ত্রণ পান। বৈঠকে উভয় পক্ষ আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করে।

জুলাইয়ের শেষ দিকে আল-জায়েদির রিয়াদ সফরের কথা ছিল। তবে, ২৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি হামলায় পাঁচ ইরানিসহ ২০ জন যোদ্ধা নিহত হওয়ার পর সেই সফর বাতিল করা হয়।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া অফিস জানায়, আল-জায়েদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন সৌদি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান খালিদ বিন আলী আল-হুমাইদান। তিনি ‘সৌদি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সৌদি রাজধানী রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করে একটি বার্তা’ পৌঁছে দেন।

সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের বাহিনী তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে আসা কয়েকটি ড্রোন প্রতিহত করেছে। এসব হামলার জন্য ইরাকে সক্রিয় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছিল রিয়াদ। এর পরই যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব ইরাকে হামলা চালায়।

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান যুদ্ধের সময় ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাকে শত শতবার মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালানোর পর এসব গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার জন্য বাগদাদের ওপর ওয়াশিংটনের চাপও বাড়ছিল।

চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ক্ষমতায় আসা আল-জায়েদি ওই গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সমর্পণে বাধ্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে, প্রভাবশালী কয়েকটি গোষ্ঠীর কাছ থেকে তিনি তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েছেন।

ইরাক সরকার দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, প্রতিবেশী কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

বৃহস্পতিবার ইরাকি কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশের সীমান্ত ও বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

দুটি নিরাপত্তা সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি হামলার জবাবে সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলা ঠেকাতেই এসব নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ইরান-সমর্থিত কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর জোট ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল।

তবে শুক্রবার জোটটি জানায়, ‘আজ যে জবাব দেওয়ার কথা ছিল, তা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

ইরানঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা ও বদর সংগঠনের প্রধান হাদি আল-আমেরির আহ্বানের পর তারা এ সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যান্য রাজনৈতিক নেতার ‘সম্মানজনক অবস্থানের’ কথাও তারা উল্লেখ করেছে।

ইরানের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা আল-আমেরি ভিডিও বার্তায় ওই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে হামলার জবাব না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

ওয়াশিংটন যেসব গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে, ইরাক সরকার তাদের আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিরস্ত্র হওয়ার সময়সীমা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—দুই দেশই ইরাকের প্রধান মিত্র। তবে দীর্ঘদিনের বৈরিতার কারণে দেশটি কার্যত তাদের পরোক্ষ সংঘাতের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। ফলে ধারাবাহিকভাবে ইরাকের সরকারগুলো দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির মধ্যে অত্যন্ত কঠিন ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করে আসছে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি হামলার পর রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ পেলেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি হামলার পর রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ পেলেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৩:০৩:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি ফালিহ আল-জাইদি সৌদি আরব সফরের জন্য রিয়াদের কাছ থেকে নতুন করে আমন্ত্রণ পেয়েছেন। শুক্রবার সৌদি আরবের গোয়েন্দা প্রধান খালিদ বিন আলি আল হুমাইদানের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই আমন্ত্রণ পান। বৈঠকে উভয় পক্ষ আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করে।

জুলাইয়ের শেষ দিকে আল-জায়েদির রিয়াদ সফরের কথা ছিল। তবে, ২৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি হামলায় পাঁচ ইরানিসহ ২০ জন যোদ্ধা নিহত হওয়ার পর সেই সফর বাতিল করা হয়।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া অফিস জানায়, আল-জায়েদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন সৌদি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান খালিদ বিন আলী আল-হুমাইদান। তিনি ‘সৌদি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সৌদি রাজধানী রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করে একটি বার্তা’ পৌঁছে দেন।

সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের বাহিনী তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে আসা কয়েকটি ড্রোন প্রতিহত করেছে। এসব হামলার জন্য ইরাকে সক্রিয় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছিল রিয়াদ। এর পরই যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব ইরাকে হামলা চালায়।

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান যুদ্ধের সময় ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাকে শত শতবার মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালানোর পর এসব গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার জন্য বাগদাদের ওপর ওয়াশিংটনের চাপও বাড়ছিল।

চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ক্ষমতায় আসা আল-জায়েদি ওই গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সমর্পণে বাধ্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে, প্রভাবশালী কয়েকটি গোষ্ঠীর কাছ থেকে তিনি তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েছেন।

ইরাক সরকার দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, প্রতিবেশী কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

বৃহস্পতিবার ইরাকি কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশের সীমান্ত ও বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

দুটি নিরাপত্তা সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি হামলার জবাবে সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলা ঠেকাতেই এসব নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ইরান-সমর্থিত কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর জোট ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল।

তবে শুক্রবার জোটটি জানায়, ‘আজ যে জবাব দেওয়ার কথা ছিল, তা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

ইরানঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা ও বদর সংগঠনের প্রধান হাদি আল-আমেরির আহ্বানের পর তারা এ সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যান্য রাজনৈতিক নেতার ‘সম্মানজনক অবস্থানের’ কথাও তারা উল্লেখ করেছে।

ইরানের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা আল-আমেরি ভিডিও বার্তায় ওই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে হামলার জবাব না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

ওয়াশিংটন যেসব গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে, ইরাক সরকার তাদের আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিরস্ত্র হওয়ার সময়সীমা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—দুই দেশই ইরাকের প্রধান মিত্র। তবে দীর্ঘদিনের বৈরিতার কারণে দেশটি কার্যত তাদের পরোক্ষ সংঘাতের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। ফলে ধারাবাহিকভাবে ইরাকের সরকারগুলো দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির মধ্যে অত্যন্ত কঠিন ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করে আসছে।