ঢাকা ০৪:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
১১ দিনের ব্যবধানে বাবা-ছেলের মৃত্যুর কারণ নিয়ে প্রশ্ন : ঐতিহ্যবাহী বট পরিবারে দুই মৃত্যুর নেপথ্যে কী? বরুড়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বে রদবদল কলকাতা- বেনাপোল -খুলনা বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেনটি দুই বছর পর চালু হচ্ছে টেকনাফে গাড়ি ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ, ইয়াবা বহনে চাপ দেওয়ারও দাবি উখিয়ায় বিজিবির অভিযানে এক লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার তল্লাশিতে মিললো না শরীরে থাকা সোনার পেস্ট, এক্সরেতে ধরা আত্মকর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা: নারায়ণগঞ্জ সদরে মাশরুম চাষ প্রশিক্ষণ শুরু রাজবাড়ীতে জেলা পরিষদ হিসাব রক্ষকের মার্কেট নির্মাণের সুবিধার্থে সরকারী ল্যাট্রিন ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য রুখতে নারায়ণগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের মোটরসাইকেল টহল সিদ্ধিরগঞ্জে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার রোষানলে সাধারণ মানুষ: ভাঙচুর ও সাংবাদিকের সাথে অসদাচরণের অভিযোগ

টেকনাফে গাড়ি ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ, ইয়াবা বহনে চাপ দেওয়ারও দাবি

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৭:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

ফরহাদ রহমান,স্টাফ রিপোর্টার কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যং এলাকায় একটি মিনি ট্রাক আটকে রেখে চাঁদা দাবি এবং গাড়িতে ইয়াবা বহনে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দেলোয়ার ও ইসমাইলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গাড়ির মালিক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন টেকনাফ মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে জয়নাল আবেদীন বলেন, তার মালিকানাধীন ঢাকা মেট্রো-না-১২-৯০২৭ নম্বরের মিনি ট্রাকটির কাগজপত্র দেখানোর পরও দেলোয়ার গাড়িটি ফেরত দিচ্ছেন না। গাড়িটির বিভিন্ন খরচ ও কিস্তি বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হওয়ায় গাড়ি আটকে থাকায় তিনি আর্থিকভাবে বিপাকে পড়েছেন।

জয়নালের অভিযোগ, গাড়িটি ফেরত চাইতে গেলে তাকে গালিগালাজ করা হয়। এলাকায় গাড়ি ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করতে হলে তাদের কথামতো চলতে হবে এবং মাসিক টাকা দিতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। অন্যথায় ইয়াবা বহন করতে হবে এবং প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করলে প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

গাড়ির চালক সিরাজের অভিযোগ, তারা কুতুবদিয়াপাড়া এলাকায় মালামালের ভাড়া নিতে গেলে তাদের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে গাড়ি রাস্তায় চলতে দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়। পাশাপাশি ইয়াবা বহনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে তার দাবি।

গাড়ির হেলপার মোহাম্মদ মামুন বলেন, তার কাছে মাসে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। টাকা না দিলে গাড়িতে ইয়াবা বহন করতে হবে বলেও চাপ দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশাসনের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানান।

মামুন বলেন, তিনি দরিদ্র পরিবারের সন্তান। গাড়িতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করেন। কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা থাকলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিও তিনি সম্মতি জানিয়েছেন।

‘নিউজ-টিউজ করে কিছু করতে পারবে না’

অভিযোগের বিষয়ে দেলোয়ার ও ইসমাইলের বক্তব্য জানতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, “আমাদের হাত অনেক লম্বা। নিউজ-টিউজ করে আমাদের কিছু করতে পারবে না।”

এদিকে, গাড়ির মালিক ও চালক-হেলপার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানানোর পর তাদের পরামর্শে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানান।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. হাফিজ বলেন, অভিযোগটি তাদের হাতে এসেছে। ইয়াবা ব্যবসা কিংবা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত কেউ যতই ক্ষমতাধর হোক, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, হোয়াইক্যং এলাকায় গোপনে কিছু মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজ সক্রিয় রয়েছে। অসহায় গাড়িচালক ও শ্রমিকদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে মাদক পরিবহনে জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। পরে এসব শ্রমিক মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হলেও মূলহোতারা আড়ালে থেকে যায় বলে তাদের দাবি।

তাদের মতে, গাড়িচালক ও হেলপারদের ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত কারবারি ও পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

১১ দিনের ব্যবধানে বাবা-ছেলের মৃত্যুর কারণ নিয়ে প্রশ্ন : ঐতিহ্যবাহী বট পরিবারে দুই মৃত্যুর নেপথ্যে কী?

টেকনাফে গাড়ি ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ, ইয়াবা বহনে চাপ দেওয়ারও দাবি

আপডেট সময় : ০৩:৪৭:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফরহাদ রহমান,স্টাফ রিপোর্টার কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যং এলাকায় একটি মিনি ট্রাক আটকে রেখে চাঁদা দাবি এবং গাড়িতে ইয়াবা বহনে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দেলোয়ার ও ইসমাইলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গাড়ির মালিক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন টেকনাফ মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে জয়নাল আবেদীন বলেন, তার মালিকানাধীন ঢাকা মেট্রো-না-১২-৯০২৭ নম্বরের মিনি ট্রাকটির কাগজপত্র দেখানোর পরও দেলোয়ার গাড়িটি ফেরত দিচ্ছেন না। গাড়িটির বিভিন্ন খরচ ও কিস্তি বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হওয়ায় গাড়ি আটকে থাকায় তিনি আর্থিকভাবে বিপাকে পড়েছেন।

জয়নালের অভিযোগ, গাড়িটি ফেরত চাইতে গেলে তাকে গালিগালাজ করা হয়। এলাকায় গাড়ি ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করতে হলে তাদের কথামতো চলতে হবে এবং মাসিক টাকা দিতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। অন্যথায় ইয়াবা বহন করতে হবে এবং প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করলে প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

গাড়ির চালক সিরাজের অভিযোগ, তারা কুতুবদিয়াপাড়া এলাকায় মালামালের ভাড়া নিতে গেলে তাদের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে গাড়ি রাস্তায় চলতে দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়। পাশাপাশি ইয়াবা বহনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে তার দাবি।

গাড়ির হেলপার মোহাম্মদ মামুন বলেন, তার কাছে মাসে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। টাকা না দিলে গাড়িতে ইয়াবা বহন করতে হবে বলেও চাপ দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশাসনের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানান।

মামুন বলেন, তিনি দরিদ্র পরিবারের সন্তান। গাড়িতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করেন। কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা থাকলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিও তিনি সম্মতি জানিয়েছেন।

‘নিউজ-টিউজ করে কিছু করতে পারবে না’

অভিযোগের বিষয়ে দেলোয়ার ও ইসমাইলের বক্তব্য জানতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, “আমাদের হাত অনেক লম্বা। নিউজ-টিউজ করে আমাদের কিছু করতে পারবে না।”

এদিকে, গাড়ির মালিক ও চালক-হেলপার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানানোর পর তাদের পরামর্শে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানান।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. হাফিজ বলেন, অভিযোগটি তাদের হাতে এসেছে। ইয়াবা ব্যবসা কিংবা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত কেউ যতই ক্ষমতাধর হোক, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, হোয়াইক্যং এলাকায় গোপনে কিছু মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজ সক্রিয় রয়েছে। অসহায় গাড়িচালক ও শ্রমিকদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে মাদক পরিবহনে জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। পরে এসব শ্রমিক মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হলেও মূলহোতারা আড়ালে থেকে যায় বলে তাদের দাবি।

তাদের মতে, গাড়িচালক ও হেলপারদের ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত কারবারি ও পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।